,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের ৪ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদকে লাঞ্ছনায় জড়িত ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের চার সদস্যকে শাস্তি হিসেবে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। ওই চারজন হলেন- ফরহাদ আলম, স্বর্ণেন্দু বিকাশ ধর, সাগর দাশ ও মো. ফোরকান।

সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নগর কমিটির নেতারা তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সেই সুপারিশের কথা তুলে ধরে। গত শনিবার লালদীঘি মাঠে বসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পর টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় এক দল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অসন্তোষের মধ্যে গত রোববার মোছলেম উদ্দিন আহমদের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসেন নগর ছাত্রলীগের নেতারা। এর একদিন বাদে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে শাস্তির সিদ্ধান্ত জানান মহানগর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে চারজনকে বহিষ্কারের সুপারিশ তারা করেছেন, তারা ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের ডিগ্রি ও অনার্সের শিক্ষার্থী। সংগঠনের কোনো পদে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ আছে। নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, সংগঠনে শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় চারজন কলেজ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের শাস্তি প্রদানের লক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ করেছি। নুরুল আজিম রনি বলেন, এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত যাচাই বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেদিন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস ভিড়ের মধ্যে ধাক্কায় পড়ে যাওয়ার পর মোছলেম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করা হয়। ইলিয়াসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মহানগর নেতারা বলেন, তিনি তো ঘটনার শিকার। তাকে ধাক্কা দেয়ার পরই অন্যরা এ ঘটনা ঘটায়। সংবাদ সম্মেলন থেকে মোছলেম উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে লজ্জা, ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। চট্টগ্রাম নগর সভাপতি ইমু বলেন, ঘটনার ভিডিও ও স্থির চিত্র দেখে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দক্ষিণ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার কয়েকজন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীকে হাতাহাতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নেজাম উদ্দিন ও সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন হীরাকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী কলোনী এলাকা থেকে গত রবিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় অপর আসামি নুরনবী শাহেদ পলাতক রয়েছে। কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক জসিম উদ্দিন  বলেন, হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি শাহেদকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। সে পলাতক রয়েছে ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় পেছনে দাঁড়ানো এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধাক্কা দেয়ার জেরে লাঞ্চিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। ওই ঘটনার পর সভাস্থল লালদীঘির মাঠ থেকে বেরিয়ে সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আফছারুল আমীনের গাড়িতে করে ফেরার সময় স্টেডিয়াম মোড় নেভালের সামনে তিনটি মোটর সাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা গাড়িটির পথরোধেরও চেষ্টা করে। এ সময় ডা. আফসারুল আমীন গাড়ি থেকে নেমে একটি মোটর সাইকেল ধরে ফেললে তারা পালিয়ে যায়। মোটর সাইকেলটি ঐ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আফছারুল আমীন এমপি কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মতামত...