,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রাক-বাজেট আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩এপ্রিল, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: এনবিআর চেয়ারম্যান জনাব মো: নজিবুর রহমান এর সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রির ২০১৭-১৮ প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আজ ২৩ এপ্রিল দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে সিএমসিসিআই প্রেসিডেন্ট জনাব খলিলুর রহমান’র সভাপতিত্বে এনবিআর চেয়ারম্যান জনাব মো: নজিবুর রহমান এর সাথে ২০১৭-১৮ প্রাক বাজেট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় কর এবং কাস্টম কমিশনারবৃন্দ, সিএমসিসিআই পরিচালক, সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিএমসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব এ.এম. মাহবুব চৌধুরী সহ পরিচালক সর্বজনাব মো: সাহাবউদ্দিন আলম, আবুল বাশার চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, মোহাম্মদ আব্দুছ ছালাম, শফিক উদ্দিন, আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া, এম.এ.মালেক, লিয়াকত আলী চৌধুরী, মো: লোকমান হাকিম, মো: ডব্লিউ আর.আই.মাহমুদ এবং সুলতানা শিরিন আক্তার।

সূচনা বক্তব্য পাঠ করেন সিএমসিসিআই প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান। পরে জনাব এ.এম. মাহবুব চৌধুরী বিস্তারিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন।

জনাব নজিবুর রহমান তার বক্তব্যে নীতিগতভাবে, মেট্রোপলিটন চেম্বারের অন্যতম প্রস্তাব ৫ সদস্য বিশিষ্ট আরবিট্রেশন কমিটি গঠন অনুমোদন করেন। উল্লেখ্য যে, ফ্রেইট ফরওয়ার্ড কর্তৃক রপ্তানী পন্য ডেলিভারীর বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা না আসার ফলে রপ্তানীকারক বিপাকে পড়ে । সংশ্লিষ্ট এস.আর.ও নং তে এন.বি.আর আরবিট্রেশন কমিটি গঠনের কথা বলা আছে। তিনি আগামীতে সংশ্লিষ্ট এনবিআর সদস্য/স্থানীয় কমিশনার বৃন্দের সাথে নিয়মিত মতবিনিময়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারে আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও রাজস্ব বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মো: নজিবুর সাহেব রহমান শত ব্যস্ততার মাঝেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ বাজেট নিয়ে মত বিনিময়ের জন্য আমাদের মাঝে উপস্থিত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একই সাথে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সিএমসিসিআই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কর্পোরেট করদাতা, বড় বিনিয়োগকারী, বৃহৎ আমদানি- রপ্তানীকারক এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, তথা নিয়োগদাতাদের অভিজ্ঞতার আলোকে, মতামত/পরামর্শ দিয়ে রাজস্ব আহরনে সহায়ক এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব নীতি প্রনয়নে সরকারকে সহায়তা দিয়ে আসছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সরকারকে সহায়তা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একইসাথে ব্যবসায়ী মহল, কর প্রদানে সহায়ক এবং ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ আশা করে। কর আদায়কারী এবং কর প্রদানকারীর মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বেশি রাজস্ব আদায় কাম্য। আগামী বাজেট প্রনয়নে, আজকের বাজেট আলোচনার প্রতিফলন কাম্য।

আমি গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি বিষয়ে, রাজস্ব বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। কারণ ব্যবসায়ী মহল কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তিত যার মধ্যে অন্যতম-

সার্কভূক্ত দেশ সহ এতদঞ্চলে বর্তমানে (১) ভ্যাট হার ৭% হলেও আমাদের ভ্যাট হার ১৫%। (২) একই ভাবে আমাদের ব্যাংক ঋণের সুদের হারও সর্বোচ্চ এবং (৩) ব্যবসা ব্যয় ও সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত। এ অবস্থায় ভ্যাটের হার ৭% র্ধায্য করে,ব্যাংক ঋণের সুদের হার না কমানো হলে,সামগ্রিক ব্যবসা ব্যয়কমবে না এবং বিনিয়োগে গতি আসবে না।ব্যবসায়ী মহলকে বাঁচিয়ে রেখেই সরকারকে রাজস্ব আহরণ করতে হয়। ব্যবসায়ী মহল অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়লে, সরকার কোন ভাবেই লাভবান হবে না। প্রস্তাবিত ভ্যাটের নেতিবাচক প্রভাব যদি ব্যবসায়ী মহলের উপর পড়ে সে ক্ষেত্রে অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে খেলাপী ঋণের পরিমান বহুগুন বেড়ে যাবে।

সিএমসিসিআই স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় বিশেষ আগ্রহী। কারন স্থানীয় উদ্যোক্তাগণ বিদেশি বিনিয়োগকারীর মত সকল দায়-দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসা করলেওসমান সুযোগ- সুবিধা ভোগ করেন না। নানা দায়বদ্ধতার কারনে স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিদেশীদের মত অতিসহজে শিল্প-কারখানা বন্ধ করতে পারেন না। বর্তমানে উন্নত এবং উন্নয়নশীল সকল দেশেই প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রাখতে, সময় সময় বিশেষ নীতি সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে, যা আমাদের জন্যও অনুকরনীয় হতে পারে। যেহেতু, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দায়ভার অনেক বেশি,এ অবস্থায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানী বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রাখতে হলে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিকল্প নাই।
অডিট নীতিমালা না থাকার ফলে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী- কর প্রদানকারী হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে আমাদের জানায়। গত কয়েক বছর যাবত আমরা এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে আসছি। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, অডিটের বিপক্ষে নয়, তবে একই করদাতার ফাইল বারবার অডিটের আওতায় আসা যুক্তি সংগত মনে হয় না। এছাড়া বর্তমান অডিট ব্যবস্থা জটিল, সময় ক্ষেপন এবং পুরানো আমলের, যা ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপ। বিষয়টি সহজতর হওয়া কাম্য এবং সংস্কার প্রয়োজন। জেলা কর অঞ্চলের অধীন একটি অডিট শাখার মাধ্যমে, অডিটের জন্য নির্ধারিত ফাইল ওয়ান ষ্টপ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হলে করদাতার কাছে সরকারের ভাবমূর্তি আরও বাড়বে।

মতামত...