,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এডভোকেট বাপ্পী হত্যার দায়ে কথিত স্ত্রী রাশেদাসহ ৬ কিলার গ্রেপ্তার

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বিয়ের কাবিননামায় স্বাক্ষর নিতে না পেরে এডভোকেট ওমর ফরুক বাপ্পীকে হাত পা বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে কথিত স্ত্রী রাশেদা বেগম ও তার সহযোগীরা। ঘটনার দুই দিনের মাথায় বাপ্পী হত্যায় অংশ নেয়া রাশেদা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছয় আসামিকে আইনের আওতায় আনতে টানা অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা।

আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পীর মক্কেল রাশেদা বেগম ও তার স্বামী মাদক মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেন। জামিন নিতে গিয়ে রাশেদার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে বাপ্পীর। পরবর্তীতে জামিনে বের করে রাশেদাকে নগরীর পাথরঘাটা কাজী অফিসে বিয়ে করেন বাপ্পী। সেই সময় কাবিনে টাকার পরিমাণ লেখা হয়েছিল দুই লাখ টাকা। বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যে রাশেদাকে তালাক দেন বাপ্পী। কিন্তু রাশেদার দাবি বাপ্পীর তালাকনামা ভুয়া ছিল।

সম্প্রতি বাপ্পীকে বিয়ে করানোর জন্য তার পরিবার মেয়ে খুঁজছিল। বিষয়টি শুনে প্রতিশোধ–পরায়ণ হয়ে উঠেন রাশেদা। বাপ্পীকে কৌশলে ডেকে এনে দশ লাখ টাকার একটি কাবিননামা করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার বাপ্পীকে বাসায় দাওয়াতের কথা বলে ডেকে আনেন রাশেদা। ঠিক করে রাখা হয়েছিল একজন কাজীকেও। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে কাবিননামা করতে না পেরে বাপ্পীকে খুন করেন রাশেদা ও তার সহযোগীরা।

বাপ্পী খুনের ঘটনায় রাশেদা বেগমসহ (২৭) ছয়জনকে আটকের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনের কারণ সম্পর্কে বলেছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মেট্রো) মো. মঈন উদ্দিন। গ্রেপ্তার বাকি পাঁচজন হলেন : হুমায়ূন রশীদ (২৮), আল–আমিন (২৮), মো. পারভেজ প্রকাশ আলী (২৪), আকবর হোসেন প্রকাশ রুবেল (২৩) এবং জাকির হোসেন প্রকাশ মোল্লা জাকির (৩৫)।

রাশেদা বলেন, আট বছরের অধিক সময় ধরে হুমায়ূনের সাথে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আমি তাকে বলেছি, বাপ্পীর জন্য তো মেয়ে খুঁজছে, আমি এখন কি করব ? তখন হুমায়ূন আমাকে পরামর্শ দিয়েছে নতুন করে একটি কাবিননামা করে তাতে টাকা বাড়িয়ে নিতে পারলে লাভ হবে। তখন আমরা বাপ্পীকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করি।

বাপ্পী হত্যার নেপথ্যের কারণ জানাতে সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মঈন উদ্দিন বলেন, বাপ্পী গোপনে বিয়ে করে রাশেদাকে স্বীকৃতি দেননি। তিনি রাশেদার সঙ্গে সংসার করতে চাননি। অন্যদিকে রাশেদা তাকে ছাড়তে চাননি। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করেছেন। বাপ্পী ভুয়া তালাকনামা আদালতে দাখিল করে জামিন নেন।

পিবিআই পরিদর্শক এনায়েত কবির জানান, হুমায়ূনকে ভাই সাজিয়ে রাশেদা ২০ নভেম্বর বাকলিয়ায় কেবি আমান আলী রোডের বাসাটি ভাড়া নেন। ওই বাসায় ঘটনার দিন (২৪ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বাপ্পী এবং রাশেদা ছিলেন। এসময় হুমায়ূন অন্য চারজনকে নিয়ে ওই বাসায় যান। বাসায় ঢুকে রাশেদার বুকে ছোরা ধরার নাটক করেন। তখন বাপ্পী চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে হাত–পা, মুখে টেপ লাগিয়ে দেন। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বাপ্পীর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে বাপ্পীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন তারা।

পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার ভোর রাতের মধ্যে হত্যা করে সবাই বেরিয়ে যান। হুমায়ূনকে নিয়ে রাশেদা বহদ্দারহাটে বোনের বাসায় গিয়ে এক রাত থাকেন। পরদিন দু’জনে কুমিল্লার মিয়াবাজার গিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখান থেকে রাত পৌনে দুইটায় সৌদিয়া বাসে করে ঢাকায় রওয়ানা দেন। ভোরে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছেন। সেখান থেকে টঙ্গীতে যান। টঙ্গীতে গিয়ে কাঙ্খিত মানুষের দেখা না পেয়ে হুমায়ূন ও রাশেদা আবারো কুমিল্লার মিয়াবাজারে ফিরে আসেন।
রাশেদা এবং হুমায়ূন ছাড়া বাকি চারজন সিইপিজেডে পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। বাপ্পীকে ভয় দেখানোর জন্য তাদের হুমায়ূন নিয়ে গিয়েছিলেন। রাশেদা তাদের চিনতেন না বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈন। আটক ৬ জনকে আজ (মঙ্গলবার) আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তা মঈন।

প্রকাশ, গত শনিবার সকালে নগরীর চকবাজার থানার কেবি আমান আলী রোডে বড় মিয়া মসজিদের সামনে একটি ভবনের নিচতলার বাসা থেকে বাপ্পীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার হাত–পা ও মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। বাপ্পী চট্টগ্রাম আদালতে আইন পেশায় ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি বারে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি বান্দরবানের আলিকদম উপজেলার ডা. আলী আহমেদ এবং মনোয়ারা বেগমের ছেলে। এই ঘটনায় বাপ্পীর বাবা বাদি হয়ে নগরীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মতামত...