,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অতিরিক্ত ও পুনঃ ভর্তি ফি ১০দিনের মধ্যে ফেরৎদিনঃ জেলা প্রশাসক

1001নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,২১, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::  নীতিমালা অমান্য করে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণি থেকে অপর শ্রেণিতে উন্নীত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরণের পুনঃ ভর্তি ফি নেয়া যাবে না। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানও বাদ নেই যেখানে পুনঃ ভর্তি ফি নেয়া হয়নি। এটি কে অন্যায়, অপরাধ বলেই মনে করেন না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ।  একজন শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শ্রেণিতে উঠলে তার আবার ভর্তি কিসের? সে তো এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা ছাত্রী।বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় এ হুঁশিয়ারি দিলেন চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন- এই পুনঃ ভর্তি ফি কেউ নিতে পারবেন না। এ নিয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে ‘বেসরকারি স্কুল ভর্তি নীতিমালা’ জারির পরপরই স্কুলগুলোর সাথে এক দফা বৈঠক করেছিলেন জেলাপ্রশাসক। ওই বৈঠকেও ভর্তি নীতিমালা মেনে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত কোন ধরণের অর্থ আদায় না করতে স্কুলগুলোকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছিলেন জেলাপ্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। কিন্তু বাস্তবে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা আর জেলাপ্রশাসকের হুঁশিয়ারি কোনটাই আমলে নেয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থী ভর্তিতে আদায় করছে ইচ্ছে মতো ফি। নীতিমালায় ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আবার আশ্রয় নিয়েছে নতুন কৌশলের। ভর্তি ফি সীমিত রেখে ইচ্ছে মতো মাসিক বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যা গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ! এ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ আসতেই থাকে জেলাপ্রশাসনে। এ প্রসঙ্গে গতকালের বৈঠকে জেলাপ্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন- ‘স্কুলগুলোর অনিয়মে আমরা অতিষ্ঠ। একের পর এক অভিযোগ আসছে। কোন প্রতিষ্ঠানই বাদ নেই।

এ যেন অনিয়মের প্রতিযোগিতা চলছে। কে কত বেশি অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে পারে। আমি আবারো বলছি- নীতিমালার বাইরে একটি টাকাও বেশি আদায় করতে পারবেন না। যারা ইচ্ছে মতো বেতন-ফি বৃদ্ধি করে ইতিমধ্যে টাকা নিয়ে নিয়েছেন, তা আগামী ১০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফেরত দিতে হবে। অন্যথায়, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও পাঠদান অনুমতি বাতিলের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখবো। আর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমপিও বন্ধ রাখতে লিখবো। আর ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক বেতন-ফি নির্ধারণ করে দশ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,আপনারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন কোন খাতে কত টাকা আদায় করবেন, তা ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করে আমাদের জানাতে হবে। আমরা তা দেখবো। কোনভাবেই ইচ্ছে মতো বেতন-ফি নেয়া যাবে না। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গত বছরের সমপরিমাণ বেতন নিতে হবে। এর বেশি নেয়া যাবে না। এসব সিদ্ধান্ত অমান্য করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দৌলতুজ্জামান খান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় উপ পরিদর্শক আবুল মনছুর ভূঁইয়া, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ নগরীর দেড় শতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) দৌলতুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তিতে বেসরকারি স্কুলের জন্য সরকার একটি নীতিমালা জারি করেছে। সেটা সবাই জানেন, কিন্তু কেউ মানেন না। আমরা জানি- একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনেক শ্রম দিতে হয়। অনেক কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সামান্য লোভের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধ্বংস হোক, তা নিশ্চয়ই আপনারা চাইবেন না। তাই নীতিমালা মেনেই আপনাদের চলতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হোক তা আমরাও চাইনা। কিন্তু আপনাদের প্রতি অনুরোধ- আমাদের বাধ্য করবেন না। কিছু বলার সুযোগ পেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলোর এ ভর্তি নৈরাজ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা।

অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি শিক্ষাবোর্ড বাতিল করতে পারে জানিয়ে বোর্ডের বিদ্যালয় উপ-পরিদর্শক আবুল মনছুর ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করতে কিন্তু বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতি শিক্ষাবোর্ডই দিয়ে থাকে। আবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পাঠদান অনুমতি এবং স্বীকৃতিও বাতিল করতে পারে শিক্ষাবোর্ড। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের অনিয়ম থেকে সরে আসার আহবান জানান বোর্ডের এই কর্মকর্তা। সভায় সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলো ছাড়াও নগরীর আরো ১৫টি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বেতন-ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার কথা বৈঠকে জানানো হয়।

 

মতামত...