,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

অবৈধ অস্ত্রের কাছে জিম্মি বাঁশখালী

safiullah1শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, বাঁশখালীতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েই চলছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে ৫-৬ শতাধিক। আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার জরিপ অনুযায়ী প্রায় দেড়শ অবৈধ অস্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও গত ২ মাসে বাঁশখালী হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ রোগীর চিকিৎসা হিসাব মিলালে বুঝা যায় উপকূলীয় ইউনিয়ন গুলোতে অবৈধ অস্ত্রের তিল পরিমাণ মজুদ রয়েছে। এক সময়ে গন্ডামারা বাজারে চায়ের দোকানের টেবিলের উপর অবৈধ অস্ত্র রেখে চা পান করতো। এ খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ওয়ান ইলেভেনের সময়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলে কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও bnr ad 250x70 1দীর্ঘ ৭-৮ বছরে শান্তিতে বসবাস করলেও হঠাৎ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ই এপ্রিল গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎ বিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও ৪ ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। আন্দোলনকারী ও সরকারের মধ্যে কোন বুঝাপড়া না হওয়ায় এখনো ওই এলাকায় পুলিশ প্রবেশ করতে পারছে না। গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে গন্ডামারা এলাকায় সবচেয়ে অবৈধ অস্ত্র বেশী। গত ১লা মে উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ায় দুই ব্রিক ফিল্ডের মালিকদের মধ্যে মর্তুজ গ্র“প ও আবছার গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৫ জন গুলিবিদ্ধ। ১৯ জনকে বাঁশখালী হাসপাতালে ও বাকীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক সময় জমিজমা দখলের জন্য লাঠিয়াল বাহিনীদের মাধ্যমে জমি দখল করতো। এখন দেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি হওয়ায় লাঠির পরিবর্তে সিনেমার অ্যাকটিংয়ের মত অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সূত্রে জানায়, বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব পাহাড়, পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর, উত্তর পার্শ্বে শঙ্খ নদী হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনা হয় সাগর ও নদী পথে। কক্সবাজার সীমান্ত উপকূলবর্তী ইউনিয়ন ছনুয়া ও শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, কাথারিয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ইউনিয়নে সাগর এবং নদী উপকূলবর্তী হওয়ায় অন্যান্য উপজেলা ও কক্সবাজার এর বান্দরবান এবং পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে সাগর পথে এ অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করে। স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী ভাল মানুষের বেশে অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা করে। গোয়েন্দা সংস্থা ও থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত বাঁশখালীর শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী সরল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মোঃ আলমের পুত্র মোঃ ফরিদ। তিনি সারা বাঁশখালীতে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সর্বশেষ শনিবার (৭ মে) বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা গন্ডামারা থেকে অভিযানের মাধ্যমে ২টি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
এব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, আমি গত কয়েক দিন হল বাঁশখালী থানাতে যোগদান করেছি। আমার পূর্ববর্তী অফিসার সন্ত্রাস দমনে কি ধরনের ভূমিকা রেখেছেন তা আমি জানি না। কিন্তু আমি যোগদান করার পর পর অভিযান শুরু করেছি। অভিযানে বেশ কয়েকটি অস্ত্রসহ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বাঁশখালীকে সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে বাঁশখালীর অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

মতামত...