,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অপেশাদার ও নৈতিক স্খলন পুলিশের অর্জনকে ম্লান করছেঃ আইজিপি

1001নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,২৪, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ  কে এম শহীদুল হক বলেছেন, নাগরিকদের একাংশ আইন মানে না। তবে আইন না মানলেও পুলিশ সদস্যের কাজ নয় নাগরিকদের মারধর করা। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে হবে। এরপর যদি তার অপরাধ গুরুতর না হয়, আত্মীয়স্বজন ডেকে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। অপরাধ গুরুতর হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তবে আইন অমান্যকারীকে আটক করে মারধর করবেন না।

 

পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে রোববার দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় এ কে এম শহীদুল হক বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এ দেশের অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মানতে চান না। আইন অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে হয়। অল্প সংখ্যক পুলিশ দিয়ে অধিক সংখ্যক নাগরিকের ওপর আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে মুষ্টিমেয় পুলিশ সদস্যরা অতিরঞ্জন করেন। অপেশাদার আচরণ করেন। যার দায়ভার পুলিশ বিভাগের ওপর এসে পড়ে। যারা আইন মানেন না, তাদের অনুরোধ করছেন, যাতে তারা শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলেন।

 

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, পুলিশের কিছু সংখ্যক সদস্যের অপেশাদার আচরণ ও নৈতিকতার স্খলন সমগ্র বাহিনীর বড় বড় অর্জনকে ম্লান করে দেওয়ার উপক্রম হয়। ব্যক্তি পুলিশের অপরাধের দায় বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। যেকোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, গত ৫ বছরে পুলিশের ৭০৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৯৩ জন বিজ্ঞ আদালতে আপিল করার পর অব্যাহতি পেয়েছেন। অর্থাৎ শাস্তিপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ৪০ শতাংশ আদালত থেকে অব্যাহতি পায়। তার মানে এখনো ৬০ শতাংশ পুলিশ সদস্য শাস্তি পেয়ে থাকে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও অপরাধের সংখ্যা কমাতে সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য সারাদেশে ৫৫ হাজার ৩১৩টি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৩ জন। এই বিশাল নাগরিকের বহর পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির কাজ করছেন। অনেক ছোট ঘটনায় এখন আর থানা বা আদালতে মামলা করতে যেতে হচ্ছে না। মাদক, যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও কাজ করছেন তারা।

 

এ কে এম শহীদুল হক বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি এবার ১০২ জন পুলিশ সদস্যকে সেবা ও সাহসিকতায় পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে ছয় জন মরণোত্তর পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

 

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯২ দিন ধরে চলা বিরোধীজোটের নাশকতার উদাহরণ দিয়ে আইজিপি বলেন, ওই সময়ের ধারাবাহিক নাশকতায় পুলিশের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতায় ৮০ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৮৪৩ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ ক্রান্তিলগ্নে থেকে জনগণের নিরাপত্তা দিতে কাজ করেছেন। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৮৪১টি মামলা দায়ের হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এসব মামলার দায়ী ব্যক্তি, উস্কানিদাতা এবং সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধ পরিকর।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজি জাভেদ পাটোয়ারি, অতিরিক্ত আইজি(প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মতামত...