,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আগামি নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

1001

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,২২,নুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ  :: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
সরকারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি সিলেটবাসীকে একটি কথাই বলতে চাই যে, আমার কাছে দাবি করা লাগবে না। আমি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছি।
এদেশের মানুষের সমস্যা কী , এদেশের মানুষের সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হবে, উন্নতি কীভাবে করতে হবে সেটা আমরা জানি আর সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ উপস্থিত জনতার কাছে তার উপর আপনাদের ভরসা আছে কি না জানতে চান?
তখন সবাই সমস্বরে হাত তুলে বলেন, হ্যাঁ, আপনাদের উপর আমাদের ভরসা আছে আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, নিশ্চয়ই, এই ভরসাটুকু আমাদের ওপর আপনারা রাখবেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। তাই আগামীতেও কখনো নৌকা মার্কাকে ভুলবেন না। আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন তো? হাত তুলে ওয়াদা করেন।
উপস্থিতরা হাত তুলে বলেন, “দেব।”
নৌকাই দেবে শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নতি, বলেন শেখ হাসিনা।
গত ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও একইভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আগামী মার্চে প্রথম ধাপে পাঁচ শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জনসভায় বক্তব্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে নাশকতাকারীদের বিচারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
যারা পেট্রোল বোমা, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নাই। যেখানে যেখানে পোড়ানো হয়েছে সেখানেই মামলা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিচার হবে।
গত বছরের প্রথম তিন মাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এক হয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যেভাবে হামলা চালায় আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বানচালের নামে একই কায়দায় তারা মানুষ হত্যা করে।
ওই সময়ে সহিংসতায় নারী ও শিশুসহ কেউ খালেদা জিয়ার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা চাই, এদেশের মানুষের জীবনের শান্তি। আর ওরা চায় অশান্তি।
কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মদনমোহন কলেজের হীরক জয়ন্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দুপুর সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের স্থান হবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আপনারা সজাগ থাকবেন। আপানাদেরকেও লক্ষ রাখতে হবে যেন কোনও ছেলে-মেয়ে, কেউ যেন জঙ্গিবাদীর কাছে যেন না যেতে পারে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ চায় এদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিচার অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কলুষমুক্ত হবে। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসবে।
বক্তব্যে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক খাতসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বক্তব্য রাখেন।
বিকালে জনসভাস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, এপিবিএন ব্যারাক ভবন, ওসমানীনগর থানা ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল ভবন, ৩০ শয্যাবিশিষ্ট খাদিমপাড়া হাসপাতাল, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
সিলেট আউটার স্টেডিয়াম, খসরুপুর বাজার জিসি-পৈলনপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক উন্নয়ন, হরিপুর জিসি-গাছবাড়ী জিসি সড়ক (কানাইঘাট অংশ) উন্নয়ন, মৈয়াখালী বাজার-আর অ্যান্ড সুইচ (বারোহাল ইউপি অফিস) ভায়া হাটুবিল মাদ্রাসা সড়ক উন্নয়ন, নারী পুলিশ ডরমেটরি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, শাহপরাণ থানা ভবন নির্মাণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা অফিস নির্মাণ, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এনএসআই কার্যালয় ভবন নির্মাণ, তামাবিল স্থলবন্দর নির্মাণ, হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন মাজার, তিন তলা ভিত্তি বিশিষ্ট মসজিদ, মহিলা এবাদতখানা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেট বিভাগ এবং সিভিল সার্জন সিলেট এর কার্যালয় ভবন নির্মাণ ও সিলেট ইলেকট্রনিক সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

মতামত...