,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

উখিয়ায় হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

উখিয়া সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: উখিয়ায় হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। এসময় ডাক্তার, নার্স, আয়া, নাইট গার্ড সবাই মিলে ১২/১৩ জন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। মাত্র চার সন্ত্রাসী দ্বিতীয় তলায় উঠে অস্ত্রের মুখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তিকৃত মায়ের সাথে থাকা ৭ম শ্রেণির ঐ ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে। এঘটনায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

 মঙ্গলবার ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা দিকে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১নং বেডে কথা হয় ছাত্রীর মার সাথে। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আমার মেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বাপের সাথে আমাাকে দেখতে আসে হাসপাতালে। ঘরে ছেলে মেয়ে ছাড়া কেউ না থাকায় স্বামী রাতে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব সোনারপাড়া গ্রামের বাড়ি চলে যায় মেয়েকে হাসপাতালে রেখে। তিনি আরো বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওয়ার্ড থেকে পার্শ্ববর্তী বাথরুমে যাওয়ার সময় হাসপাতাল করিডোর থেকে তার মেয়েকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের রোগীরা চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও নাইট গার্ডরা হাসপাতালের উত্তর পাশের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন কবরস্থান থেকে রাত ১টার দিকে বিবস্ত্র অবস্থায় ঐ স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে । ছাত্রীর পিতা বলেন, একটি সরকারি হাসপাতালে সব কিছু থাকার পরও কি করে সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের দোতলায় উঠে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ ঘটালো ? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের বেডে এসে আমার স্ত্রীকে এই ঘটনায় কোন ধরনের বাড়াবাড়ি করলে শেষ করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে গেছে। এ কারনে মেয়েকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসি। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ার পরও স্ত্রীকে গতকাল দুপুরে ঘরে নিয়ে আসি।

উখিয়া হাসপাতালের প্রধান সহকারী ফরিদুল আলম ঘটনার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল এলাকায় সরকারি দুইজন, আইওএম এর দুইজন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দুইজন ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের একজন আনসার ও ভিডিপি সদস্যসহ মোট সাত জন নাইট গার্ড কর্মরত ছিল। এত নিরাপত্তার পরও কিভাবে সন্ত্রাসীরা হাসপাতাল থেকে রোগীর মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করলো এবং ঘটনা সম্পর্কে নাইট গার্ডরা কাউকে কিছু জানালো না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঐ রাতে উখিয়া হাসপাতালে জররি বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার আরিফা মেহের রুমী হাসপাতাল থেকে কিশোরীকে উঠে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন থাকায় হাসপাতালের কোয়ার্টার ছেড়ে কক্সবাজার আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে কয়েক দফা পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কোন অভিযোগ না আসলেও অতি দ্রুত লম্পট সন্ত্রাসীদের আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার মিজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী পরিবারকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মতামত...