,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আদালাত পাড়া হঠাৎ অস্থিরতা

advo1001নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,২১, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিকিউরিটি গার্ডদের হাতে এক সরকারি আইন কর্মকর্তার ড্রাইভার বেধড়ক মারধরের শিকার ও আইন কর্মকর্তা লাঞ্ছিতের ঘটনায় দফায় দফায় ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে আদালতপাড়ায়। এতে গুরুতর আহত ওই নারী আইনজীবীর ড্রাইভার সিদ্দিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই আইনজীবী। তারা হচ্ছেন, চট্টগ্রাম আদালতের অতিরিক্ত জিপি এডভোকেট নিশাত সুলতানা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তাদের হাতে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় অনতিবিলম্বে জেলা প্রশাসককে চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে নেয়াসহ আরো কয়েকটি দাবি দিয়েছেন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ। একইসাথে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। দুপুর ১২টার দিকে সংঘটিত এ হাঙ্গামার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিকেলে জরুরি বৈঠক বসেন আইনজীবীরা। এরপর বিক্ষোভ করার এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক অফিসের সামনে পর্ার্কিংয়ের জন্য ঠিক করা স্ট্যান্ডগুলো উপড়ে ফেলে। একইসাথে আদালত এলাকার বিভিন্ন স্থানে লাগানো জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেইম প্লেটগুলোও ফেলে দেয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি জরুরি সাধারণ সভা ডেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে নিশাত সুলতানার ড্রাইভার সিদ্দিকের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।

আইনজীবী ও সিদ্দিকের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি পর্যায়ে গড়ায় ঘটনা। এসময় সিদ্দিককে হেরোইনসি বলে আখ্যা দিয়ে মারতে মারতে ডিসি অফিসের দুইতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার নীচে আনা হয়। এ সময় সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। অপরদিকে উল্লেখিত দুইজন তাদের উপর আইনজীবী ও ডাইভাররা সংঘটিত হয়ে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ডিসি অফিসের সিকিউরিটি গার্ড হুমায়ুন ও জাকিরের সাথে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরোদিন উত্তপ্ত ছিল চট্টগ্রাম আদালত এলাকা। এ নিয়ে বিকেলে আইনজীবী সমিতির বৈঠকে বসার খবর প্রকাশ হলে অতিরিক্ত পুলিশ আসে আদালত এলাকায়। কিন্তু বৈঠক শেষে আইনজীবীদের বিক্ষোভ শুরুর এক পর্যায়ে পিছু হটে পুলিশ। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ‘বিজ্ঞ আইনজীবীদের’ গাড়ি রাখার স্থান বলে কাগজ সাঁটিয়ে দেন জেলা প্রশাসক অফিসের সামনে (নীচ তলায়)।

বিকেলে আইনজীবীদের সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মুজিবুল হক। বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের সদস্য ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল,সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক , ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও আবদুস সাত্তারসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। পরে সমিতি একটি সিদ্ধান্তে আসেন। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘটনার ব্যাপারে ফৌজদারি মামলা, ডিসিকে প্রত্যাহার, বিভিন্ন সময় আইনজীবীদের সাথে খারাপ ব্যবহারকারী তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমা প্রার্থনা,উল্লেখিত মামলায় আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবীর না দাঁড়ানো, চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ডিসির যাবতীয় নেইমপ্লেট সরিয়ে নেয়া এবং আদালত ভবনের প্রবেশমুখে তোরণ নিয়ে মামলার প্রেক্ষিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়ন। এদিকে এ ধরনের ঘটনাকে অনাকাংখিত উল্লেখ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ভুল বুঝাবুঝি থেকে হয়েছে। এ ঘটনায় হুমায়নু ও জাকিরকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অচিরেই এ ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারিরা একজন আইনজীবীর গাড়ির চালককে বেদম মারধর করেছে, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চালককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের হামলায় দুই আইনজীবীও আহত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা জরুরি সাধারণ সভা করে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে সমিতির সম্পাদক এনামুল হক জানান, আইনজীবী নিশাত সুলতানার গাড়িচালককে মারধর এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিশাত সুলতানাসহ আরো আইনজীবী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেছেন। এরপর সমিতির পক্ষ থেকে জরুরি সাধারণ সভা ডাকা হয়। ব্যাপক আলোচনার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হবে শীঘ্রই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত ভবন আইনজীবীদের জন্য। আইনজীবীরা মারধরের শিকার হবেন তা কল্পনাও করা যায় না। এদিকে আইনজীবী ও গাড়ির ড্রাইভারের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ও সমমনা আইনজীবী সংসদসহ আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন।

অপরদিকে জেলা প্রশাসকের পার্কিং স্থলের ক্ষতি সাধন ও সিকিউরিটি গার্ডদের উপর আইনজীবীদের হামলার অভিযোগ এনে তার নিন্দা করেছেন কালেক্টরেট সহকারী সমিতি, বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি ও ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা সার্ভেয়ার চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।

মতামত...