,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অধ্যাপক নাঈমা আক্তার স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিয়েছেন

nayma familyআনোয়ার হোসেন লিখন, যশোর সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাঈমা আক্তার স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিয়েছেন। মাত্র দেড় মাসের ছুটি নিয়ে স্ব-পরিবারে বিদেশ গিয়ে আর ফিরে আসেননি বছর পার হলেও। যোগ দেননি কর্মস্থলে। স্বামী খন্দকার রোকনুদ্দিন ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। বছর আগে স্বামী-স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ পাঁচ সদস্যর পরিবার বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ধারণা করছি, তারা সিরিয়া চলে গেছে। পরিবারটি আইএস’এ যোগ দিয়েছে এমন সন্দেহ জাগছে অনেকের মনে। এমএম কলেজের শিক্ষিকা নাঈমা আক্তারের পরিবার নিয়ে এসব জল্পনা কল্পনা। খোদ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।এমএম কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাঈমা আক্তার ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে যশোর সরকারি এমএম কলেজে বদলি হয়ে আসেন। তারপরে ছুটিতে যান ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই। ৪৬ দিনের ছুটি নিয়ে আর দেশে ফিরেননি। কর্মস্থলে না ফেরায় মন্ত্রণালয় থেকে তার উদ্দেশে একটি চিঠি আসে। ব্যক্তিগত চিঠি বলে তা তার ঢাকার ১১/বি মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চিঠিটি গ্রহণ না করায় আবার কলেজে ফেরত আসে।
তৎকালীন প্রফেসর নমিতা রাণী বিশ্বাস জানান, হজে যাওয়ার জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাইমা আক্তার। শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রক্রিয়া শেষে ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই হজ্ব শেষ হয়ে যায়। তারপর তিনি বিদেশ ভ্রমণে যাবেন বলে ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটি শেষ হলেও নাঈমা আক্তার দেশে না ফেরায় আমি অধ্যক্ষ হিসেবে তখন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করেছিলাম। নাঈমা আধুনিক রুচিসম্পন্ন একজন মানুষ। পোশাক-আশাকেও অত্যন্ত স্মার্ট। কথা বলেন গুছিয়ে। সম্মোহনী শক্তিতে মানুষকে আকর্ষণ করেন সহজেই। আধুনিক এই মানুষটি হঠাৎ গেলেন পাল্টে। পরিবর্তন আসে তার আলোচনায়। ধীরে ধীরে আলোচনায় স্থান পায় জিহাদ। ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন পরিচিতজনদের কাছে। নিজেও জড়িয়ে পড়েন জঙ্গি তৎপরতায়। একসময় সব ছাড়েন। পৈতৃক বাড়ি, শিক্ষকতা, আত্মীয়স্বজন, এমনকি দেশের মায়াজালও তাকে আটকাতে পারেনি। অবশেষে দেশ ছাড়লেন। একা নয়, সঙ্গে শিশুচিকিৎসক স্বামীসহ দুই মেয়ে এবং মেয়ের জামাতাকে নিয়ে। ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া। সেখান থেকে তুরস্ক। পুরো পরিবার এখন সেখানেই। যোগ দিয়েছেন মধ্যপপ্রাচ্যভিত্তিক ধর্মীয় উগ্রপন্থি সংগঠন আইএসে। নাঈমার স্বামী ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক খন্দকার রোকনউদ্দিন। মেয়ে রেজওয়ানা রোকন ও তার স্বামী সাদ কায়েস ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আরেক মেয়ে রামিতা রোকন লেখাপড়া করতেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলে। সপরিবারে তুরস্কে পাড়ি জমানো চিকিৎসক খন্দকার রোকনউদ্দিনের স্ত্রী নাঈমা আক্তার হঠাৎ করেই জিহাদের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। আর তার এই জিহাদি মনোভাবাপন্ন হওয়ার পেছনে মেয়েজামাই সাদ কায়েসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন পুলিশ ও স্বজনরা। তার বিভাগের শিক্ষক, যারা তার সঙ্গে মিশেছেন, তাদের ভাষায়, অত্যন্ত স্মার্ট একজন মানুষ ছিলেন নাঈমা। সাত মাস কলেজে চাকরিকালীন শেষ দিকে বদলে যেতে থাকেন তিনি। জঙ্গি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তার দেশত্যাগের খবরে হতবাক হয়েছেন সহকর্মীরা। কলেজ অধ্যক্ষ জানান, ঢাকায় তার পরিবার থাকত বলে তিনি কলেজের ছাত্রী হোস্টেল খালেদা জিয়া হলে একটা কক্ষ নিয়ে থাকতেন। সেখানে মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে থাকতেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ নাসিমা রহমান। অধ্যাপক নাসিমার কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, মানুষ হিসেবে ভালো ছিলেন নাঈমা। কলেজে যোগদানের সময় শাড়ি পরতেন। পরে তিনি বোরকা পরেন এবং ধর্মীয় লাইনে ধাবিত হন। নাঈমা আক্তারের সহকর্মী অধ্যাপক শেখ নাসিমা রহমান বলেন, ‘হঠাৎ তার কথাবার্তায় কেমন জানি অসঙ্গতি দেখা যায়। তার মেয়েজামাই তাকে ইসলাম সম্পর্কে তাগিদ দেন বলে তিনি আমাকে বলেন। অধ্যাপক নাঈমা বলতেন, না, শুধু শান্তির না, জিহাদেরও। আমাদের নবীজিও জিহাদের কথা বলেছেন। নিখোঁজ নাঈমার বোন ডা. হালিমা আহমেদ বলেন, গত বছর রোজার সময় একদিন তার বোন জানান, তারা সপরিবারে বিদেশ যাচ্ছেন। এর দু-তিনদিন পর সন্ধ্যায় তার বোন আবারও জানান, রাত ২টায় তাদের ফ্লাইট। প্রথমে তারা মালয়েশিয়া যাবেন। এরপর সেখান থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন। স্বামী ডা. রোকনউদ্দিন সেখানে একটি হাসপাতালে চাকরি পেয়েছেন। এর আগে ডা. রোকনউদ্দিন ঢাকা শিশু হাসপাতালের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। ডা. হালিমা আরও বলেন, তারা চলে যাওয়ার পর থেকে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এর পর থেকে ডা. রোকনউদ্দিনের বড় ভাই আফাজ উদ্দিনের ছেলেমেয়েরা তাদের সাতটি ফ্ল্যাট দেখাশোনা করছেন। চলতি বছর রোজার সময় একটি বিদেশি নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে নাঈমা আক্তার জানান, তারা তুরস্কে আছেন এবং ভালো আছেন। এর বেশি কথা হয়নি।

মতামত...