,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ওষুধ ভেজালের অভিযোগ ২০ কম্পানির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

madicin tabদিলরুবা খানম, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, দেশে জীবন রক্ষা কারি ওষুধ ভেজালের অভিযোগে ২০টি ওষুধ কম্পানির ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪টি কম্পানির সব ধরনের এন্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) উৎপাদনের অনুমতি বাতিল, ২২টি কম্পানির পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের এন্টিবায়েটিক উৎপাদনের অনুমতি স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

 দুটি কম্পানির মানবদেহে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার্য ওষুধ, একটিকে প্রাণিসম্পদে ব্যবহার্য ওষুধ এবং অপর একটিকে সেফালোস্পোরিন বাদে অন্যান্য গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ওই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শেষে এসব সুপারিশ চুড়ান্ত করা হয়।  কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, ইউনুস আলী সরকার ও সেলিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত দলের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়।

৫ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ তদন্ত দলে্র অন্য সদস্যরা হলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন কবীর চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী এন্ড ফার্মাকোলজী বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি ওই প্রতিবেদন চুড়ান্ত করেছে।

 কমিটির সদস্য সেলিনা বেগম বলেন, সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে জীবনহানিকর ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের পাশাপাশি যারা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ায় যে ২০টি কম্পানির উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো- এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফিনা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো ক্যামিকেল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুন ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করার সুপারিশ করা ৩৬টি কম্পানি হলো- আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল ড্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রাইস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দু-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স ক্যামিকেল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল, সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, আমিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, অ্যাজটেক ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ডিসেন্ট ফার্মা, ড. টিআইএম’স ল্যাবরেটরিজ, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্রীনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল, ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যাল, মাকস ড্রাগস, মেডিম্যাট ল্যাবরেটরিজ, মডার্ন ফার্মাসিউটিক্যাল, মাইস্টিক ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ, অর্গানিক হেলথ কেয়ার, ওয়েস্টার ফার্মা, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যাল, সীমা ফার্মাসিউটিক্যাল, ইউনাইটেড ক্যামিকেল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল এবং হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।

বিশেষজ্ঞ তদন্ত দলের প্রতিবেদনে টেকনো ড্রাগস এর ওষুধ উৎপাদনের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ তৈরির কারখানা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় করা হয়েছে। নরসিংদীর সফিরপাড়ায় অবস্থিত ১ নম্বর ইউনিটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ইটিপি থাকলেও এর ক্যাপাসিটি খুবই কম। পার্সোনাল এন্টেন্সে এয়ার কার্টেনটি ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বাইরে থেকে অপরিস্কার বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে। কড়িডোরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে এখানে ধুলা ও সাদা ডাস্ট উড়ে প্রতিনিয়ত। স্টেরাইল উৎপাদন এলাকার মেঝেতে এপোক্সি করা হয়নি। এন্টিক্যান্সার ড্রাগ উৎপাদনের কোনো পরিবেশ এখানে নেই।

সিপ্রোফ্লোক্সাসিন উৎপাদন কক্ষের অবস্থাও ভাল নয়। সর্বত্র সাদা ডাস্ট উড়ে। কারখানার ভেতরে ওই এলাকায় এক সঙ্গে নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন করছে টেকনো ড্রাগস, যা জিএমপি নীতিমালার মারাত্মক লঙ্ঘন।  প্রতিবেদনে একই এলাকায় অবস্থিত ২ নম্বর ইউনিট এবং কারার চর বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত ৩ নম্বর ইউনিটের চিত্রও তুলে ধরেছে বিশেষজ্ঞ দল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ নম্বর ইউনিটে ২০১০ সাল থেকে ওষুধ উৎপাদন করা হলেও এখানে বর্জ ব্যবস্থার জন্য কোনো ইটিপিই নেই। পার্সোনাল ও মেটিরিয়াল এন্ট্রিতে সুবিধা গ্রহণযোগ্য নয়। সিরিঞ্জ উৎপাদন মেশিন পরিস্কারের কোনো লগ বুক নেই। উৎপাদন এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড থার্মোমিটার কিংবা হিউমিডিটি মিটার নেই। ফলে সঠিকভাবে তাপমাত্রা ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

অপরিস্কার প্লাস্টিক বালতিতে এখানে ইনজেকশনের রাবার ক্লোজার ও ভায়াল ওয়াশ করা হয়; যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ। এখানকার কোয়ালিটি কন্টোল ল্যাবও অত্যন্ত দুর্বল। প্রতিবেদনে মতামত তুলে ধরে বলা হয়, কারখানাটিতে বিদ্যমান সুবিধাবলী কোনো পেনিসিলিন কিংবা সিফালোস্পিারিন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক কিংবা এন্টি ক্যান্সার ড্রাগ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়। সে কারণে এসব ঝুকিপূর্ণ ও জটিল ওষুধ এখানে উৎপাদন অবিলম্বে বন্ধ করার সুপারিশ করা হলো।

 

মতামত...