,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

উখিয়ার বালুখালীর বনভূমিতে আরো একটি নতুন রোহিঙ্গা বস্তি

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া,,৭ জানুয়ারী, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্তের নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে বালুখালীর সংরক্ষিত বনভূমিতে গত ৩ দিনে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারের অধিক সদ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা-নারী পুরুষ শিশু। এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে সেখানে নতুন করে আরো একটি নতুন বস্তি তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক ঝুঁপড়িঘর তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নতুন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অভিযোগ কুতুপালং থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়েছে। তারা পশ্চিম বালুখালীতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নতুন রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে ওঠায় অনুপ্রবেশ আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

আজ  শনিবার দুপুরে বালুখালীর বনভূমিতে গড়ে উঠা বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত বনভূমিতে নতুন করে ঝুঁপড়ি নির্মাণ করছে। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা গাছের ছায়ায় বসে আছে। জানতে চাওয়া হলে মংডুর হাতিরপাড়া থেকে আসা তৈয়বা বেগম (২২) জানায়, তার স্বামী শাহাব মিয়াকে বর্মী সেনারা কোথায় নিয়ে গেছে তার জানা নেই। ৭ মাসের শিশু সন্তান নিয়ে মামার সাথে কুতুপালং বস্তি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি ঝুঁপড়িতে কোন রকম রাত কাটিয়েছি। সকালে বনকর্মীরা তাদের ঝুঁপড়িঘরটি সহ আশে পাশের অসংখ্য ঝুঁপড়ি ভাংচুর করে দেয়। নিরূপায় হয়ে বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছি। সে জানায়, তার সংসারে শিশুটি ছাড়া আর কেউ নেই। কে তাকে আশ্রয় দেবে একথা বলে কেঁদে উঠলেন। মংডু থেকে আসা লায়লা বেগম (৩২) জানায়, মরিয়ম (৭), তাহেরা (৫), সোহানা (৪) ও রেহেনা (২) সহ ৪ সন্তান নিয়ে গত ৩ দিন আগে তুমব্র“ সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। হাতে যে কটি টাকা ছিল তা দিয়ে একটি ঝুঁপড়ি নিমার্ণও করা হয়েছিল। কিন্তু বনকর্মীরা সেখানে তাদের থাকতে দেয়নি।

বালুখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্যের দয়ার উপরে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। তাও খোলা আকাশের নিচে। ঝুঁপড়ি বাধার মত তার কোন অর্থকড়ি নাই বলে জানান। বালুখালী বস্তির ১নং ব্লকের মাঝি করম আলী জানায়, গত ৫ দিনে প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ করে কুতুপালংয়ে জড়ো হয়। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই ঝুঁপড়ি নিমার্ণ করে কোন রকম ঠাই নিয়েছে। রাত পোহাতেই না পোহাতেই বনকর্মীরা তাদের ঝুঁপড়ি গুলো উচ্ছেদ করে দিলে এসব রোহিঙ্গারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। অসহায় অবস্থায় এসব রোহিঙ্গারা বালুখালীর বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে।

ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানায়, কুতুপালং বস্তি এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তারা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে বালুখালী এলাকায় তাদের আপাতত থাকার জন্য সহায়তা করা হয়েছে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার গফরুল্লাহ জানান, সদ্য অনুপ্রবেশকারী সমস্ত রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় সীমাবদ্ধতার ভিতরে নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রশাসনের উচিত ছিল। তা না হলে এসব রোহিঙ্গারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যা এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকা রয়েছে। উপজেলা বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, পালংখালী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য নুরুল আবছার অতি উৎসাহী হয়ে বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের পূণবাসন করেছে। বিষয়টি বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে পুনবাসন করছে প্রশাসন ইচ্ছে করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যথায় এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন বিধায় এ ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মতামত...