,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি: মেয়র নাছির

নাছির মীর, ২২ এপ্রিল, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মহানগরীতে শুক্রবারের জলাবদ্ধতার কারণ হিসাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন  বলেন, ‘আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে দুপুর বারটা পর্যন্ত প্রায় ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ আমাদের যে খাল নালাগুলো রয়েছে সাধারণত তার সহনীয় পর্যায় হচ্ছে ১০ মিলিমিটার। এটা তো একটা সমস্যা। দ্বিতীয়ত জোয়ার ছিল। এখানে জোয়ারের উচ্চতাও ছিল বেশি। জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত নামতে পারে না। আজকেও সেই সমস্যা ছিল।

মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন  বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন খাল, নালা-নর্দমা দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বাস্তবতা হচ্ছে এ ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি তো দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক বছর নয় মাস আগে। এর আগে থেকেই তো সমস্যাগুলো ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ সমস্যাগুলোর রাতরাাতি তো পরিবর্তন সম্ভব না। তবে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী দু ধরনের লক্ষ্য রেখেই এগুচ্ছি। স্বল্প মেয়াদের মধ্যে আছে খাল-নালাগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। এজন্য আমাদের পরিচ্ছন্ন টিম কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে জনগণ দায়িত্বশীল না হলে খুব বেশি সুফল আসবে বলে মনে করি না। খাল পারে যারা বসবাস করেন তারা তাদের ময়লা-আর্বজনগুলো খালেই ফেলে। এই যেমন চাক্তাই খালের খনন করেছিলাম। খননের উদ্বোধনের দিন মিডিয়াও উপস্থিত ছিল সেখানে। কিন্তু ক’ দিন পরেই মানুষের ফেলা বিভিন্ন ময়লা-আর্বজনার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সেই জায়গায় সচেতনতার প্রয়োজন আছে। আমি চেষ্টা করছি। জনগণের সহযোগিতা লাগবে।

মেয়র প্রশ্ন রেখে বলেন,চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা কেন হচ্ছে? ওখানে ড্রেনের উপর বিভিন্ন স্থাপনা করা হয়েছে। নালার উপর বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। এজায়গার ড্রেনটা অনেক বড় ছিল। কিন্তু সংকুচিত করা হয়েছে। এজন্য এখানে পানির স্বাভাবিক গতিপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এভাবে একেক জায়গায় একেক কারণে জলাবদ্ধতা হচ্ছে।

মেয়র বলেন,চট্টগ্রাম মহানগরীতে ‘পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ২০ বছর পার হলেও ১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপহ্ম্যান বাস্তবায়ন করা হয় নি। আগে শহরে অনেক জলাশয় ও পুকুর ছিল। এখন নেই। এভাবে অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে দীর্ঘমেয়াদী পকিল্পনার আলোকে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করছি সেগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবেন। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর খালগুলোর মুখে পাম্প হাউসসহ স্লুসগেইট স্থাপন করা হবে। একনেকে অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়টি এ মাসে চূড়ান্ত হবে।

মতামত...