,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

এসিড মেরে শরীর ঝলসে দেয়ার ভয় দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ,মামলা করায় মেরে পেলার হুমকি

rরাউজান সংবাদদাতা, এসিড মেরে শরীর ঝলসে দেবে এই ভয় দেখিয়ে রাউজানের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তার এক প্রতিবেশি উত্তম তালুকদার (২৬)। এই নিয়ে থানায় মামলা হলে পালিয়ে থাকা আসামি ধর্ষক মামলার বাদিকে এখন অজ্ঞাত স্থান থেকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
রাউজান থানায় রুজু হওয়া মামলার বাদি উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের জামুইন গ্রামের বাসিন্দা তপু তালুকদারের অভিযোগ তার বোন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিবেশি রণজিৎ তালুকদারের পুত্র উত্তম তালুকদার তার বোনকে এসিড নিক্ষেপ করে শরীর ঝলসে দেয়ার হুমকির মুখে গোপনে বেশ কয়েকবার ধর্ষণের সুযোগ নেয়। বার বার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের আঘাত সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে তার বোন মুখ খুলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দু’দিন এই নিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর নির্যাতিত বোনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন গত ২৯ সেপ্টেম্বর। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই বিষয়টি আবারও নিশ্চিত হয়ে রণজিৎ তালুকদারের ছেলে ধর্ষক উত্তমকে আসামি করে রাউজান থানায় গত ২ অক্টোবর নারী শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন (মামলা নং-০২(১০)১৬)।
জানা যায়, মামলার পর আদালত নির্যাতিত ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। আদালতকে ওই নির্যাতিতা তার উপর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায়, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে ধর্ষক উত্তম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পলাতক অবস্থা থেকে মামলা তুলে নিতে বাদিকে হুমকি দিচ্ছে। বাদি তপু তালুকদার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন গ্রামের বাড়িতে তার শ্রবণ প্রতিবন্ধী মা ও শিক্ষার্থী বোন প্রায় সময় একাকী থাকতো। তারা তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ধর্মীয় সাধক। অন্যরা থাকেন বিভিন্ন সময় কাজ কর্মে বাইরে। ধর্ষক প্রতিবেশি হওয়ার সুবাদে প্রায় সময় তাদের ঘরে যাওয়া আসা করতো। এই নিয়ে তার প্রতি পরিবারের কোনো সদস্য তাকে কোনো সন্দেহ করতো না। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার শিক্ষার্থী বোন কাতর অবস্থায় ঘরের এক কোণে বসে আছে। কারণ জানতে চাইলে তার বোন দীর্ঘ দিন গোপন করে রাখা ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে খুলে বলে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বলেছে ধর্ষক তার কাছে আসার সময় হাতে এসিডের বোতল নিয়ে আসতো। তাকে ভয় দেখাতো কথায় রাজি না হলে এসিড মেরে শরীর ঝলছে দেবে। এরকম হুমকির মধ্যে রেখে সে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে। বাদি বলেছেন গত ২৬ সেপ্টেম্বরও একই কায়দায় নির্যাতন করা হয়। এই বিষয়টি জেনে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি সময় নেন দু’দিন। নিশ্চিত হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অসুস্থ বোনকে ভর্তি করান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই ঘটনা শুনে রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী তার বোনের চিকিৎসায় সহায়তা করেন। তিনি এই বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দ্রুততার সাথে আসামিকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তার বোন গত ৫ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। মামলার বাদির অভিযোগ পালিয়ে থাকা আসামি প্রতিনিয়ত মামলা উঠিয়ে নিতে তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি প্রদান করছে। বিষয়টি তিনি থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন এবং এই ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সহায়তার জন্য বাদি রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন। অনুলিপি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেছেন আসামিকে গ্রেফতার করতে জোর তৎপরতা চলছে।

মতামত...