,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন প্রকল্পে ৬’শত ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ

aআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজঃ স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর তনয়া মাননীয় প্রধাণ মন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবারের বাজেটে দোহাজারী-কক্সবাজার গুনদুম ১’শত ২৯ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের জন্য ৬’শত ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ফলে চলতি বছরেই এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে এবং কাজের গতি আসবে। প্রকল্প কাজে ব্যবহারের জন্য ক্রয় করা হচ্ছে ৭৪ টি গাড়ি এবং চুক্তিভিত্তিক ভাড়া হিসেবে নেওয়া ১১ টিসহ সর্বমোট ৮৫ টি গাড়ি।

শুরুতে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন মিটারগেজ করার কথা থাকলেও পরে তা ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণে প্রথম দফায় ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৮’শত ৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ডুয়েলগেজ করার পর এই প্রকল্পে সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১’শত ৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ১’শত ৩৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল রেললাইন নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয় ৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আওতায় ১’শত ৪৪ কিলোমিটার রেললাইনে ব্যয় হচ্ছে ছয় হাজার ৫’শত ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কিন্তু দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে তিন গুণের বেশি।

প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা গুনদুম পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণে পরামর্শক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮’শত ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগে প্রাথমিকভাবে এই ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ পরামর্শক খাতে ব্যয় বেড়েছে ৭’শত ৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর বাইরে পরামর্শকদের জন্য অন্যান্য সুবিধা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২’শত ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।
রেলের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তি এলাকা গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে বিপুল পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া যে ট্র্যাক (রেললাইন) নির্মাণ করা হবে, তা হবে ডুয়েলগেজ। ফলে ব্যয়ও বেশি হচ্ছে।

এদিকে দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের রামু হয়ে গুনদুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন (ট্র্যাক) নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এক হাজার ৩’শথ ৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর এসব ভূমি অধিগ্রহণে অনুমোদন দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রকল্প অনুযায়ী, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার সৈকত ১১ কিলোমিটার ও রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্ত গুনদুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটারসহ ১’শত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এটি হলে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী চলাচলের সুযোগ পাবেন। গত ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল কক্সবাজারের ঝিলংজায় এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এব্যাপারে দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন নির্মাণ একটি বড় প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পে বিশাল কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনের জন্য বিপুল লোকবলের প্রয়োজন হয়। শুধু প্রকল্পেই কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুইশ’ লোক থাকবেন। তা ছাড়া বেশ কিছু এনজিও কর্মকর্তাও কাজ করবেন। তাই এই প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে সর্বমোট ৮৫টি গাড়ির । এর মধ্যে পরামর্শকদের জন্য ক্রয় করা হবে ১৯টি জিপ, ৩৬ টি ডাবল কেবিন পিকআপ,১১ টি আট আসন বিশিষ্ট মাইক্রোবাস,৪ টি ১১ আসনের মাইক্রোবাস, একটি জিপ, দুটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাস।

সরকার এবারের বাজেটে (প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প) ১০টি প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো, কক্সবাজার-গুনদুম প্রকল্প,পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন,রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট,ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (মেট্রোরেল),এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, মহেশখালী, কক্সবাজার; সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর,পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর,পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প।

মতামত...