,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ইয়াবা পাচারের কৌশল ও উদ্ধার নাটকীয়তায় শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিনব অভিজ্ঞতা

a.নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্দেহ জনক আটক কক্সবাজার থেকে নোভো এয়ারের ফ্লাইট ঢাকায় আসা এক যাত্রীর পাকস্থলিতে লুকানো ৪ হাজার ইয়াবা অবশেষে তার পায়ুপথ দিয়ে দফায় দফায় ১০০ পোটলায় উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা।

জানা যায়, আটক যাত্রী ইমাম হোসেন তাসনিম ফকরুল নামে কক্সবাজার থেকে নোভো এয়ারের একটি ফ্লাইট রোববার ঢাকায় অবতরণ করেন।  শুল্ক গোয়েন্দার সন্দেহ হলে পেটে চাপ দিয়ে ইয়াবার অস্তিত্বের কথা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন। ৬ সাগর কলার সঙ্গে ১০০ পোটলায় ৪ হাজার ইয়াবা গিলে খান টেকনাফের বাসিন্দা ইমাম হোসেন।

হজরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর তাকে রোববার সন্ধ্যায় র‌্যাবের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইয়াবা লুকানোর কৌশল ও উদ্ধার করার নাটকীয়তা ও অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক আটকের পর ঔষধ খাইয়ে পাকস্থলিতে লুকানো ইয়াবা অবশেষে তার পায়ুপথ দিয়ে দফায় দফায় ১০০টি পোটলায় বের করা হয়েছে।

মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ইমাম হোসেন রোববার ভোর ৫টায় ৬টি সাগর কলার সাথে গিলে খেয়েছিলেন সেগুলো। সঙ্গে বমি ঠেকানোর জন্য খান এবোমিন জাতীয় ট্যাবলেট। তিনি পেশায় দিনমজুর। বাড়তি আয়ের জন্য এই প্রথম তিনি এই কাজে নেমেছেন। টেকনাফের আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি এই ইয়াবা চালানের মালিক। শুল্ক গোয়েন্দার জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য বেরিয়ে আসে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা ট্রলার থেকে এসব ইয়াবা বাংলাদেশি ট্রলারে স্থানান্তর হয়। এসব ট্রলারে ইয়াবা এসে টেকনাফে জমা হয়। পরে তা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যায়।

তিনি জানান, আটক যাত্রী ইমাম হোসেনের পাকস্থলিতে লুকানো ইয়াবা অবশেষে তার পায়ুপথ দিয়ে দফায় দফায় ১০০ পোটলায় বের করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম হোসেন জানান, রোববার ভোর ৫টায় তিনি এগুলো ৬টি সাগর কলার সঙ্গে গিলে খান। খাওয়ার পর তার খাদ্যনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বমি ঠেকানোর জন্য এবোমিন জাতীয় ট্যাবলেট খান। গলায় ব্যাথা নিয়েই সড়কপথে তিনি কক্সবাজার আসেন এবং দুপুরে প্লেনে ওঠেন। তার এক সহযাত্রী নুরুল আমিন কক্সবাজারে আটক হন। ইমাম হোসেনের ব্যাগ তল্লাশি করা হলেও পেটের ভেতর লুকানো ইয়াবা ধরা না পড়ায় ঢাকা আসতে পেরেছেন। ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এই ইয়াবার পোটলা গিলেছেন।

 ইমাম হোসেন আরো জানান, মাছ ধরার সময় মিয়ানমার থেকে আসা ট্রলার থেকে এসব ইয়াবা বাংলাদেশি ট্রলারে স্থানান্তর হয়। এসব ট্রলারে ইয়াবা এসে টেকনাফে কোথাও জমা হয়। পরে তা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তিনি এই প্রথম পেটে করে ইয়াবা এনেছেন। ঢাকায় তিনি প্রথম এসেছেন। তবে কেউ একজন তাকে রিসিভ করার কথা।

জানা যায়, একসঙ্গে ১০০টি পোটলা হওয়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকায় এগুলো বের করতে ঝুঁকি আশঙ্কা থাকায় অপারেশন করার কথাও বিবেচনা করা হয়েছিল।পরে ডাক্তারের রক্ষণমূলক চিকিৎসার অংশ হিসেবে ঔষধ খাইয়ে এগুলো বের করার সিদ্ধান্ত হয়। এই ঔষধ খাওয়ার এক ঘণ্টা পর হতে প্রায় ১০ ঘণ্টায় দফায় দফায় এই পোটলাগুলো বের হয়। সর্বশেষে পোটলা বের হয় সোমবার ভোর ৫টায়। পোটলাগুলো পায়ুপথের ময়লাযুক্ত অবস্থায় একটি গামলায় রাখা হয়। ইমাম হোসেন নিজে এগুলো পরিষ্কার করেন। বার বার টয়লেটের চাপে এবং অতিরিক্ত ফ্লুইড যাওয়ায় যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রতি পোটলা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এগুলো পেটে হজম না হয়। প্রথমে পাতলা পরিষ্কার প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা হয়। দ্বিতীয় স্তরে মোটা লাল রঙের স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো হয়। তৃতীয় স্তরে আবার হালকা ও নরম প্লাস্টিক দিয়ে আটকানো হয়। তবে পোটলাগুলো মসৃন।

ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শুল্ক আইন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

মতামত...