,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

আমদানিকারকদের আর্থিক হিসেব খতিয়ে দেখা হবেঃএনবিআর চেয়ারম্যান

nbr cনিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,১৩, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):পণ্যের শুল্কায়ন নিয়ে অহেতুক মামলা দায়েরকারী আমদানিকারকদের আর্থিক হিসেব নিকেশ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজিবুর রহমান বলেন  ওইসব আমদানিকারকের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও কমিয়ে আনা হবে।

বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রাজস্ব বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন । চট্টগ্রাম অঞ্চলের শুল্ক, মূসক ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে রাজস্ব বিষয়ক এ সভায় বক্তব্য রাখেন, এনবিআর এর সদস্য(শুল্কনীতি) ফরিদ উদ্দিন, সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ)আব্দুর রাজ্জাক, মহাপরিচালক (সিআইডি) মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্মকমিশনার এহতেশামুল হক এর সঞ্চালনায় মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এর অতিরিক্ত কমিশনার মুবিনুল কবির, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার রেজাউল হক, মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, সহকারী কমিশনার মুকিতুল হাসান, মোহাম্মদ রহমত আলী সহ শুল্ক, মূসক ও আয়কর বিভাগের কয়েকশ’ কর্মকর্তা কর্মচারী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজিবুর বলেন, যেসব মামলার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জড়িত তা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মামলার কারণে জড়িত রাজস্ব বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে আদায়ে এরইমধ্যে আদালত ও বিচারকদের কাছ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কী কারণে এ ধরণের মামলার ঘটনা ঘটছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, পণ্যের শুল্কমূল্য নির্ধারণ নিয়ে আমদানিকারকদের মধ্যে আদালতের দারস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে এতে জড়িত রাজস্ব দীর্ঘদিনেও আদায় করা যাচেছ না। যে সকল প্রতিষ্ঠান অযথা বারবার মামলা করে রাজস্ব আহরণে বাধা সৃষ্টি করছেন তাদের আয় এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা হবে প্রয়োজনে।

প্রধান অতিথি বলেন, মামলার কারণে জড়িত রাজস্ব বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির(এডিআর) মাধ্যমে আদায়ে ইতোমধ্যে আদালত ও বিচারকদের কাছ থেকে সহযোগীতার আশ্বাস পেয়েছি। যে সকল মামলার সাথে বড় অঙ্কের রাজস্ব জড়িত সে সকল মামলা চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

নজিবুর রহমানের ভাষায়, রাজস্ব হচেছ উন্নয়নের অক্সিজেন। শুল্ক, মূসক ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হচেছ সেই অক্সিজেনের অন্যতম যোগানদাতা। রাজস্ব আহরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি গতিশীল হয়ে ব্যবসা বান্ধব ও কর বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যার যার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করতে পারলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোন বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআর এর সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। তবে যে হারে দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে সে হারে আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। দেশের মোট জিডিপি’র ২০ শতাংশ চট্টগ্রামের অবদান থাকলেও চলতি অর্থবছরের ছয় মাসের কার্যক্রম আশানুরূপ নয়। রাজস্ব আদায়সহ অন্যান্য সকল কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে প্রতিটি বিভাগের সাথে আলাদাভাবে আলোচনা করা হচেছ। আশা করি এ ধরণের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামতের পরিপেক্ষিতে এনবিআর এর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে সকল আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে রাজস্ব আহরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে যেসব বিদেশী প্রতিষ্ঠান কর কর্মকর্তাদের সহায়তা করছেন না কিংবা সঠিক তথ্য দিচেছন না এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। শুল্ক, মূসক ও আয়কর বিভাগ তিনটির মধ্যে সমন্বয় থাকলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। এদিকে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাথে বুধবার বেলা  কাস্টমস কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজিবুর রহমান। এসময় তিনি সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সিএন্ডএফ এজেন্টদের যৌক্তিক দাবিগুলো শীঘ্রই বাস্তবায়ন করা হবে।

একইসাথে তিনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করার জন্য তাগিদ দেন। এসময় সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আখতার হোসেন, সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু ও যুগ্মসম্পাদক কাজী মাহমুদ ইনাম বিলুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...