,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আইএসের ভিডিও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

home minitrনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জঙ্গি হানার সময় ভেতরের ভিডিও প্রকাশ ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আইএসের দাবি করে ঐ ভিডিওটি প্রকাশ করার পর থেকেই এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল।

আজ রবিবার তারই জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ভিডিওটি আইএসের বলে দাবি করে যা বলা হচ্ছে তা অপপ্রচারের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটি অন্যদেশ থেকেও প্রচার করা হতে পারে।

রাজধানীর উত্তরায় পাসপোর্ট অফিসের উদ্বোধন শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব ফের নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। এর শেকড়ও নেই।’

সম্প্রতি আইএসের নামে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ওই ভিডিওচিত্রে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে কমান্ডো অভিযানের পর ভেতরের কিছু ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। কীভাবে ওই ছবি প্রকাশ হল এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কারণ ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়া সেখানে কেউ যেতে পারেনি। প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সূত্র থেকে এই ভিডিওটি জঙ্গিদের কাছে গিয়েছে কি না।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান এ প্রসঙ্গে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ওই সময়ে গুলশান এলাকায় আমি ছিলাম না, তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা কঠিন। তবে হামলার পরের অংশের ভিডিওটি আইএস প্রকাশ করলে এটা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয়।’

গত ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলা করে ১৭ বিদেশিসহ মোট ২২ জনকে হত্যা করে পাঁচ যুবক। এই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বৃহস্পতিবার তাদের দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। এরপর জঙ্গি সংগঠন আইএসের পক্ষ থেকে পাঁচজনের বক্তব্যসহ একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ।

এই ভিডিওচিত্রে আইএসের পক্ষে বেশ কিছু বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি হামলাকারী রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, খায়রুল ইসলাম পায়েলের বক্তব্য আছে যেখানে তারা বিদেশিদেরকে হত্যা করতে আসার কথা জানিয়েছেন।

পূর্বে ধারণ করা এসব বক্তব্যের পাশাপাশি ভিডিওতে হলি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযানের পর নিহতদের মরদেহ পড়ে আছে এমন একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

এই ভিডিও প্রকাশের খবর বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, আর্টিজানে জঙ্গিদের হত্যার পর ভেতরের দৃশ্য কীভাবে বাইরে গেল। কিন্তু জবাব মেলেনি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘অনেক কথা বলেছি, এখন গেলাম।’

জঙ্গি তৎপরতায় নাটের গুরু হিসেবে যাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের একজন সাবেক চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হক। আবার আর্টিজান হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে যাকে শনাক্ত করা হয়েছে সেই জাহিদুল ইসলামও সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ান। প্রশ্ন করা হচ্ছিল আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে আইএস মদতপুষ্ট কেউ নেই তো?

মতামত...