,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এলাকার স্বার্থ রক্ষা করেই বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা মাসুদের

s alam meetingনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, দেশের প্রচলিত পরিবেশ আইনসহ অন্যান্য নীতিমালা অনুসরণ, এলাকাবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যয়বহুল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) নগরীর আসকার দীঘির পাড়ের একটি হোটেলে প্রকল্প এলাকা বাঁশখালীর কয়েকশ মুরুব্বি, ভূমি মালিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে পুরো বিশ্বের কাছে বাঁশখালী উপজেলা বিশেষ পরিচিতি পাবে। এই নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বাঁশখালী অর্থাৎ চট্টগ্রামকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য একটি মহল তৎপর।

দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। জমি কেনা শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগেই গত সোমবার পাল্টাপাল্টি দুই পক্ষের সমাবেশে পুলিশের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চার এলাকাবাসী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়।

নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং তাদের পোষ্যদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার খরচ ও তাদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভায় ঘোষণা দেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

পৃথিবীর কোথায় এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু আছে এবং ওই সব এলাকায় চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে পরিবেশের যে কোনো ক্ষতি হয়নি সে ব্যাপারে একটি ভিডিওচিত্র তৈরি করা হবে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে। তারপর সেটি বাঁশখালীর স্থানীয় জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য দেখানো হবে হাটে-বাজারে।এছাড়াও পরিবেশের ওপর আদৌ ক্ষতিকর কি না সেটি সরেজমিনে যাচাই করার জন্য ভারত ও চীনের নামকরা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্যে এলাকাবাসীদের একটি দলকে শিগগির পাঠানো হবে বলে জানান মাসুদ। বিদেশ সফরের এই টিমে কারা থাকবেন সেটি নির্ধারণ করবেন এলাকাবাসীদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি।

সভায় এলাকাবাসী সংঘর্ষের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। প্রকল্প এলাকার জমির মালিক রুবেল চৌধুরী বলেন, ‘যারা বিরোধিতা করছেন তারা বলে বেড়াচ্ছেন যারা জমি বিক্রি করেছেন তারাই সব সুবিধা ভোগ করছেন, আর যারা আন্দোলন করছেন তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। সুবিধা পাওয়ার জন্যই আন্দোলন করছেন তারা। আর এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণ্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী।’

জমির আরেকজন মালিক আসিফ চৌধুরী বলেন, ‘যারা এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন ও মানুষ খুন করছেন তাদের ছাড় দেওয়া হলে এলাকার পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে।’তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গণ্ডামারা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিদোয়ানুল হক বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যদি বাঁশখালীর ৮০ ভাগ উপকার হয় এবং ২০ ভাগ ক্ষতি হয় তা-ও বাঁশখালীবাসী প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা করবে এস আলম গ্রুপকে।’

প্রকল্পের জমি কেনাসহ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিন উপস্থিত সবার কাছে জানতে চান কী বলে এলাকাবাসী জমির বায়না ও রেজিস্ট্রি দিয়েছিল। তখন উপস্থিত কয়েকশ’ এলাকাবাসী সমস্বরে জবাব দেন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যই তারা জমি বিক্রি করেছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এস আলম গ্রুপের পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিক, স্থানীয় মুরুব্বি হাজি নওশা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও গণ্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুদ্দৌলা চৌধুরী, জমির মালিক ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আবছার চৌধুরী, গণ্ডামারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শামসুল আলমসহ গণ্ডামারা ইউনিয়নের নয়জন ইউপি মেম্বার ও ভূমির মালিক।

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০৯/০০০৪৮০৪/এনবি

মতামত...