,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অবরুদ্ধ গাজায় নূতন এক ‘স্পাইডারম্যান’

abnr ad 250x70 1নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, প্রায় ১০ বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজাবাসীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দখলদার ইসরাইল। তাই বলে কি মনকেও অবরোধ করে রাখা যায়! মনের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর অনেকেই যেমন এগিয়ে গেছেন নিজের গন্তব্যপানে; পৌঁছেও গেছেন অনেকে। এমনকি একজন গাজার বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল শেইখ। ইতোমধ্যেই মোহাম্মদ আল শেইখ শারীরিক কসরত দেখিয়ে জয় করেছে হাজারো মানুষের হৃদয়। স্বপ্ন দেখছে গিনেজ বুক অফ রেকর্ডে নিজের নামটি লেখাতে। মাত্র ১.৩ মিটার লম্বা মোহাম্মদ আল শেইখের ওজন মাত্র ২৯ কেজি। এ সময়েই সে তার শরীরকে অসম্ভব উপায়ে বিভিন্নভাবে বাঁকাতে পারে। পা-গুলো তুলে দিতে পারে কাঁধের উপর। কামড়সার মতো বিভিন্ন আঙ্গিকে লাফালাফিতে সিদ্ধহস্ত সে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুবাধে ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনের তরুণ সমাজ তাকে ‘স্পাইডারম্যান’ উপাধি দিয়েছে। মোহাম্মদের সুখ্যাতি ছড়ায় ২০১৪ সালে ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের পর। সে সময় প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছিলেন। সে সময় ৫০ দিন অবরুদ্ধ থেকেও লেবাননের একটি টিভি শো-তে অংশ নেয় মোহাম্মদ। তার শারীরিক কসরত দেখে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছিল তাকে। দক্ষিণ গাজা সিটির তেল আল-হাওয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সে প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে না পারলেও এখন সে স্বপ্ন দেখছে গিনেজ বুক অব রেকর্ডে নাম লেখাতে। তার কোচ ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ লুবাদের মতে, মোহাম্মদ পৃথিবীর অন্য যে কারো থেকে ভালো করে চারটি অ্যাক্রোবেট দেখাতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গিনেজ বুক অব রেকর্ড তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার কসরত রেকর্ড করতে সম্মত হয়েছে। গিনেজ অফিসে প্রমাণস্বরূপ পাঠানো এক ভিডিওতে দেখা যায়, মোহাম্মদ বুকের ওপর ভর করে শুয়ে আছে। তার পা-গুলো ৩৬০ ডিগ্রি বেঁকে বিভিন্ন কোণে নৈপুণ্যের সাথে মাটি স্পর্শ করছে। সে এক মিনিটে এরকম ৩৩ বার করতে সমর্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত এ রেকর্ড আছে মাত্র ২৯ বার। তার আশা আগামী সপ্তাহে হয়তো সেই মুকুট তার মাথায় উঠবে। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় তার শক্তি ও নৈপুণ্যতা প্রদর্শন বাকি থাকলেও তার মা হানানের কাছে ইতোমধ্যেই সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। প্রায় ১০ বছর ধরে ইসরাইল কর্তৃক অবরুদ্ধ থেকেও ইউটিউব থেকে সে এসব কসরত রপ্ত করেছে। তার এসব কসরত বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের প্রধান বাধা এখন সীমান্ত অবরোধ। মোহাম্মদ জানায়, ‘আরবসহ বিশ্বের বহু মানুষ ফেসবুকে আপলোড করা আমার ভিডিওতে লাইক দিয়ে আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। অনুপ্রেরণা দিয়েছে। কিন্তু অবরোধের কারণে আমি সেসব লোকদের কাছে পৌঁছতে পারছি না। ব্যাপারটি আমাকে খুবই পীড়া দিচ্ছে।’ ‘আরবস গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার পর ১০ বছরের সহযোগিতাসহ অনুশীলনের প্রস্তাব পেয়েছিল মোহাম্মদ। কিন্তু বয়সে ছোট হওয়ায় তার পরিবার সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ৪৮ বছর বয়সী মায়ের সবচেয়ে ছোট মোহাম্মদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত মা। গাজা সৈকতে উট বা ঘোড়ার পিঠে চড়ে কসরত দেখিয়ে মোহাম্মদ এটাই প্রকাশ করে যে, ‘আমি এখন বাতাসে। এখানো কোনো অবরোধ নেই।’

  • গালফ নিউজের প্রতিবেদন।

মতামত...