,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে বাকঁখালী নদী দখলের মহোৎসব ভুমিদস্যু চক্রের

rajjakআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার সংবাদদাতা,বিডি নিউজ রিভিউজ ডট কমঃ কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলের মহোৎসব শুরু করে দিয়েছে ভুসিদস্যু চক্ররা। এই ভুমিদস্যু চক্ররা ইতিমধ্যে সরকারী বাখঁখালী নদীর অধিকাংশ জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এস্কেবেটর দিয়ে মাটি ও ময়লা ফেলে ভরাট করে দখলের মহোৎসবে নেমে পড়েছে ভুমিদস্যু চক্ররা। ইতিমধ্যে ইট ও কনক্রিট এনে, ইতিমধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজও শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিপ্তরের লোকজন তা দেখেও না দেখার ভান করে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। ফলে এই নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি খননের মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে বাঁকখালী নদীর একটি বিশাল অংশ। একটানা তিন সপ্তাহ ধরে ডাম্পার দিয়ে লালদীঘি খননের মাটি দিয়ে বাঁকখালী নদী ভরাট করলেও ভুসিদস্যু চক্রদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিপ্তরa কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থ গ্রহন না করায় ভুসিদস্যু চক্ররা আরো বেপরোয়া হয়ে দ্বীগুন কাজ শুরু করে দিয়েছে। যার ফলে ভরাটকৃত সরকারী বাকখাঁলী নদীতে বর্তমানে ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এস্কেবেটর দিয়ে দখলদাররা আরো নতুন করে নদী ভরাটের কাজ শুরু করেছে।
জানা যায়, কালের বিবর্তণে নাব্যতা হারিয়ে দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে বাঁকখালী নদী। এর ফলে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ছোট ছোট চর জেগে উঠে। ওই জেগে উঠা ছোট ছোট চরে নদীর কু-দৃষ্টি পড়ে অবৈধ দখলদার ভুসিদস্যু চক্রের। বিগত সময়ে বাঁকখালী নদীর মোহনায় জেগে উঠা চরে পেশকার পাড়া, নুর পাড়া, বদরমোকাম এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার দখলদার ভুসিদস্যুরা মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট করে নদীর দক্ষিণ পাড়ে জেগে উঠা ছোট ছোট চর একের পর এক দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে পরে উক্ত স্থাপনাগুলো জায়গাসহ বিভিন্ন লোকজনের নিকট বেচা বিক্রি করে দেয় দখলদার ভুসিদস্যু চক্ররা । তবে মাঝে মধ্যে প্রশাসনও ওইসব অবৈধ দখলদারের স্থাপনায় ডু মারেন। তড়িঘড়ি করে দু’একটি স্থাপনায় আঘাতও করেন। কিন্তু সে গুলো শুধুমাত্র ফটোসেশনই। তা না হলে দখলদার ভুসিদস্যু চক্ররা একের পর এক সরকারী নদী দখল করার মহোৎসব শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব দখলদারের তালিকা তৈরী করলেও এখনও উচ্ছেদের বিষয়ে কোন ধরণের সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়ায় সচেতন সহলের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন আদৌ কি অবৈধ ভাবে দখল করা সরকারী এই বাকখালী নদী উচ্ছেদের অভিযান চলবে। নাকি অন্য কিছু…………….!
অপরদিকে গত কয়েক বছর ধরে বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ের কস্তুরাঘাট পুরাতন পোনা মার্কেট এলাকায় পৌরসভার বিভিন্ন বর্জ্য ফেলায় আরো বেশী ভরাট হয়ে উঠে বাঁকখালী নদী। বর্জ্য ফেলার এই সুযোগ কাজে লাগায় অবৈধ দখলদার ভুসিদস্যু চক্ররা ।
এদিকে বাঁকখালী নদী রক্ষায় ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘বেলা’ নামক একটি এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারক বাঁকখালী নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে একটি রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ওই রুলের শুনানিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজার পৌর মেয়রকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এবং একই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রমের কোন উদ্যোগ এখনোও চোখে পড়েনি। অপরদিকে ককèবাজার পৌরসভাও চালু রেখেছে বাঁকখালীতে নদীতে বর্জ্য ফেলা।
অপরদিকে সম্প্রতি শুরু হয়েছে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহি ‘লালদীঘি’র খনন কাজ। ওই খননের মাটি গুলো দিয়ে বাঁকখালী নদীর জেগে উঠা চরে ভবন নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে নদী ভরাটের কাজ চল্লেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।
বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের জন্য বিশাল বিশাল তিনটি ইট আর কনক্রিটের স্তুপ করা হয়েছে। আর সম্প্রতি ডাম্পার দিয়ে ফেলা মাটি আর ময়লা গুলো একটি এস্কেবেটর দিয়ে সরিয়ে নতুন করে বাঁকখালী ভরাট করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন লোক জানান, লালদীঘি’র খনন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই মাটি গুলো অবৈধ দখলদারেরা বাঁকখালী নদীর জেগে উঠা চরে ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা ভরাট করছে। এরই মধ্যে বিশালকার জায়গা ভরাট করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ভোরে ও রাতে দুইটি ডাম্পার দিয়ে মাটি ফেলা হয়। বর্তমানে লালদীঘি মাটি শেষ হওয়ায় এখন রাতের আধারে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করে উক্ত মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বাকখালীঁ নদী।
তিনি আরো জানান, বিশাল আকৃতির দুইটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা নিয়েছে তালিকা ভুক্ত দখলদার পেশকারপাড়া এলাকার ফরিদ ও তার ভাতিজা দেলোয়ার। তারা প্রতিদিন লালদীঘি খননের মাটি দিয়ে ভরাট করছে বাকখালীঁ নদী।
এদিকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একটি নদী রক্ষা কমিটি গঠণ করা হলেও এ কমিটির কার্যক্রম এখনোও চোখে পড়েনি।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বলেন,খোজ খবর নিয়ে দেখি। তারপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অচিরেই এসব দখলদার ভুসিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

মতামত...