,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পানিবন্ধি হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে

gurniকক্সবাজার সংবাদদাতা,  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কক্সবাজার, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের অভিমত, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দিনের বেলায় আঘাত হানায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। আর নতুন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় অরক্ষিত থাকার কারণে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন  জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত ও সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে জেলার উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ, সড়ক, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোসহ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণেরকাজ চলছে।

প্রশাসনের সূত্রে রোয়ানুর আঘাতে জেলায় ৩ জনের প্রাণহানি এবং ৫ হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫ কিলোমিটারের বেশী বেড়িবাঁধ। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে মাঠে থাকা কয়েক হাজার একরের লবণ এবং কয়েক শত চিংড়ী ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শবিবুর রহমান  জানান, রোয়ানুর আঘাতে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিকভাবে ৪৫ কিলোমিটারের বেশী বেড়িবাঁধ আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ১৪ কিলোমিটার এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ কিলোমিটার।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে কুতুবদিয়া ও পেকুয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছি। ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসের কারণে বেড়িবাঁধের ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ চলছে। দুয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সঠিক পরিমান নির্ধারণ করা হবে।

রোয়ানুর আঘাতে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ৮০ কিলোমিটারের বেশী বেড়িবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতি হইয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান নুরুল বশর চৌধুরী  জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত আর জলোচ্ছ্বাসের কারণে কুতুবদিয়ায় ৩ জনের প্রাণহানি এবং ৩ সহ¯্রাধিক বসত বাড়ী আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার আলী আকবর ডেইল, উত্তর ধুরুং, বড়ঘোপ, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ৪১ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটারের বেশী বেড়ীবাঁধ।

তিনি জানান, বাতাসের গতিবেগ কম হলেও ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস কোন অংশে ৯১’র ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসের চেয়ে কম ছিল না। তবে ঘূর্ণিঝড়টি দিনের বেলায় আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছয়ে

অনেকের বাড়ী ৫/৬ ফুটের বেশী পানির নিচে তলিয়ে যায়। সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে যায় অনেকের আসবাবপত্র। পানি নেমে যাওয়ার পরও লোকজনের দূর্ভোগের অন্ত নেই। দূর্গত লোকজনের বাড়ীতে রান্না করারও অবস্থা নেই।

 

 

 

মতামত...