,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজারে ২ শিশুকন্যা ও স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে ফাঁস লাগিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

কক্সবাজার সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: কক্সবাজার শহরের গোলদিঘির পাড় এলাকায় দুই শিশুকন্যা ও স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার পর ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন স্বামী। প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের অগোচরে নিজ ঘরে এই নির্মম হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে গোলদিঘি পাড় এলাকায় ঘরের দরজা কেটে ভিতর থেকে একই পরিবারের এই চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গোলদিঘির পাড়া এলাকার মৃত ননী গোপাল চৌধুরীর ছেলে সুমন চৌধুরী (৩৩), তার স্ত্রী বেবী চৌধুরী (২৫) ও শিশু কন্যা অবন্তিকা চৌধুরী (৫) এবং জ্যোতি চৌধুরী (২) খুন করা হয়।  নিহত অবন্তিকা চৌধুরী স্থানীয় বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তবে সমুন চৌধুরী বেকার বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে কাউন্সিলর রাজ বিহারি দাশের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোলদিঘির পাড়স্থ সুমন চৌধুরীর বাড়ির দরজায় পুলিশ ফোর্স নিয়ে যাই। কিন্তু ভিতর থেকে দরজায় তালা লাগানো ছিল। ভিতরে কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্টিলের দরজা কেটে ভিতরে প্রবেশ করি। ভিতরে ঢুকেই বেডরুমের বিছানায় দুই শিশু কন্যা ও স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছোট্ট একটি রুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সুমন চৌধুরীকে। চালার খুঁটির সাথে গলায় দড়ি দিয়েই তিনি আত্মহত্যা করেন।

ওসি রনজিত কুমার আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুপুর ২টার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যান। একপর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে গলা টিপে হত্যা করেন সুমন চৌধুরী। কারণ স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্য কোনো জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিছানায় দুই শিশু কন্যার প্রস্রাবের চিহ্ন দেখা গেছে। মুখে বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণও পাওয়া যায়নি। স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের হত্যার পর হয়ত সুমন চৌধুরী দ্বিতীয় তলায় গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে নিজেই আত্মহত্যা করেন। কারণ ঘরের ভিতরের চারপাশে এমন কোনো জায়গা নেই যেখান দিয়ে কেউ প্রবেশ করে আবার বের হয়ে যেতে পারবে। কিন্তু কি কারণে এই হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা তার কোনো নির্দিষ্ট ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুলিশ ঘটনার কারণ জানতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে পাওনাদারের টেনশনে হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে।

সুমন চৌধুরীর বড় ভাই বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত সৌমিত চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, আমি চট্টগ্রামে কর্মরত আছি। দু’দিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসি। আমরা পাঁচ ভাই এক জায়গায় থাকি। তবে সবাই আলাদা ঘরে বসবাস করি। কারো সাথে কোনো ঝগড়াও নেই। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধও নেই। গতকাল বুধবার দুপুরেও সবার সাথে দেখা হয়েছে ঘরের মধ্যে। সুমন চৌধুরীর ছোট মেয়ে জ্যোতি চৌধুরীকে বাড়ির উঠানে আমি নিজেই দুপুরের ভাত খাইয়ে দিয়েছি। কিন্তু কি কারণে এমন হত্যার ঘটনা ঘটলো আমি নিজেই বুঝতে পারছি না।

সুমন চৌধুরীর ভাইয়ের স্ত্রী প্রার্থনা চৌধুরী বলেন, তারা প্রতিদিন দুপুরের ভাত খেয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। গতকাল বুধবারও তারা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘরের ভিতরের লাইটও জ¦লছিল না। অনেক বার ডাকাডাকি করেও শব্দ নেই। এতে সন্দেহ হওয়ায় ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজ বিহারিকে অবগত করা হয়।

কাউন্সিলর রাজ বিহারি দাশ বলেন, বাড়ির ভিতরে কোনো শব্দ না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে।
তিনি আরো বলেন, সুমন চৌধুরীর সাথে কারো কোনো ঝামেলা ছিল না আমার জানা মতে। তার গোলদিঘির পাড় এলাকায় ‘বসুমতি স্টোর’ নামে একটি কসমেটিকস’র দোকান ছিল। দু’বছর আগে দোকানটি সঞ্জয় নামে একব্যক্তিকে উপভাড়া দেন তিনি। এরপর থেকে দৃশ্যমান কোনো কাজে বা চাকুরিতে জড়িত ছিলেন না। কোনোভাবেই সংসার চালিয়ে নিতেন।

নিহত সুমন চৌধুরীর মা বসুমিত বলেন, আমার ছেলের সাথে কারো ঝামেলা বা ঝগড়া ছিল না। সুন্দরভাবে সংসার চলছিল। কেন বা কি কারণে এমন ঘটলো আমরা কেউ জানি না।

প্রতিবেশির ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে সুমন চৌধুরী বেকার ছিলেন। ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে অনেক দেনাও ছিল তার। বিভিন্ন সময় পাওনাদারের সাথে তার ছোট ছোট ঝামেলাও হয়েছিল। অনেক সময় স্ত্রীর সাথে ঝগড়াও হয়েছে। এই জন্য তিনি টেনশন ও হীনমন্যতায় ভুগতেন প্রায় সময়। হয়ত এই কারণে নিজ স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের হত্যা করার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। কাল (আজ বৃহস্পতিবার) ময়না–তদন্ত করা হবে। ময়না–তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরো বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এবিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কর।

মতামত...