,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অধ্যাপক করিম ব্লগে লিখতেন না নাস্তিকও ছিলেন নাঃ শতভি

aনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা, প্রযুক্তিগত তেমন জ্ঞানই ছিল না বাবার। ফেসবুকও চিনতেন না। অনেক আগে এক শিক্ষার্থী তাকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিল শুধু। তবে সেটা নামে মাত্র। কোনোদিন ঢুকতেনও না।

বাবা প্রসঙ্গে এসব কথা বলতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর বড় মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি।

অধ্যাপক রেজাউল করিম ব্লগে লেখালেখি করতেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শতভি খানিকটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘বাবা তো ফেসবুকই চালাতেন না। সেখানে ব্লগে লেখালেখি করার তো প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি তিনি নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসীও ছিলেন না। এসব কিছুই গুজব।’

শতভি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। বাবা ছিলেন তারই বিভাগের অধ্যাপক। অত্যন্ত সহজ সরল ও সংস্কৃতিমনা মানুষটি গত শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হলেন। ধর্মবিদ্বেষী কথা বা আচরণ তার মধ্যে কেউ কখনো দেখেনি।

শতভি যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হারিয়েছেন তা আর বুঝতে তার বাকি নেই। কোটি টাকার বিনিময়েও বাবাকে ফিরে পাওয়া যাবে না। শতভি বলেন, ‘আমার আব্বুকে প্রকাশ্যে খুন করা হলো। অথচ কেউ কি দেখেনি, কারা খুন করলো? তাহলে আমি কি আমার আব্বু হত্যার বিচার পাবো না?’

বলতে বলতে কেঁদে ওঠেন রিজওয়ানা হাসিন শতভি। খানিকটা থেমে আবারো বলেন, ‘রাজশাহী একটি ব্যস্ততম নগরী। গরমের দিনে এ নগরীতে সকাল সাড়ে ৭টায় অনেকেই বাইরে থাকেন। শালবাগান এলাকায় আরো বেশি মানুষ থাকে। রাস্তা দিয়ে সেকেন্ডে কয়েকটি করে গাড়ি যাওয়া আসা করে। এভাবে প্রকাশ্যে একটা মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো, অথচ কেউ দেখলো না, এটা বিশ্বাস করা যায় না।’

অশ্রু সংবরণ করে শতভি আরো বলেন, ‘কেউ কি দেখেনি? নাকি দেখার পরও ভয়ে মুখ খুলছে না। কীসের ভয়ে মুখ খুলছে না? কোন কালো শক্তির ভয়ে? সেই কালো শক্তিকে খুঁজে বের করা হোক।’

সাংবাদিকদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর এই বড় মেয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। আপনারা এ জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত হারিয়ে যেতে দিবেন না! জোরালোভাবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।’

 

মতামত...