,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অনলাইনে হুন্ডি ব্যবসা: রেমিট্যান্স পাঠানোয় ভাটা

on-line-banking-logoনিউজ ডেস্ক,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে অবৈধ হুন্ডি কারবারে। সৌদি আরবে এখন হুন্ডি ব্যবসা হচ্ছে অনলাইনেও। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঝুঁকে পড়েছেন এই অনলাইন হুন্ডির দিকে। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্স।

প্রবাসীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর গাফিলতি ও হয়রানির কারণে অনেকে অবৈধ হলেও হুন্ডিতেই টাকা পাঠাচ্ছেন দেশে।

হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন, এমন অনেকে ঢাকাটাইমসকে জানান, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মতোই অনলাইনে টাকা পাঠানো সহজ হয়ে গেছে। যেকোনো ইন্টারনেট-সচল মোবাইল ফোন থেকে ভিওআইপি অ্যাপস ইনস্টল করে ডলারের বিপরীতে সহজেই বিকাশ বা ডাচ-বাংলা ব্যাংক মোবাইল সার্ভিসে টাকা পাঠানো যাচ্ছে অনায়াসে।

প্রবাসীরা জানান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকসহ অন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো অনলাইন পরিষেবার কথা বললেও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দুই-তিন দিনের আগে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছায় না। সেখানে ভিওআইপি, হুন্ডি, অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহক পরিষেবা পাচ্ছেন সঙ্গে সঙ্গে।

অনলাইন হুন্ডির দিকে ঝুঁকার আরো কয়েকটি কারণের কথা জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রথমত, সৌদিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো যায়। ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, সময়ের অপচয়, সেই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সামান্য ভুলত্রুটির সংশোধনীতে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলোর রিয়ালের দরের চেয়ে হুন্ডিতে কিছুটা বেশি মূল্য পায় সাধারণ প্রবাসীরা।

তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রেরণের শর্তাবলির কড়াকড়ি থাকায় বেশির ভাগ প্রবাসী ব্যবসায়ী ব্যাংকিং খাতের চেয়ে হুন্ডিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে ইস্টার্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাহমুদ হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, অবৈধ হুন্ডির কারণে এ বছর বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্স অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন করে শ্রমবাজার খোলায় রেমিট্যান্স বাড়ার কথা থাকলেও প্রতি মাসেই হ্রাস পাচ্ছে এর পরিমাণ। এ জন্য তিনি হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিশ্বস্ততা ও দ্রুতসময়ে ব্যাংকিং ঝামেলামুক্ত নগদ অর্থ প্রাপ্তিকে দায়ী করেছেন।

হুন্ডি ব্যবসা রুখতে এবং দ্রুতসময়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টে গ্রাহকদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য ইস্টার্ন ইউনিয়ন, ভিসা, মাস্টারকার্ড-এর মতো প্রভাবশালী বিদেশি অর্থ হস্তান্তর ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিকাশের সঙ্গে যৌথভাবে চুক্তিবদ্ধ হলেও প্রবাসী গ্রাহকদের ব্যাংকমুখী করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ বড় ধরনের রেমিট্যান্স ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ঢাকা টাইমস’র প্রতিবেদন।

মতামত...