,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেট বেপরোয়া

aকায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি,বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চোরাচালানী ও মানবপাচার কারী ধরতে বিশেষ অভিযান কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালান সিন্ডিকেট তৎপর কক্সবাজার ভিত্তিক উখিয়া-টেকনাফের চোরাচালান সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠেছে। পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ইয়াবা, হেরোইন, গাজাঁ, মদসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্যের বিশাল অংকের চালান পাচারের জন্য ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকা ভিত্তিক প্রায় শতাধিক পাচারকারী সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। মাদকদ্রব্যসহ
বিভিন্ন প্রকার চোরাইপণ্য আটকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন যতই তৎপর হচ্ছে ততই চোরাচালান সিন্ডিকেট পাচারের ধরন পাল্টানোর কারণে পাচারকারী চক্রের গডফাদারেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়াঁর বাইরে। পুলিশ বলছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিদের্শ ক্রমে মানবপাচারকারী ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের চিহ্নিত সদস্যদের ধরতে শীঘ্রই বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে আসা চোরাইপন্য পাচারে নিরাপদ রুট হিসাবে চিহ্নিত নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্র“, ঘুমধুম, জলপাইতলী, কুমির প্রজজন কেন্দ্র, উখিয়ার ডেইলপাড়া, চাকবৈঠা, আমতলী, তুলাতলী, বালুখালী, রহমতের বিল, আনজুমানপাড়া, নলবনিয়া, ধামনখালীসহ টেকনাফের প্রায় অর্ধশতাধিক পয়েন্ট দিয়ে মরণনেশা ইয়াবা, হেরোইন, বোতলজাত মদসহ চোলাইমদ পাচার হয়ে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে।

a1সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যরা মাঝে মধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কসহ সীমান্ত পারাপারের সময় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সহ বিভিন্ন চোরাইপন্য আটক করতে সক্ষম হলেও চোরাচালানীর গডফাদারেরা ধরা না পড়ার কারণে সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান, চোরাচালান সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম গডফাদার  অনেকেই ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নিরবতার কারণে দিন দুপুরে চষে বেড়াচ্ছে। এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, স্থানীয় থানা প্রশাসনের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলায় এসব ইয়াবা ও চোরাচালানকারীরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় মানবপাচারকারী ও চোরাচালানি গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ভিত্তিক চোরাচালান চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও নানা প্রকার মাদক পাচারে জড়িত। এসব চোরা কারবারিদের ধরতে পুলিশ বিজিবি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইন প্রয়োগ সংস্থা তৎপর হয়ে ধরপাকড় শুরু করলে চোরাকারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করে অথবা আত্মগোপন করায় তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, ইয়াবা চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার কর্তৃক ঘোষিত জিরো ট্রলারেন্স নীতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সীমান্তরক্ষী ও চেকপোষ্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নিয়ে গত কয়েকমাসে বিজিবি সদস্যরা প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা দেশীমদ, বিয়ার, ক্যান, ফেন্সিডিল ও গাজাঁ আটক করে তা ধ্বংশ করে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যাতে সীমান্তপার হয়ে ইয়াবাসহ নানা প্রকার মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসতে না পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যদের সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, ইয়াবা পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি পুলিশ শীঘ্রই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মানবপাচারকারী ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করবে। যাতে কোরবানির ঈদে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে।

মতামত...