,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

একটি পরিবারের স্বপ্ন ভংগের কাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ নৌ কর্মকর্তা রফিকুল্লাহ আনসারীর সাধ ছিল ছেলে তাঁর মতোই সমুদ্র জয় করবে। ছেলে বেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী নজিবুল্লাহ আনসারীও পিতার স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে রূপান্তর করে সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। রীতিমতো স্কলারশিপ নিয়েই মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের আনন্দে আত্মহারা পিতা রফিকুল্লাহ আনসারীসহ পরিবারের সবাই যখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, ঘরের ছেলে কখন ঘরে ফিরবে ভেবে, ছেলে খবর পাঠালো, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সমুদ্র জয়ের ইচ্ছা তার উবে গেছে; আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের খপ্পরে পড়ে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারী হয়ে গেল আইএস যোদ্ধা নজিবুল্লাহ। এ খবর এতদিন সীমাবদ্ধ ছিল তার পরিবারের চার দেয়ালের মাঝে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা গুলশানে এবং ঈদের দিন শোলাকিয়ায় বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার পর পরিবার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন যুবকদের তালিকা করতে গিয়ে পুলিশের অনুসন্ধানে বিষয়টি উঠে আসে।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে জঙ্গি সম্পৃক্ততার তথ্য মেলার পর পুলিশ যে ১০ জনের তালিকা ও ছবি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে ৮ নম্বরে আছে নজিবুল্লাহ আনসারীর নাম ও ছবি। টেলিভিশনে সন্তানের ছবি দেখে গত ১০ জুলাই সিএমপির ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা সাবেক নৌ কর্মকর্তা রফিকুল্লাহ আনসারী।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, সন্দেহ নেই। যে সন্তান মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা, একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাকে জঙ্গি বানিয়েছে। দেড় বছর ধরে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ ছিল না। তার বাবাও ভেবেছিলেন, ছেলে যেহেতু ফিরেই আসবে না, খামোখা জিডি করে আর কি লাভ। কিন্তু সম্প্রতি নিখোঁজ দশ জনের তালিকায় ছেলের ছবি দেখে নিকটজনদের সাথে আলোচনা করে গত ১০ জুলাই তার পিতা আমাদের থানায় একটি জিডি করেন। ইপিজেড থানা সূত্রে জানা গেছে, নজিবুল্লাহর গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনাধরা গ্রামে। চাকরি সূত্রে তার বাবা রফিকুল্লাহর বেশিরভাগ সময় কেটেছেন চট্টগ্রামেই। নজিবুল্লাহর জন্মও ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম নাবিক কলোনিতে। শিক্ষা জীবন শুরু হয় হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে। শৈশব থেকে লেখাপড়ায় মেধাবী নজিবুল্লাহ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। রফিকুল্লাহর জিডির বরাত দিয়ে ওসি ইপিজেড জানান, উচ্চ শিক্ষার্থে মালয়েশিয়া মেরিন একাডেমিতে পড়তে যান নজিবুল্লাহ। সেখানে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্কলারশীপও পান । মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ২০১২ সালে একটি বিদেশী জাহাজে নাবিক হিসেবে যোগ দেন নজিবুল্লাহ। সে পর্যন্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল তার। কিন্তু জাহাজ থেকে হঠাৎ একদিন ইরাকে চলে যান। সেটা প্রায় দেড় বছর আগের কথা। পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তার সন্ধানে যখন পরিবারের সদস্যরা উদগ্রীব, সাত মাস আগে নজিবুল্লাহ তার ছোট ভাইয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি টেক্সট ম্যাসেজ পাঠায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাকে মাফ করে দিও। জীবনে আর কখনো দেখা না-ও হতে পারে। আমি ইরাকে আইএস-এ যোগ দিয়েছি।’

ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নৌ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রফিকুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও তিনি চট্টগ্রাম নাবিক কলোনিতে স্থায়ীভাবে সপরিবারে আছেন। গত ১০ জুলাই নজিবুল্লাহর সন্ধান চেয়ে তার বাবা ইপিজেড থানায় জিডি করেন। জিডিটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই জাহেদুল্লাহ জামানকে। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ছেলের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন ও তার সন্ধান জানতে চান।’

 

মতামত...