,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে মনোনয়ন মনোমালিন্যে ‘কলা গাছ’

bnana treeমীর মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন সিকদারঃ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকারি দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে চলছে অভিনব  ‘কলাগাছ প্রতিবাদ’  ।কক্সবাজারের মনোনয়ন মনোমালিন্যে ‘কলা গাছ’ যে স্থান দখল করেছে তা নিয়ে দেশের সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকরা প্রতিবাদ জানাতে কলাগাছ হাতে রাস্তায় নেমে আসে।  আবার বিক্ষোভ শেষে গাছগুলো সারিবব্দ ভাবে রাস্থার ধারে রোপণ করে দেয় তারা ।প্রতিবাদকারিরা ইয়াবা ও মানবপাচারকারীসহ জঙ্গিসম্পৃক্ত ব্যক্তি এবং ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবারের’ সন্তানদের দেওয়া মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, মনোনয়ন প্রাপ্তদের কারনে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি হমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, আগামী ২২ মার্চ প্রথম দফায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০ মার্চ হবে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার নির্বাচন। ইতোমধ্যে ১৯ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মনোনয়ন শেষ হয়েছে। তবে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে যতসব ছোটাছুটি চোখে পড়ছে।কিন্তু বিএনপির সমর্থকরা রয়েছেন একদম চুপচাপ!

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৬টির  ৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন এবং মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভার মনোনয়ন নিয়েও ।  টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুর হোসেনের সমর্থকরা শনিবার ‘কলাগাছ প্রতিবাদ’ করেছেন। তাঁরা এই ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরিবর্তন চান।

সাবরাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুর হোসেনকে ইয়াবা সম্পৃক্ততার মিথ্যা অভিযোগে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাহারছড়া ইউনিয়নে সরকারি তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে সাবেক দলীয় সংসদ সদস্য ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ছেলে মাহবুব মোরশেদকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তাঁর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা গত দুদিন ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা বাসস্টেশনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাহার অভিযোগ করেন, ‘স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মৌলভি আজিজ উদ্দিন একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ও মানবপাচারকারী। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকেই  চেয়ারম্যান পদে আওয়ামি লিগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীকে মেয়র পদে দল মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রমিক রাজনীতিক ফজলুল করিম সাঈদী। তিনি চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। গেল  নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। সাঈদী মনোনয়ন না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। তাঁর সমর্থকরা কলাগাছ নিয়ে নেমে আসেন রাস্তায়। এখন চকরিয়া পৌর এলাকার রাস্তাঘাটে অনেক কলাগাছ প্রতিবাদের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র পদে সরকারি দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবারের’ সন্তান এবং যুদ্ধাপরাধী তালিকার ২২ নম্বর ব্যক্তি মরহুম হাসেম সিকদার ওরফে বড় মোহাম্মদের সন্তান মকসুদ মিয়া। তাকে মনোনয়নে নির্যাতিত সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগের একাংশ ক্ষুব্ধ।

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জেলার প্রথম শহীদ পরিবারের সন্তান তারেক বিন শরীফ। অথচ শহীদ পরিবারের সন্তান ওসমান চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামি সেলিম চৌধুরীকে ম্নন্যম দেওয়ায় আওয়ামী লীগের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ‘কলাগাছ নিয়ে  প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন।

বি এন আর/০০১৬০০২০২০/০০১১৫/এন

মতামত...