,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আন্তর্জাতিক ভাবে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব জাতিসংঘে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০ মার্চ, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: প্রতিবছর ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব জাতিসংঘে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। জাতীয় সংসদের স্বীকৃতির পর ইতোমধ্যেই ১৯৭১ সালের কালোরাত খ্যাত ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণারও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবেও দিনটিকে পালনের জন্য ইতোমধ্যে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
গত ১১ মার্চ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সেদিন প্রায় ৭ ঘণ্টা আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ ৫৬ জন সংসদ সদস্য ওই আলোচনায় অংশ নেন।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য ২৫ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে। এ বছর থেকেই তা শুরু হচ্ছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেটা বলতে পারবে। আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, কারণ তাদের প্রস্তুতি আছে কি না জানি না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসে সরকারিভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ আর্থ খরচ করা যায়। কারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তার বিবরণও সেখানে লিপিবদ্ধ আছে। দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘে এ সংক্রান্ত একটি সংস্থা আছে। তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
২৩ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। অবশ্য তার আগেই ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। কার্যত সেটাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, যার পথ ধরে কালরাতের পর শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।
দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবির মধ্যেই জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার গত ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলেন।
শিরীন আখতারের ওই প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদের অভিমত এই যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হউক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হউক।

মতামত...