,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইনে হাতির চলাচলের থাকছে ফুটওভার ব্রিজ

bnr ad 250x70 1

rajjakআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার প্রতিনিধি,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন প্রকল্প ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১ শত ২৯ কিলোমিটার এই রেলপথটি নির্মাণে গত জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ব্যয় ধার্য্য করা হয় ১৩ হাজার ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাতি চলাচলে ফুটওভার ব্রিজ নিমার্ণ প্রকল্পের জন্য কোন বাজেট অনুমোদন করা হয়নি। পরবর্তিতে নকশাও প্রণয়ন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যমতে, দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই করে কানাডার elipan in ral lineক্যানারেইল, অস্ট্রেলিয়ার স্ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, জার্মানির ডিবি মবিলিটি নেটওয়ার্কস লজিস্টিকস ও বাংলাদেশের এসিই কনসালট্যান্টস। গত জানুয়ারিতে এর চূড়ান্ত এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। রেলপথটির বিস্তারিত নকশাও প্রণয়ন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে হাতির জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কোনো সুপারিশ করা হয়নি। গত জানুয়ারিতে চূড়ান্ত করা প্রকল্প প্রস্তাবনায়ও (ডিপিপি) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে হাতির জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাবটি যোগ করা হয়েছে এই প্রকল্পে। দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রুটে হাতির জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর রামু-গুনদুম রুটে এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি ২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১১টি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবনাটি গত ২৮ এপ্রিল অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) । সে সময় একনেক বৈঠকে জানানো হয়, ‘প্রকল্প এলাকার বুনো হাতি চলাচলের জন্য ওই এলাকার প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাতির উপযোগী ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে এবং হাতির আবাসস্থলের যাতে কোনো পরিবর্তন না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গাছপালা রোপণ করতে হবে।’ গত মাসে অনুমোদিত এ প্রকল্প দেশের হাতি চলাচলের অন্যতম রুট। এজন্য দোহাজারী-রামু-গুনদুম রুটের ১১টি পয়েন্টে হাতির জন্য নির্মাণ করা হবে ফুটওভার ব্রিজ। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ-সংশ্লিষ্ট অনুশাসনও দেয়া হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। নতুন বাজেট অনুযায়ী দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ও হাতি চলাচলে ফুটওভার ব্রিজ নিমাণ প্রকল্পে সর্বমোট ব্যয় র্নিধারণ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঋণসহায়তা দেবে এডিবি। আর ৪ হাজার ৯ শত ১৯ কোটি ৭ লাখ টাকা বর্তমান স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় প্রধাণ মন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ঠ নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলপথটি নির্মাণে গত ফেব্রুয়ারিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেখানে হাতি চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার সুপারিশ করে এডিবির প্রতিনিধি দল। এক্ষেত্রে হাতি চলাচলের রুট গুলোয় নির্মিতব্য রেল সেতুর এমব্যাংকমেন্ট উঁচু করার সুপারিশ করা হয়, যাতে হাতি শুঁড় তুলে সহজেই এর নীচ দিয়ে আনোয়াশে চলাচল করতে পারে। আবার ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের ইঞ্জিনে (লোকোমোটিভ) বিশেষ ধরনের সেন্সর বসানোর প্রস্তাবও করা হয়। পাশাপাশি হাতি চলাচলের রুটে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। এজন্য প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পরে সংশোধন করা হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের পরিচালক সাগরকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, এডিবির পরামর্শে হাতির জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । একনেকে বিষয়টিও অনুমোদন হয়েছে। এজন্য অনেক গবেষণা করা হয়েছে। দেখা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ। সবকিছুর ভিত্তিতেই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন বর্তমান স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার। তিনি আরো বলেন, হাতির চলাচল যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ ছাড়াও হাতির বিচরণ অঞ্চলগুলোয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হবে। এতে ট্রেনচালকরা ওই এলাকা অতিক্রমের সময় সতর্ক হতে পারবেন।
জানা গেছে, দোহাজারী-রামু-গুনদুম রুটের পাঁচটি পয়েন্টে হাতি প্রায় সারা বছরই চলাচল করে। আর ছয়টি পয়েন্টে চলাচল করে অনিয়মিতভাবে। মূলত খাবারের খোঁজে ওই পথে পাহাড় থেকে নেমে আসে হাতির দল। তবে বর্ষা মৌসুমে রেলপথের নিচে ও আশপাশে পানি জমে থাকলে হাতির চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। তাই রেলপথের ওপর দিয়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। ব্রিজের ওপর মাটি ফেলে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ রোপণ করা হবে। ফলে ফুটওভার ব্রিজগুলোকেও অনেকটা বনের মতোই মনে হবে। এতে হাতি সহজেই চলাচল করতে পারবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, হাতি সাধারণত কোনো স্থাপনার নিচ দিয়ে চলাচল করতে পছন্দ করে না। তাই রেলপথের ওপর দিয়ে হাতি চলাচলের উপযোগী ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি নির্মাণে গত জানুয়ারিতে ব্যয় চূড়ান্ত করা হয় ১৩ হাজার ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাতি চলাচলে ফুটওভার ব্রিজের কোনো অংশ ছিল না। তবে এডিবির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা হয়। এক্ষেত্রে হাতি চলাচলের বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যয় বেড়ে যায়। নতুন হিসাবে, দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঋণসহায়তা দেবে এডিবি। আর ৪ হাজার ৯ শত ১৯ কোটি ৭ লাখ টাকা সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার অংশের ১০১ কিলোমিটার শেষ করার অনুশাসন দিয়েছে একনেক। পর্যটন খাতসহ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি ফাস্ট ট্র্যাকের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মতামত...