,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটিতে আসছেন কারা?

aনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  সম্মেলনের কয়েকদিন আগে থেকে যে গুঞ্জন চলছিল, তা সত্যি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন ওবায়দুল কাদের। রোববার ক্ষমতাসীন দলটির কাউন্সিল অধিবেশনের শেষ পর্বে শেখ হাসিনা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক পদেও নির্বাচন হয়। রবিবার ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী সংসদের ২৩ পদের নেতা নির্বাচন করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি এই নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিটির বাকি সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।

a1a
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার পরপরই নির্বাচনী অধিবেশন শুরু হয়। নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়ে এলেও নির্বাচনী অধিবেশনেরa1

শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকন্যার নামই সভাপতি পদের জন্য প্রস্তাব করেন প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তা সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কাউন্সিলের জন্য গঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশনের প্রধান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ পদেও আর কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় ইউসুফ হোসেন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। কমিশনের অপর দুই সদস্য ছিলেন ড. মশিউর রহমান এবং রশিদুল আলম।
সভায় সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের স্থান হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিষদে। সভাপতিমণ্ডলীতে তার পাশাপাশি নতুন এসেছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য (যশোর)। পুরানোদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীতে থাকছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আগের সভাপতি মণ্ডলী থেকে বাদ পড়েছেন নুহ উল আলম লেনিন ও সতীশ চন্দ্র রায়। পুরানো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছেন আব্দুর রহমান। কোষাধ্যক্ষ পদে এন এইচ আশিকুর রহমানই থাকছেন নতুন কমিটিতে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদোন্নতি হয়েছে ছয় নেতার। এর মধ্যে পাঁচজন সম্পাদকমণ্ডলী থেকে সভাপতিমণ্ডলীর পদ পেয়েছেন। একজন কার্যনির্বাহী সদস্য থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।
২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসা আশরাফ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের উপর ভরসা রেখে তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে এনেছিলেন শেখ হাসিনা। দলের নেতা-কর্মীরা আশরাফকে সহজে পান না বলে অভিযোগের মধ্যেও হেফাজত ও বিএনপির আন্দোলন পেরিয়ে নির্বাচন করার দক্ষতায় তার ওপর ভরসা রেখে যান শেখ হাসিনা। তবে গত বছর আকস্মিকভাবে আশরাফকে মন্ত্রিসভায় দপ্তরছাড়া করার পর সেই ভরসায় চিড় ধরার ইঙ্গিত মিললেও সপ্তাহের ব্যবধানে ফের তাকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছিল। এবার কাউন্সিলের কয়েকদিন আগে থেকে গুঞ্জন ছড়ায় যে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেন, নেত্রী তাকে ‘তৈরি’ থাকতে বলেছেন। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলছিলেন না কেউই। এর মধ্যেই আশরাফ বলেন, নেতৃত্বে কে আসবে, তা শুধু শেখ হাসিনা ও তিনিই জানেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত দলে শেখ হাসিনার কাছে নিজের গুরুত্ব তুলে ধরেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী আশরাফ। কাউন্সিলে তিনিই নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন। এজন্য কাউন্সিলে আশরাফকে ধন্যবাদও জানান শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে ছুটোছুটি করে আলোচিত ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পাওয়ায় দল আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কেউ সভাপতি পদে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, এবারও করলেন না। প্রসঙ্গত স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৭ মে দেশে ফিরে দলের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ এবং ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।
৬৪ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এরপরই জড়িয়ে ধরেন সৈয়দ আশরাফকে। আশরাফের সঙ্গে আলিঙ্গন শেষ করে কাদের সাহারা খাতুনেরও পা ছুঁয়ে সালাম করেন।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিরূপ সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদের ডাকসুতে সংগঠনের হয়ে ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন তিনি। গত কাউন্সিলে সভাপতিমণ্ডলীতে আসার আগে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন।
সম্মেলনস্থল থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সৈয়দ আশরাফকে জড়িয়ে ধরেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা তার আগে কাউন্সিলে বলেন, ‘আশরাফুলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, ও আমার ছোট ভাইয়ের মতো। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে সে সংগঠন ও দেশকে ভালবেসেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেছে, ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।’
এবার কাউন্সিলের কিছু দিন আগে থেকে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছিলেন ৭০ বছরে পা দেওয়া শেখ হাসিনা। কাউন্সিলেও কয়েকবারই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুকন্যা। তবে যতবারই তিনি একথা বলেছেন, ততবারই কাউন্সিলর ও নেতারা ‘না না’ বলে সরব হয়েছিলেন।
২০তম কাউন্সিলে ফের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা আবারও পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করার তাগিদ দেন নেতাদের। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও সংগঠনের দায়িত্ব পালন যে কঠিন, তাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে গুরু দায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তা বহন করব। ৩৫ বছর একটা দলের সভাপতি, তবে একটা সময় আমাকে বিদায় নিতে হবে।’ এবার প্রথম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়া সজীব ওয়াজেদ জয়কে নেতৃত্বে চেয়ে দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল নেতারা। তবে তা নাকচ করে জয় বলেন, বিদেশে থেকে দলীয় পদ রাখতে চান না তিনি।
গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনের কাজ শুরু করেন শেখ হাসিনা। অধিবেশনের শুরুতেই সূচনা বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর থেকে বক্তব্য দেন ২৭ জন জেলা নেতা। দুপুর সোয়া একটায় সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যাহ্ন ভোজ বিরতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মুলতবি অধিবেশনে বক্তব্য দেন আরও ৮ জেলার নেতা। আগামী তিন বছরের জন্য দলের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শনিবার সকাল ১০ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং ১০টি দেশের ৫৫ জন বিদেশী অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...