,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অকেজো মিটারে প্রতিমাসে ১০ হাজার ইউনিট বিলের কবলে সাতকানিয়া থানা

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, ৬ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভূতুরে বিলে অতিষ্ট গ্রাহকরা। পিডিবির কতিপয় কর্মচারী এই অনিয়ম ও ভূতুরে বিলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভূতুরে বিলের কবলে পড়েছে সাতকানিয়া থানা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পিডিবি সাতকানিয়া থানায় বিশাল অংকের একটি ভূতুরে বিল প্রদান করে আসছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারী রোববার বিষয়টি সাতকানিয়া থানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে অবহিত করেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র থানা ভবনের আবাসিক ব্যারাক ও অফিস মিলে বিশাল অংকের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। পিডিবি প্রদত্ত বিল অনুসারে থানা কর্র্র্তৃপক্ষ কোন ধরনের উচ্চবাচ্য ছাড়া প্রতিমাসে ১০ হাজার বাণিজ্যিক ইউনিটের ১ লক্ষ ৩ হাজার ১৯৬ টাকা পরিশোধ করে আসছে। গত জানুয়ারী মাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে নবাগত অফিসার ইনচার্জে চোখে এ মনগড়া বিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। থানায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক দু’টি মিটার থাকার কথা থাকলে এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে একটি মাত্র বাণিজ্যিক মিটার, তাও রিডিং বিহীন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতকানিয়া থানার উঠানের এক কোনায় একটি বৈদুতিক খুঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে মিটার যা’ মাটি থেকে প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে। যে উচ্চতায় মিটারটি স্থাপন করা হয়েছে সেখান থেকে মিটার রিডিং নেয়া কখনো সম্ভব নয়। রিডিং সুবিধার্থে মাটি থেকে ৫ ফুটের মধ্যে মিটার স্থাপনের নিয়ম থাকলেও রহস্যজনক কারনে পিডিবি সাতকানিয়া থানার মিটারটি স্থাপন করেছে প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে। যার কারনে মিটার রিডিং দূরের কথা বর্গাকৃতির বক্সের ভেতরে আধো মিটার আছে কিনা নীচে দাঁড়িয়ে তা’ বুঝার কোন উপায় নেই।
এব্যাপারে সাতকানিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, থানায় লাগানো পিডিবির মিটারটি সচল কিনা তা এখন বলা যাবেনা। তবে থানার অফিসার ইনচার্জ বলেছেন পরীক্ষা করে মিটার ঠিক আছে কি সেটি তিনি দেখবেন।

সাতকানিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন বলেন, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ১৫ ফুট উঁচুতে বক্সের ভিতর লাগানো পিডিবি’র অকেজো মিটার। মিটারটি বেশ উঁচুতে লাগানোর কারণে নিচে থেকে কোনো অবস্থাতে দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে মিটার রিডিং না দেখেই প্রতিমাসে পিডিবি’র কর্মকর্তারা নির্ধারীত ১০ হাজার ইউনিট ব্যবহারের বিদ্যুৎ বিল পাঠাচ্ছে থানায়। সেই হিসাবে থানা থেকে এসব বিল পরিশোধও করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আমি থানায় যোগদান করার পর দেখি একটি মিটারেই পুরো থানায় অধিকাংশ আবাসিকসহ বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেয়া হয়েছে। যা অনেকদিন ধরে ১০ হাজার ইউনিটের অনুকুলে বাণিজ্যিক হারে প্রতিমাসে ১ লক্ষ ৩ হাজার ১ শত ৯৬ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

 

মতামত...