,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ই-কমার্স ব্যবসায় ধস

ধস নেমেছে এফ-কমার্স ব্যবসায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বন্ধ থাকায় । এফ-কমার্স হলো মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৫ হাজারেরও অধিক ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ রয়েছে; যার মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা করা হতো।  এসব পেজের মাধ্যমে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, পোশাকসহ ব্যবহার্য প্রায় সব পণ্য বিক্রি করতো ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে গত ১৮ই নভেম্বর থেকে নিরাপত্তার কারণ এ সরকার ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপগুলো বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ই-কমার্স ব্যবসা ও ফেসবুকনির্ভর  ব্যবসায় ভাটা পড়ে। লাইফস্টাইল পণ্য বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইজি ঢাকার’ স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান বলেন, চারজন কর্মচারীসহ আমরা ছয়জন কাজ করি। এ মাসে আমরা নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছিলাম। তিন লাখ টাকার পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ১৫ দিনেই তার অর্ধেক পূরণ হয়েছে। কিন্তু ফেসবুক বন্ধ করে দেয়ায় এখন পুরো ব্যবসাই বন্ধ রয়েছে।
‘বাংলার গোঞ্জি’র স্বত্বাধিকারী ইয়ারুজ্জামান বলেন, তাদের ফেসবুককেন্দ্রিক প্রতিদিন ২০টির অধিক অর্ডার আসত। ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফুডহাব’ এ প্রতিষ্ঠানের সিইও মাসুম ইবনে শিহাব বলেন, দুই মাস ধরে তারা ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় খাবার সরবরাহ করতেন। প্রতিদিন তাদের ৭০ থেকে ৮০টি অর্ডার আসতো। ফেসবুক বন্ধ হওয়াতে তাদের ৮০ শতাংশ অর্ডার কমে গেছে।
শিশুদের প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান ‘মাহরিনস ওয়ার্ল্ড বিডি ডটকম’-এর সিইও এস এ হায়দার বলেন, প্রায় ৬ মাস ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা পণ্য বিক্রি করে আসছি। ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় এখন বিক্রি ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। কর্মচারীদের নিয়ে ক্ষতির মুখে রয়েছি।
‘রিইস্ট বেল্টস’-এর  আজহারুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, তারা ফেসবুকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘড়ি বিক্রি করতেন। এখন ব্যবসা পুরো বন্ধ হয়ে গেছে।
‘আপনজন ডটকম’-এর সিইও এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর আসিফ আহনাফ বলেন, ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় তাদের বিক্রি ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
বাংলাদেশে অন্য সামাজিক অ্যাপগুলো থেকে ফেসবুক অনেক জনপ্রিয় এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও অধিক। যদিও বিভিন্ন উপায়ে কিছু ব্যবহারকারী এটি চালালেও বড় একটি অংশ ফেসবুকের বাইরে রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যেসব পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রায় এক কোটি সত্তর লাখ ব্যবহারকারী রয়েছেন বাংলাদেশে। আর ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩০-এর কোটায়। সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও ব্যবসা সম্প্রসারণে ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এটিকে ব্যবহার করেন। তারা পড়েছেন ক্ষতির মুখে। পণ্য বিক্রি বাড়াতে তারা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন। ফেসবুক বন্ধ থাকায় তাদের বিক্রি কমেছে। বিদেশি পণ্য ডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা মুরতাদা বিন আল-রাধিন বলেন, তাদের প্রায় শতভাগ অর্ডার আসে ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুকের মাধ্যমে যে ব্যবসাটা হতো তা এখন একদম শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে যারা পুরোপুরি ফেসবুকের ওপর নির্ভর করে পণ্য বিক্রি করতেন, সেসব এফ-কমার্স ব্যবসায়ীদের অনেকের ব্যবসা পুরোটাই বন্ধ, কেউ রয়েছেন চরম ক্ষতির মুখে।
এদিকে ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয় ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে। সমালোচনার মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত মঙ্গলবার বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, ফলে শিগগির ফেসবুক খুলে দেয়া হবে। কিন্তু কোন দিনক্ষণ তিনি জানাননি। সংসদে স্বতন্ত্র এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী ফেসবুক খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। অ্যাপগুলো বন্ধ না করে এগুলোর অপব্যবহারকারীদের মোকাবিলা করার কথাও বলেছেন সমালোচকরা। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে অ্যাপগুলো খুলে দেয়ার।
ওয়েবেক্সবিডি ওয়েব সল্যুয়েশনের সিইও এবং বেসিসের সদস্য খালিদ বিজু বলেন, আমাদের দেশে মূলত ই-কমার্স ব্যবসা এবং এফ-কমার্স ব্যবসা মিলিয়ে ফেলা হয়। ই-কমার্স ব্যবসা হলো মূলত ওয়েবসাইটকেন্দ্রিক। তারা সামাজিক মাধ্যমকে মার্কেটিংয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। আর এফ-কমার্স ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ওয়েবসাইটকেন্দ্রিক পণ্য বিক্রির পরামর্শ দেন তিনি। কৃষিপণ্যের ওয়েবসাইট আমার দেশ আমার গ্রামের প্রধান নির্বাহী সাদেকা হাসানের মতে, ব্যবসা স্থির রাখতে ফেসবুকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ওয়েবনির্ভর হওয়া উচিত।

মতামত...