,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, আমরা তোমাদের ভুলব না

dec14নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৪ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::   আজ ভয়াল সেই ১৪ ডিসেম্বর । শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের মর্মান্তিক একটি দিন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের উষালগ্নে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হারানোর দুঃসহ যন্ত্রণার দিন। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনেই জাতি আজ স্মরণ করবে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
৪৪ বছর আগেকার আজকের এই দিনটি ইতিহাসের কলঙ্কিত একটি দিন। এবারের বুদ্ধিজীবী দিবস এসেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। চলতি বছরের ২১ নভেম্বর কার্যকর হয়েছে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আলবদর কমান্ডার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়। একই দিন অপর এক যুদ্ধাপরাধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে।এ রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞের কলঙ্কমুক্তি কিছুটা হলেও পূর্ণতা পেয়েছে। আগামী ৬ জানুয়ারি আপিলের চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য রয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যার মূলহোতা জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায়।এ প্রেক্ষাপটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ ও রায় কার্যকরের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্তির এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়াটাই এই মুহূর্তে গোটা জাতির প্রত্যাশা।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তারা।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দু’দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতক চক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। পরদিন সকালে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলাতে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় হতভাগ্য এসব বুদ্ধিজীবীর নিথর দেহ। তবে ১৪ ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞের দিন হিসেবে স্মরণ করা হলেও মূলত ১০ ডিসেম্বর থেকেই ইতিহাসের এ ঘৃণ্যতম অপকর্মের সূচনা হয়। একাত্তরের ডিসেম্বরের এই হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা আজও নিরূপণ করা যায়নি। তবে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীর যে সংখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে, সেই অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী-সাহিত্যিক-প্রকৌশলী।
আজকের কর্মসূচি :যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকের আবহে আজ পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানাবেন। তারপর সর্বসাধারণের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি। রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধেও অনুরূপ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে।
দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নিয়েছে নানা কর্মসূচি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ও ৯টা ১০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা বক্তব্য রাখবেন।
বিএনপি সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

 

মতামত...