,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ওমরাহ’র নামে সৌদি আরবে পাচারের কালে শাহ আমানতে ৭ নারীসহ ১৪ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক,  ১৯ বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::ওমরাহ হজ্বের নামে সৌদি আরব যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম শাহ আমানত (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত নারীসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সকালে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তাদের শারজাহ হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। আটককৃতদের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কোন রোহিঙ্গা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাদের প্রত্যেকেরই বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসা রয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্র জানিয়েছে,বুধবার সকাল নয়টায় এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম থেকে শারজাহ যাওয়ার ইমিগ্রেশন চলছিল। এই সময় সাত নারী ইমিগ্রেশন করতে আসলে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সঙ্গে একজন করে মাহরাম (নিকটাত্মীয়) যাওয়ার কথা। কিন্তু তারা যে সাত পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের কেউ নিকটাত্মীয় নয়।
ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হলে তারা ওই সাত নারী এবং সাত পুরুষের ইমিগ্রেশন স্থগিত করেন। এই সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন সদুত্তর মিলেনি। তবে সাত নারী স্বীকার করেছেন, সাত পুরুষের কেউ তাদের নিকটাত্মীয় নয়। পুলিশ ধারণা, উক্ত সাত পুরুষই দালাল। তারা এই সাত নারীকে পাচার করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশ উক্ত ১৪ জনের ইমিগ্রেশন স্থগিত করে তাদের আটক করে। পুলিশ বলছে, তাদের পাসপোর্ট ভিসা সবই ঠিক রয়েছে। তবে তাদেরকে সন্দেহ হওয়ায় আটক করে পতেঙ্গা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
১৪ যাত্রীর ইমিগ্রেশন নিয়ে বিলম্বের কারণে এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দুই ঘন্টা পর সকাল এগারটায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শারজাহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আটক ১৪ নারী পুরুষের ওমরাহ ভিসা এবং টিকেট সৌদি বাংলা এয়ার সার্ভিসেস, টপ ওয়ান এভিয়েশন, সামিট এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং প্যারামাউন্ট ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস থেকে করে দেয়া হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

 পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার (এসপি-ইমিগ্রেশন) মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম  জানান, সাতজন নারী ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সঙ্গে একজন করে মাহরাম (নিকটাত্মীয়) যেতে হবে। কিন্তু তারা যে সাত পুরুষকে সঙ্গে এনেছেন তারা কেউই নিকটাত্মীয় নন। তাই তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটককৃত ১৪ জনের পুরো বিষয়টিই সন্দেহজনক। দীর্ঘ তদন্ত এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা তাদেরকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবেন।
পতেঙ্গা থানায় মানব পাচার আইন ২০১২ এর ৭ এবং ৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাত পুরুষকে আসামি এবং সাত নারীকে ভিকটিম করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- মঞ্জুর আলম (সাতকানিয়া), আরিফুল ইসলাম (সাতকানিয়া), মোহাম্মদ হোসেন (কুমিল্লা), মোহাম্মদ খালেক রাঙ্গুনিয়া, মোহাম্মদ রফিক (পাহাড়তলী), শওকত আলী (রাঙ্গুনিয়া) এবং মোহাম্মদ ফোরকান (সাতকানিয়া)। ভিটটিম সাত নারী হলেন- বাঁশখালীর মোবাশ্বেরা, কুমিল্লার ছেনোয়ারা, কুমিল্লার রহিমা, রাঙ্গুনিয়ার রোকসানা, চাঁদপুরের আয়েশা বেগম, রাঙ্গুনিয়ার মঞ্জিলা বেগম এবং বগুড়ার জ্যোৎস্না বেগম।

মতামত...