,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ওয়ান-ইলেভেনের আলোচিত সচিব দেলোয়ারের আত্মহত্যা

aকক্সবাজার সংবাদ দাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কক্সবাজার, ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুদকের আলোচিত সচিব ছিলেন দেলোয়ার হোসেন কক্সবাজার শহরের এক হোটেলে আত্মহত্যা করেছেন এবং  বেওয়ারিশ  হিসাবেই তার লাশ স্থানীয় বড় কবরস্থানে (কক্সবাজার কেন্দ্রীয় কবরস্থান) দাফন করা হয়েছে। ক্ষমতাধর এ সচিবের এমন বিদায় দেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছ।

কক্সবাজার শহরের এক হোটেলে  সোমবার  হাসান শাহরিয়ার হৃদয় (৬০) নামের আত্মহননকারী ব্যক্তি আসলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক সচিব দেলোয়ার হোসেন। তার লাশ পরদিন কক্সবাজারে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হয়েছে।

সু-সাইড নোট লিখে তিনি আত্মহত্যা করলেও নিজের আসল পরিচয় দেননি। পরে আত্মীয় স্বজন ফোন করে পুলিশকে আসল পরিচয় প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার তার একমাত্র ছেলে কক্সবাজারে এসে পিতার কবর জেয়ারত এবং আত্মহত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পিতার কবর কক্সবাজারেই রাখতে চান বলে জানান।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুদকের আলোচিত সচিব ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা এই মেধাবী আমলা ওয়ান-ইলেভেনের সময় ৫০ জন আমলা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীকে সন্দেভাজন দুর্নীতিবাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও তা প্রকাশ করে আলোচিত হন।

শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রতাপশালী এই আমলা পরিচয় গোপন করেই কক্সবাজারে আত্মহত্যা করেছেন এবং পরদিন বেওয়ারিশ হিসাবেই তার লাশ স্থানীয় বড় কবরস্থানে (কক্সবাজার কেন্দ্রীয় কবরস্থান) দাফন করা হয়েছে। গত সোমবার কক্সবাজার শহরের কলাতলী সড়কের সী-হ্যাভেন গেস্টহোম নামের এক হোটেলে হাসান শাহরিয়ার হৃদয় (৬০) পরিচয়ে সুসাইড নোট লিখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ২৭দিন ধরে ওই হোটেলের ১০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ইংরেজিতে লেখা সুসাইড নোটে তিনি তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। সুসাইড নোটে তিনি উল্লেখ করেন- ‘বেঁচে থাকা অর্থহীন, মরে যাওয়াও নিরর্থক। জীবনে বেঁচে থেকে কী লাভ।’ তিনি আরো লিখেন- ‘আজ হলেও মরব,কাল হলেও মরব। একটু আগে মরে গেলে অসুবিধা কী?’। এভাবে তিনি তার মৃত্যু বা আত্মহত্যা নিয়ে বিভিন্ন ‘আধ্যাত্মিক’ কথা লিখেছেন বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার ওসি আসলাম হোসেন।

তিনি আরো জানান, সাবেক সচিব দেলোয়ার হোসেন তার আত্মহত্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা লিখে যাননি। ওসি জানান, কোন পরিচয় না পাওয়ায় উদ্ধার হওয়া লাশটি মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে বেওয়ারিশ হিসাবে শহরের বড় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। লাশ দাফনের পর তার কাছে এক মোবাইলে পরিচয় জানান যে, আত্মহত্যাকারী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব বলে জানান।

তিনি ১/১১ এর সময় দুদকের সচিব ছাড়াও পরবর্তীতে সাভারের বিপিএটিসির রেজিস্ট্রার ছিলেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি দুদকের সাবেক সচিব দেলোয়ার হোসেন- এ কথা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর উনার কোন ছেলে মেয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তবে এক আত্মীয় যোগাযোগ করেছে।পুলিশ জানায়, পোস্ট মর্টেম করে লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। জানা যায়, সাবেক সচিব দেলোয়ার হোসেনের এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। একমাত্র ছেলে রাজিব হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার পিতার কবর দেখতে কক্সবাজারে এসেছেন। এসময় তিনি তার পিতার কবরটি কক্সবাজারে রাখারই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। পিতার কবরে পাকা ঘেরাবেড়া দেয়ার বিষয়েও কবরস্থান পরিচালনকারী কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি আলাপ করেন বলে জানা যায়। পরে তিনি পিতার আত্মহত্যার ঘটনাস্থল সী-হ্যাভেন গেস্টহোমও পরিদর্শন করেন।

বি এন আর/০০১৬০০৩০০৪/০০০৩৫৫/আর

মতামত...