,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে হোমষ্টোন ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতি

rajjakআবদুররাজ্জাক,কক্সবাজার সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ  পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে হোমষ্টোন লিমিটেড কর্তৃক নির্মানাধীন ‘দি সী-প্রিন্সেস হোটেল’ এর নামে কোম্পানির এমডি শহীদুল আলম ও চেয়ারম্যান ডালিয়া আলম শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর ঢাকা মিডফোর্ড শাখা থেকে প্রতারনা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এ ঋণের টাকা সুদসহ বর্তমানে ৫০ কোটিতে এসে পৌঁছেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।

aবিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হোম স্টোন’র এর মালিকগণের এই জালিয়াতির ঘটনায় হোমষ্টোনের এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক ঋন জালিয়াতি ও অনিয়মে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ১০ ও ১১জুন কক্সবাজার শহরের কলাতলী সী ইন পয়েন্টের ‘দি সী প্রিন্সেস হোটেলে’ আসেন দুদকের উপ-পরিচালক এস.এম রফিকুল ইসলাম। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ বিষয়ে সাক্ষ্য নিয়েছেন এবং আনুষ্টানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অপরদিকে সবার অজান্তে খোদ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। একারনে ‘দি সী-প্রিন্সেস হোটেল’-এ ২২০ বিনিয়োগকারীর কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, মূলতঃ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ ঢাকা মিডফোর্ড শাখার কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্তার যোগসাজসে ঋণ জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটে। আর জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হোমষ্টোনের এমডি শহিদুল আলম বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিং করে বর্তমানে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় বিলাস বহুল জীবন যাপন করছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে প্রকাশ। দি সী-প্রিন্সেস হোটেল ওনার্স সোসাইটি’র সভাপতি জামিল আসাদুল হক সোহেল বলেন, হোটেলটির নির্মাণের সময় বিভিন্ন সাইজের স্টুডিও এ্যাপার্টম্যান্ট বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও উক্ত কোম্পানীর প্রচারিত ব্রুশিয়ার, ক্যাটালগ এর মাধ্যমে ২০০৮ সালে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করলে আমরা ২২০ জন স্যুট ক্রেতা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে উক্ত হোটেলটিতে স্যুট ক্রয় করি। পরে ২০১৪ সালের মে মাসে আমরা জানতে পারি হোটেলের সকল স্যুট/ফ্ল্যাট আমাদের কাছে চড়া দামে বিক্রয়ের পরও হোমষ্টোন লিঃ এর চেয়ারম্যান ডালিয়া আলম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম ওই সময়ে ঢাকার মিডফোর্ট শাখার শাহজালাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে ৩টি মঞ্জুরী পত্রের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা ঋণ করেন। ওই ঋণ সুদে আসলে এখন প্রায় ৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। উক্ত ঋণের অর্থ ৩৬টি কিস্তিতে উত্তোলন করার শর্ত ছিল। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যাংক পরিচলক/কর্মকর্তার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে মাত্র ৩/৪টি কিস্তিতে মঞ্জুরীকৃত সমুদয় টাকা তুলে নেয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। উক্ত ঋণ মঞ্জুরীর পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ৬ বৎসরে (র্ফ্রুেয়ারী ২০১০ থেকে র্ফ্রুেয়ারী ২০১৫ পর্যন্ত) কোন প্রকার বন্ধকি সাইনবোর্ড দি সি-প্রিন্সেস প্রকল্পের সমুখে প্রদর্শন করে নাই। উক্ত সময়ের মধ্যে শতশত বিনিয়োগকারী প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে দেখার জন্য যান। কিন্তু প্রকল্পটি ব্যাংকে বন্ধকি আছে এই ধরনের কোন প্রকার বন্ধকি সাইনবোর্ড দেখতে পান নাই। ঋণের মেয়াদ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৫ সালের মার্চে রাতের আধারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত সম্পত্তির উপর ব্যাংকের নামে বন্ধকি আছে জানিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
জানা গেছে, হোমস্টোন লিঃ র্কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালে কাজ শুরুর পরই কিছু এ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয় করে। কিন্তু বিক্রয়ের তথ্য গোপন করে ক্রেতাদের না জানিয়ে ব্যাংকে সমুদয় সম্পত্তি বন্ধক রাখে। আর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের তদন্ত ছাড়াই হোটেল প্রকল্পটি ব্যাংকে আমানত হিসাবে বন্ধক গ্রহন করে। এছাড়াও ২০০৯ এ ব্যাংকে বন্ধক রাখার পরও কোম্পানী কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে তাদের বিক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে যায় ব্যাংকের জ্ঞাতেই। এতে জালিয়াতচক্রের সাথে ব্যাংকের অসাধু কর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে উঠে।
এদিকে ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে (গ্রেস পিরিয়ডসহ) স্যুট হস্তান্তরের করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি তারা স্যুট হস্তান্তর/রেজিষ্ট্রেশন করে দেন নাই। চুক্তিপত্র মোতাবেক স্যুট এর সম্পূর্ন মূল্য পরিশোধ করার পর ১ম-পক্ষ (মালিক) স্যুটসহ প্রাপ্য জমির অংশসহ সাব-কবলা মূলে রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে বাধ্য। কিন্তু তা করা হয়নি।
দি সী-প্রিন্সেস হোটেল ওনার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু জানান, দি সী- প্রিন্সেস হোটেলের ২২০ জন ক্রেতা/স্যুট ওনার্সদের কষ্টারজিত অর্থ (সঞ্চিত বা পেনশনের টাকা) উক্ত স্যুট/ফ্ল্যাট ক্রয় করে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং ব্যাংক ঋণের অর্থ আত্মসাৎকৃত ও মানি-লন্ডারিং এর মাধ্যমে বিদেশে পাচারের দায়ে হোমষ্টোন লিঃ এর চেয়ারম্যান ডালিয়া আলম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিউল আলম জাহাঙ্গীর, মহা-ব্যবস্থাপক শাহানুল হক, আজমল হকসহ জালিয়াতচক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী বিনিয়োগকারীদের।
এদিকে হোমষ্টোন কোম্পানি লিমিটেড এর এমডি শহীদুল আলম ও চেয়ারম্যান ডালিয়া আলমসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তৎপ্রেক্ষিতে দুদকের উপ-পরিচালক এস.এম রফিকুল ইসলাম গত ১০ ও ১১ জুন সরেজমিনে অনুসন্ধান করার জন্য কলাতলীর ‘দি সি-প্রিন্সেস হোটেল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। অনুসন্ধানের সময় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর মিডফোর্ড ব্রাঞ্চ, ঢাকা’র বর্তমান ব্যাংক ম্যানেজার ও একই শাখার পূর্ববর্তী ২ জন ম্যানেজার এবং অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, হোমষ্টোন লিঃ ‘দি সি-প্রিন্সেস প্রকল্প’ বন্ধকি রেখে “শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ, মিডফোর্ড শাখা, ঢাকা” চরম অনিয়ম ও দুনীর্তির মধ্যেমে ৩০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের/স্যূট ওর্নারগনকে না জানিয়ে অত্যন্ত গোপনে কোম্পানি এমডি শহিদুল আলম ও চেয়ারম্যান ডালিয়া আলম শাহজালাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে ৩টি মঞ্জুরী পত্রের মাধ্যমে এই ৩০ কোটি টাকা ঋণ করেন। উক্ত ঋণের অর্থ ৩৬টি কিস্তিতে উত্তোলন করার শর্ত থাকলেও সমঝোতার মাধ্যমে ৩/৪টি কিস্তিতে মঞ্জুরীকৃত সমুদয় টাকা তুলে নেন, যা চরম অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।তিনি বলেন, ‘শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ’ এর ৩ জন পরিচালক এই হোটেলটির স্যুট ক্রয় করেছেন। এতে করে প্রতিয়মান হয় যে, হোমষ্টোন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে আতাঁত করে অসহায় ক্রেতাদের বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাধের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে সম্পওি বন্ধক রেখে বর্তমানে নিলামে উঠায় এবং অর্থঋণ আদালতে যাওয়ার সহযোগিতা প্রদান করেন। দুদক উপ-পরিচালক জানান, ব্যাংকের ঋন জালিয়াতি, অনিয়মের অভিযোগে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হোমষ্টোন লিঃ এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে ।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, প্রতারক শহিদুল আলম ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ২০১৪ সালের ১২ জুন আম-মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে তার বড় ভাই সফিউল আলম জাহাঙ্গীরকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্বে প্রদান করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনিও বিনিয়োগকারীদের সাথে নানা প্রতারণামূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

মতামত...