,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ইউপি নির্বাচনের তফসিল এই সপ্তাহেই

upeনিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা , বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম ::শীত বিদায়ের সাথে ইউপি নির্বাচনের উত্তাপে গ্রামেগঞ্জে বইতে শুরু করেছে  গরম হাওয়া। ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও  সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচন প্রচারণায় মাঠ চষেছে বেড়াচ্ছে । নির্বাচন প্রিয় এ দেশের মানুষ নির্বাচনি হাওয়ায়  গ্রামীণ জনপদ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে । এই উৎসবের  প্রাণ চঞ্চলতা সারা দেশের উপজেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। অপেক্ষা তফসিল ঘোষণার। নির্বাচন কমিশনও তফসিল ঘোষণার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আজকালের মধ্যে নির্বাচনের আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন ।

সরকার ইতোমধ্যে আইন সংশোধন করে সব চেয়ারম্যান  পদটি দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের বিধান করেছে। সেই হিসেবে সম্প্রতি দেশের ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল । ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতিকে  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনটি তাড়াহুড়ো করে করার কারণে নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণবিধিতে কিছুটা ভুলভ্রান্তি দেখা দেয়। বিষয়টি মাথায় রেখে ইসি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে কমিশন ইউপি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে। আজ বা কালকের মধ্যে ভেটিংসহ কমিশন ফেরত পেতে পারে বলে আশা করছে। এরপরই গেজেট প্রকাশ করে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঠিক করতে আজ রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইসির বৈঠক হওয়া কথা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মধ্য মার্চের পর থেকে মাসের বাকি সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনও বাধার সৃষ্টি হবে না। কারণ, মার্চের প্রথম সপ্তাহে চলমান এসএসসি পরীক্ষা শেষ হবে এবং এপ্রিলের প্রথম থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনও দিন তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ মার্চের ১৯ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে যেকোনও দিন হতে পারে বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী কোনও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। গত ২০১১ সালের ২৯ মার্চ দেশের ৫৩৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী এসব ইউপিতে ২৮ মার্চের আগে নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসেও আরও প্রায় দুই শ’ ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। যেগুলো এ বছর এপ্রিলে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে মার্চে ওইসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন। সব মিলিয়ে মার্চের শেষে প্রথম ধাপে কমিশন ৭৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি রাখলেও মামলা বা অন্যান্য আইনি জটিলতায় এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে ৭৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এবার প্রথমবারের মত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আ’লীগ বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে আগ্রহীরা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে দেন-দরবার শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কৌশলে নিজের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আকাঙক্ষার কথাও তারা ব্যক্ত করে যাচ্ছেন। অনেকের পক্ষে পোস্টার ব্যানারের মাধ্যমেও প্রচার চলছে। বর্তমান চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ জবাবদিহিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীতেও কাজ করার সুযোগ দাবি করছেন।

গত বছর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা, শপথ ও পরিষদের প্রথম সভার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছিল কমিশনে। এ তালিকা থেকে নির্বাচন করতে ৪ হাজার ৫৪৪টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা পাঠানো হয়। এই ৪ হাজার ৫৪৪টি ইউপির মধ্যে কয়েক ধাপে নির্বাচনের জন্য ইসির পক্ষ থেকে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালে হুদা কমিশন ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করে।

 

 

মতামত...