,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ইউপি নির্বাচন নিয়ে রাউজানের উত্তাপ বাড়ছে

aরাউজান সংবাদদাতাঃ   আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানাপোড়ন শুরু হয়েছে রাউজানের প্রতিটি  ইউনিয়নে।  উপজেলার ১৪টি  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে নেতাকর্মীরা লবিং শুরু করছেন প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের সাথে । উপজেলার  সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের  সবকটি ইউনিয়নে দলের স্থানীয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে থাকা অনেকেই নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে লবিং করছেন । তাই রাউজানে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী  হওয়া এক রকম চ্যালেঞ্জেই হয়ে আছে বইকি! । এই  উতপ্ত  পরিস্থিতিতে অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চরম টেনশনে দিন কাটাচ্ছেন ।  তাই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করতে তদবির করে যাচ্ছেন।

আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক পেতে হলে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সমর্থন প্রয়োজন হবে। অধিকাংশ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক ৪/৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করছেন। অনেকেই প্রতীক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্র পর্যায়ে তদবির করছেন। রাউজানের প্রায় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানরা। এখন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ইস্যুতে ইউনিয়ন কমিটির মধ্যে শুরু হয়েছে কোন্দল। কমিটির নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে সরকার দলীয় লোকজনের সূত্রে প্রকাশ, দলের ইউনিয়ন সভাপতি  যারা বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের  সাথে নৌকা প্রতীক ইস্যুতে সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় নেতাকর্মীর দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। অনাকাংঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকায় বেশির ভাগ ইউনিয়নে প্রকাশ্যে বর্ধিত সভা করা যাচ্ছে না । জানা যায় এই ধরণের পরিস্থিতিতে রাউজানে যস কোন ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছেন ।

বিভিন্ন  ইউনিয়নে দলের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদকসহ কিছু নেতা চেয়ারম্যানদের বিপক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে নৌকা প্রতীকের জন্য লবিং করছেন। রাউজান, গহিরা, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সভাপতি সরোয়াদ্দী সিকদারের সাথে নৌকার দাবিতে প্রতিযোগিতায় আছেন ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক বখতেয়ার হোসেন। হলদিয়া ইউনিয়নের দলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন শক্ত অবস্থানে আছেন   সাধারণ সম্পাদক মাহবুল আলম,সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন, আওয়ামীলীগ নেতা জিয়াউল হক সুমন, সাবেক ছাত্র নেতা এস এম বাবর, ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী। চিকদাইর ইউনিয়নের দলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান কাজী দিদারুল আলমকেও  চ্যালেঞ্জের ছুড়ে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চৌধুরী,আওয়ামীলীগ নেতা মোজাফ্‌ফর আহমদ তালুকদার, মোবারক উলাহ, সেলিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন প্রমুখরা। তারা সকলেই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার প্রত্যাশা করে আছেন।

ডাবুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুর রহমান চৌধুরী লালু আপাতঃ সস্তিতে থাকলেও প্রতীক পেতে নিরবে তদবির করছেন তারই ভাতিজা কৃষকলীগ নেতা নজরুল ইসলাম। পূর্বগুজরার দলের সভাপতি চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন এর বিরুদ্ধে প্রতীক পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন তার সাধারণ সম্পাদক চন্দন দে, বিনাজুরীতে চেয়ারম্যান সুকুমার বড়ুয়ার বড় বাঁধা এখন সেখানকার সাধারণ সম্পাদক সাধন মুহুরী, রবিন্দ্র লাল চৌধুরী, আবু সৈয়দ আলমগীর।

পাহাড়তলীতে চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে নৌকা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ রাউজান পূজা কমিটির নেতা প্রদীপ চৌধুরী।

বাগোয়ান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ভুপেশ বড়ুয়ার সাথে নৌকা প্রতীক পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন ছোটন, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল আলম, মেম্বার আনোয়ার হোসেন, রাউজান সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া এখন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, দলের ইউনিয়ন সভাপতি বিএম জসিম উদ্দিন হিরু,সাধারণ সম্পাদক হাজী নুরুল আমিন, সহ-সভাপতি সৈয়দ হোসেন কোম্পানী, যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শওকত হোসেন।

গহিরা ইউনিয়নে দলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান নুরুল আবসার বাশির বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে নৌকা প্রতীক পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন,উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ইফতেখার হোসেন দিলু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন তালুকদার। আওয়ামীলীগের সমঝোতা হলে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকীর।

উরকিরচর ইউনিয়নে দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল,নোয়াপাড়ার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম, পশ্চিম গুজরার চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ ও কদলপুরে মোজাহেদ উদ্দিন চৌধুরী লিংকন প্রতীক পাওয়ার পক্ষে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের সমর্থন পেয়েছেন বলে শুনা যাচ্ছে। তবে কদলপুর ইউনিয়নে এখনো নৌকা প্রতীক পেতে জোড় প্রচেষ্টায় আছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তসলিম উদ্দিন চৌধুরী। এই প্রার্থীর অভিযোগ এখানে বর্ধিত করা হয়েছে গোপনে। অনেকেই সভা সম্পর্কে অবহিত নয়।  কদলপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল শাহ উপজেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়ে সভা করা হয়েছে বলে জানান । তবে, বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাহেদ উদ্দিন লিংকনের প্রতি এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সমর্থন রয়েছে ।

 

বই এন আর/ ০০১৬০০২০০২৮/০০১৮৩/ এস

মতামত...