,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এসপি বাবুল আকতারকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ এসপি বাবুল আকতারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

babul aktrআজ মঙ্গলবার ০৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়। জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় ওই প্রজ্ঞাপনে।

বাবুল আকতারের এই অব্যাহতির ফলে তাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে চলে আসা নাটকের আপাত অবসান হলো।

প্রকাশ, চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার স্ত্রী খুন হওয়ার পর তাকে ঘিরে ওই নাটক জমে ওঠে ছিল।

এসপি বাবুল আকতারকে চাকরি থেকে অব্যাহতির ব্যাপারে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

পদত্যাগপত্র আর তা প্রত্যাহারে এসব নাটকীয়তার মাঝেই বাহিনী থেকে সরে আসতে হলো পুলিশের ২৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে তার প্রত্যাহারপত্রটি নয়, পদত্যাগপত্রটিই গৃহীত হয়েছে বলে জানাগেছে।

বাবুলের পদত্যাপত্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অনুমোদন এলে মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘আগে বাবুল আক্তার অব্যাহতি চেয়েছিলেন, এখন তিনি যোগদান করতে চাচ্ছেন। আমরা সব আবেদনই নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেবো’।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে বদলি হয়ে আসার দুই দিন পর গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্যের। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গত ২৪ জুন গভীর রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ভূঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনায় তা রুপ নেয় নাটকীয়তায়।

১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তাকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই জিজ্ঞাসাবাদের সময় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন বাবুল। প্রায় দেড় মাস সেই পদত্যাগপত্র পুলিশ সদর দফতরে থাকার পর কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এরই মাঝে গত ৩ আগস্ট বাবুল আক্তার তার কর্মস্থল পুলিশ সদর দফতরে গিয়ে লিখিতভাবে জানান, তিনি কাজে যোগ দিতে চান।

তবে ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না পেয়ে পরদিন ৪ আগস্ট বাবুল আকতার পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বরাবর লিখিতভাবে যোগদানপত্র জমা দেন।

‘স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানের দেখাশোনার জন্য কর্মকর্তাদের পরামর্শমতো আমি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছি। আমার দু’টি সন্তানকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে আনা নেওয়ার কাজটিও আমাকে করতে হয়। তাই অনুমোদিত অনুপস্থিতির সময়টাকে ছুটি হিসেবে গ্রহণ করে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক’। এমন অনুরোধ জানিয়েই যোগদানপত্র লিখেছিলেন বাবুল।

আবার গত ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে দেওয়া অপর এক আবেদনে বাবুল বলেছিলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিনি, বাধ্য হয়েছি’।

যদিও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলে আসছিলেন, ‘বাধ্য করার প্রশ্নই ওঠে না, বাবুল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। অনেক দিন অপেক্ষা করে সেই পদত্যাগপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে’।

আজ মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

তবে, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে বাবুলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার সাথে যোগাযোগ করে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েও এ প্রতিবেদক ব্যর্থ হয়েছেন।

মতামত...