,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস

a: কামরুল ইসলাম দুলু:

শিক্ষার আবেদন মানবিক , শিক্ষা হবে সবার জন্য অবারিত,সবার জন্য উন্মুত্ত। শিক্ষা মানুষকে নিজের ও সমাজ সর্ম্পকে ধারণা দেয়। তাই যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। শিক্ষা ছাড়া মানুষ নিজের ও সমাজ সর্ম্পকে অন্ধকারে থাকে। তাই একটি জাতিকে ধংস্স করতে হলে তার শিক্ষা নীতিকে দুর্বল করে দিলে হয়। যা ছিল পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস. এম .শরীফের নেতৃত্বে গঠিত শরীফ কমিশনের রিপোর্টে শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা-পরিকল্পনা। কিন্তু লড়াকু ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতি পরিকল্পনার সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্টা পায় ১৭ সেপ্টেম্বর “মহান শিক্ষা দিবস”। ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল মোস্তফা , ওয়াজিউল্লাহ ,বাবুলসহ নাম না জানা অসংখ্য ছাত্র। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ প্রতি বছর এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৯৬২ সালের ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস.এম . শরীফের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তার রিপোর্টে শাসক গোষ্ঠীর শিক্ষা-পরিকল্পনা তুলে ধরে। আইয়ুবের সামরিক সরকার ঐ রিপোর্ট গ্রহণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এ ভূখন্ডে লড়াকু ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশনের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ আহুত সাধারণ ধর্মঘট পালন কালে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায়। শহীদের রক্তে রঞ্জিত  ১৭ সেপ্টেম্বর “মহান শিক্ষা দিবস ”হিসেবে পালিত হয় সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে ধারণ করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীন দেশে শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ এই ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়নি ,শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় না। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানেনা ইতিহাসের এ গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের কথা ,বঞ্চিত এর তাৎপর্য অনুধাবন থেকে।১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ , সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয় দেশের সর্বত্র। সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের মূল জমায়েত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সাথে সর্বস্তরের জনতার ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটে এ কর্মসূচিতে। জগন্নাথ কলেজে ছাত্রদের উপর গুলি হওয়ার খবর শুনে মিছিল দ্রুত বের হয়ে নবাবপুরের দিকে ধাবিত হয়। হাইকোর্টের সামনে অবস্তান গ্রহণকারী পুলিশের সাথে সংঘাতে না গিয়ে মিছিল আব্দুলগনি রোড ধরে অগ্রসর হয়। তখনই পুলিশ পিছন দিক থেকে মিছিলে হামলা চালায়। এখানে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়া হয় , লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করে। মিছিলকারীদের সাথে পুলিশ-সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ ঘটে ঢাকা কোর্টের সামনে। এখানে পুলিশ ও ইপিআর গুলিবর্ষণ করে তারপর সেনাবাহিনী মুল মুল বিক্ষোভস্থলে বিক্ষোভ দমনে আক্রমন চালায়।
সরকারী প্রেসনোটে ঐদিন ১ জন নিহত,৭৩ জন আহত ও ৫৯ জনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করা হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিলো আরও ভয়াবহ। ঢাকায় শহীদ হন বাবুল (ছাত্র), গোলাম মোস্তফা (বাস কন্ডাক্টর) ও ওয়াজিউল্লাহ (গৃহভৃত্য)। দেশের অন্যত্রও ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ রক্তাক্ত রুপ ধারণ করেছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মিছিলে শ্রমিকদের অংশগ্রহন ছিল ব্যাপকমাত্রায়। টঙ্গিতে শ্রমিক মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হলে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিক নিহত হন। শ্রমিক- ছাত্রের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এ দেশের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিল। পরবর্তী তিন দিন শোক পালন করা হয় এ নারকীয় হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে। কালোব্যাজ ধারণ করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬২, পল্টন ময়দানের ছাত্র সমাবেশ থেকে শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতি বাতিল , হত্যার বিচার সহ ছাত্র সমাজের দাবিনামা মেনে নেয়ার জন্য চরমপত্র জারি করা হয়। সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানের মুখে শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন স্তগিত করতে বাধ্য হয়।

মতামত...