,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ওপারে চলছেই লোমহর্ষক নৃশংসতা!

rটেকনাফ সংবাদদাতা,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: সীমান্তের ওপাড়ে মিয়ানমারে থেমে নেই নৃশংসতা। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ, শিশুদের ধরে আগুনে নিক্ষেপ, ধান ক্ষেত পুড়িয়ে ফেলা, যুবকদের ধরে নিয়ে যাওয়া, যুবতী নারীদের ধর্ষণের মত নারকীয় তান্ডব চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচার তাগিদে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। সীমান্তে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরও বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রাতে এবং ভোরে কৌশলে দালালের সহায়তায় রোহিঙ্গারা আসছে।

শনিবার ভোরে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসা মংডু পোঁয়াখালীর মোঃ কাশিম, সখিনা খাতুন, দুলাই বিবি, সহারু বেগমের সাথে কথা হলে তারা জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে নারকীয় অত্যাচার চালাচ্ছে। মংডুতে গুরুতর বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে অবরুদ্ধ নারী শিশুসহ দেড় লক্ষ মানুষ। রাখাইন প্রদেশে মংডু জেলা শহরের সন্নিকটে একাধিক গ্রামে সেনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে সেখানে মানবিক সহায়তা চালুর দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে জাতিসংঘ, আমেরিকা, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনমার্কের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মীদের রাখাইন বিষয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বৈঠকে রাখাইনের মংডুতে সংগঠিত সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৪৮দিন ধরে মংডুর সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলোতে কোন আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন মিডিয়া কর্মী বা ত্রাণ কর্মীদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের অনলাইনভিত্তিক নিউজ মিডিয়া মিজিমা ডটকম জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর দখলীয় ও নিয়ন্ত্রিত উত্তর ও দক্ষিণ মংডু এলাকার অন্ততঃ ১৫টি রোহিঙ্গা গ্রাম মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বলে জানা গেছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ পথ্যসহ ত্রাণ সহায়তা প্রেরণের দাবি জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে অবস্থানরত বিদেশি কুটনৈতিকদের এ বৈঠকে সে দেশের রাষ্ট্রীয় পরামর্শ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু কি মর্মাহত হয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে সে দেশের বর্ডার গাড পুলিশ বিজিপির তিনটি স্থাপনায় সন্ত্রাসী হামলা ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে মংডু জেলার আশ পাশের ১৮৩টি ও পার্শ্ববতী বুচিডং জেলার আশ পাশে ২০৯টি স্কুল বন্ধ করে দেয় সরকার। সম্প্রতি কিছু কিছু স্কুল খুললেও এখনো ১৯০টি মত স্কুল বন্ধ থাকায় সে সব বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না এবং স্কুলগুলো দ্রুত পুনঃ চালু করতে আরাকানের প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত ৯ অক্টোবরের সন্ত্রাসী ঘটনার পর থেকে সে দেশের বিজিপির পাশাপাশি সেনাবাহিনী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে একের পর এক হামলা করে জাতিগত নির্মুল অভিযান শুরু করে বলে জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন। মংডু জেলা শহরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে একের পর এক সেনা অভিযান চালিয়ে অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের ১২শতাধিক ঘর বাড়ি, দোকানপাঠ ও অন্যান্য স্থাপনা জ্বালিয়ে দিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেনা অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ও অব্যাহত অভিযানের প্রেক্ষিতে ঐ সব গ্রামগুলোতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ, ৩ হাজার শিশু চরম খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে সীমান্ত পেরিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে অসংখ্য রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
মংডু জেলার বড় গওজিবিল গ্রামের মৃত বশির আহমদের ছেলে রশিদ উল্লাহ (২৫) জানান, ‘১৩ নভেম্বর দুপুরে তাদের গ্রামে হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় হতাহত হয় বেশ কয়েকজন নারী পুরুষ ও শিশু। তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি জানান, ওই দিন হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া গুলির শব্দে প্রানভয়ে ছোট ভাই এনায়েত উল্লাহকে সাথে নিয়ে পালাতে থাকি। এক পর্যায়ে তার শরীরে বিদ্ধ হয় বেশ কয়েকটি গুলি। ঘাড়ে, কোমর ও পায়ে ৮/১০ টি গুলি লাগে। এতে তিনি আহত হন। দুই দিন পাহাড়ে অবস্থানের পর পার্শ্ববর্তী রাইম্যাবিল গ্রামে আসি। ওই রাতেই এক দালালের মাধ্যমে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়ে টেকনাফ সীমান্তের জাদি মোড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি আমরা দু’ভাই।’ পরে লেদা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। আহত রশিদ উল্লাহ জানান, তাদের গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘর জ্বলে গেছে। ওখানে থাকার পরিবেশ নেই। এখনো নিখোঁজ রয়েছে আপন বোন খুরশিদা বেগম। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে আসা। এখানে কী হবে তা তার অজানা। এ ভাবে এ অঞ্চলের ১৫ টি গ্রামে চলছে মায়ানমার সরকার বাহিনীর তাণ্ডব।
২৬ নভেম্বর শুক্রবার সকালে প্রাংপ্রু গ্রাম ঘিরে সেনা বাহিনী বেশ কয়েকজন যুবককে ধরে নিয়ে গেছে। মগনামা এলাকার প্রভাবশালী রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার আব্দুল জলিল ও নুরুল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়ে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। তবে সেনা বাহিনী আসার আগেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল লোকজন। এ সব তথ্য মোবাইল কথোপকথনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ সোলতান মাহমুদ।

মতামত...