,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে সাব-মেরিন নৌ-ঘাঁটি স্থাপন করা হচ্ছে

আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ  পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার উপকূলবর্তী মগনামা ইউনিয়নেই হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র সাব-মেরিন নৌ ঘাঁটি। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত সাব-মেরিন নৌ ঘাঁটি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরণের সমীক্ষা শেষ করে এর নকশা চুড়ান্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। এই নিয়ে সারা বাংলাদেশে নতুন করে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের লবণ ও মৎস্যচাষে সমৃদ্ধ সমুদ্র উপকূলবর্তী উপজেলা পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন। উম্মোচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। যা বর্তমান সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন পর্যটন নগরীর জনগন। সাব-মেরিন (ডুবো যুদ্ধজাহাজ) কুতুবদিয়া চ্যানেলের অদুরবর্তী মগনামায় পূর্নাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপনের জন্য প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। এ জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নিকট ৪’শ একরেরও বেশি জমি বরাদ্ধ দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ আদেশ পেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাব-মেরিন ঘাটি স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে কাকপাড়া এলাকায় সমীক্ষা চালিয়ে ওই স্থানকে উপযোগী হিসাবে বিবেচনায় এনে চুড়ান্ত প্রতিবেদন ও নকশা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে আধুনিক বাহিনীতে রুপান্তরিত করতে ও ক্ষমতা বাড়াতে ১০ বছর ব্যাপী একটি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বর্তমান সরকার সাব-মেরিন নৌ-ঘাঁটি স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর বহরে সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর সম্ভাব্য ব্যায় ধরা হয়েছে ১’শত কোটি মার্কিন ডলার। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, সাব-মেরিন উপযোগী কর্মকর্তা তৈরী করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। ওই কারণে এখন থেকে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষন ট্রেনিং। নৌ বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে পারদর্শী হতে ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়েছে ইউরোপ মহাদেশের একটি নৌ ঘাঁটিতে। সম্প্রতি দেশীয় তৈরী যুদ্ধ জাহাজ পদ্মার উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সাব-মেরিন সংযোজন এর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান। স্বশস্ত্র বাহীনি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে সাব-মেরিন আনা হলে নৌ বাহিনী আধুনিক বাহিনীতে পরিনত হবে। বাংলাদেশ স্বশস্ত্র বাহিনী সূত্রে আরো জানা গেছে, খুব দ্রুত বাংলাদেশ সরকার এশিয়া মহাদেশের চীন থেকে সাব-মেরিন কিনতে যাচ্ছে। সাব-মেরিন হচ্ছে বিশেষ ধরনের ডুবো যুদ্ধ জাহাজ যা পানির তলদেশে এবং উপরিভাগে সমানতালে চলতে সক্ষম। বাংলাদেশ বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত প্রসার লাভ করছে এ বাংলাদেশ। সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ খুব কম দেশে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্স, এশিয়ার দেশ গনচীন ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। সামরিক বিভাগের নির্ভরশীল সূত্রে জানিয়েছে, সাব-মেরিন কেনার জন্য চীন ও বাংলাদেশ দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দু’টি সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ কেনার জন্য ক্রয় সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্তাব চুড়ান্ত হয়েছে। সাব-মেরিন ঘাঁটি বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২০১২ সালের শুরুতে সামরিক ভূমি সেনা নিবাস অধিদপ্তর থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামার ৪১৯ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে মতামত জানাতে বলেন। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল সরজমিন পরিদর্শন করে মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়াকে নৌ ঘাটির জন্য উপযুক্ত স্থান বিবেচনা করেন। এমনকি সাব-মেরিন স্থাপনের জন্য ভুমি মালিকদের কাছ থেকে এর জন্য জমি অধিগ্রহন করতে কোন জটিলতা নাই মর্মে একটি প্রতিবেদনও পাঠান।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, গত ২০১২ ইং সালের সেপ্টম্বরে উপজেলা প্রশাসনের মতামতের পর জেলা প্রশাসন প্রস্তাবিত জমিতে অধিগ্রহনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান। প্রস্তাবিত জমির মধ্যে খাস জমি, উপকূলীয় বন বিভাগের, পানি উন্নয়ন র্বোড(পাউবো)বিপুল সম্পক্তি ছাড়াও খুব বেশি জমি ব্যাক্তি মালিকানাধীন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে খাস, বনবিভাগের, ও পাউবোর এসব জমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাক্তি মালিকানাধীন সম্পক্তিগুলি সম্প্রতি বহু মালিকানা পরিবর্তন হয়ে চট্টগ্রামের এস আলম ও টিক্কা গ্রুপ নামে দু’টি ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্টান স্থানীয় ভূমি মালিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবিত নৌ ঘাঁিটর ওই স্থানসহ আশপাশের প্রায় ৮’শ কানি জমি খরিদ করেছে। আর মগনামায় নৌ ঘাঁটি হলে জমি হারাবে এস আলম গ্রুপ। তবে বিশাল জনগোষ্টির উপর এর কোন বিরুপ প্রভাব পড়বেনা বলে মনে করেন সচেতন মহল। দেশের একমাত্র নৌ ঘাঁটি পেকুয়ার মগনামায় হতে যাচ্ছে এ খবরে মগনামাসহ পুরো উপকূলের জনগন উচ্চাসিত হয়েছে। এর ইতিবাচক সম্ভবনাময় এই উন্নয়নশীল খবরে সর্বস্তরের মানুষ মহা খুশি ।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দেশের এ বৃহত্তম নৌ ঘাঁটি আমার ইউনিয়নে হলে বহু উন্নয়ন এর পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মগনামা এবং উজানটিয়ার দুই সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপিত হবে এ ঘাঁটি। সেটি আমাদের গৌরবের বিষয়। এখানে ঘাঁটি হলে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা জোরদার হবে। আর্ন্তজাতিক ভাবে আমাদের সফলতা আরো ছড়িয়ে যাবে।

মতামত...