,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার পর্যটকদের কোলাহলে প্রাণচঞ্চল:ঠাঁই নেই হোটেল মোটেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,২৭, ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম): দেশের পর্যটন রাজধানী এখন কক্সবাজার পর্যটক টইটম্বুর। হোটেল মোটেলে ঠাঁই নেই। রাস্তাঘাটে মারাত্মক যানজট। বিপণী কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। পর্যটন ব্যবসায়ীরা পার করছেন নজিরবিহীন ব্যস্ত সময়। থার্টি ফার্স্ট বা ইংরোজি বছরের শেষদিন যতই ঘনিয়ে আসছে পর্যটকদের ভিড় ততই বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ডিসেম্বরে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্র, ইনানী, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কসহ জেলার  অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কোলাহলে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠেছে। বিপণী কেন্দ্রগুলো দারুণ জমজমাট। পর্যটকদের যানবাহনের চাপে রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক জ্যাম। শহরের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় সকল কক্ষ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বিজয় মাসের ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে বাড়ছে হয়রানিও।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিকরা জানান, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে ছুটির দিনগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য দলে দলে হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তবে গত ক‌‍‍ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ডিসেম্বর মাসে আশানুরূপ পর্যটক না আসলেও এ বছর আশাতীত পর্যটক আসছেন। তিনি জানান,এবারের ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজারে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছেন।

কক্সবাজার সৈকতের জীবন রক্ষাকারী সংস্থা রবি লাইফ গার্ডের কর্মীরা জানান, এক দশকের মধ্যে কক্সবাজারে পর্যটক ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে অন্তত তিনগুণ, বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকেই হোটেলের সংস্থান করতে না পেরে সৈকতে ও ফুটপাতে জ্বালানি কাঠ জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, এক দশকের মধ্যে কক্সবাজারে পর্যটক ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে অন্তত তিনগুণ। এ কারণে পিক সিজনেও হোটেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হত না। এক দশক আগে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বা সৈকতে রাত কাটিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী জানান,কক্সবাজারে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি ।

তিনি জানান,ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকায় পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারছেন।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের ভিড়ে এ মাসের শেষ পক্ষকাল বেশ জমজমাট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার। হোটেল-মোটেলে ঠাঁই নেই অবস্থা। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজসমূহের টিকেট পেতেও কষ্ট হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন মালিক সমিতি জানান- ‘শীত মৌসুমে কক্সবাজার জমজমাট হয়ে ওঠেছে। প্রতিদিন বৈকালিক সমুদ্র সৈকতে বসছে496 মানুষের মিলনমেলা।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান- ‘কক্সবাজারকে দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিদোদনমূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩ দিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল শুরু হচ্ছে। এতে ওপেন এয়ার কনসার্ট, ওয়াটার স্পোর্টস, দেশীয় সংস্কৃতির প্রদর্শনীসহ আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আশা করেন- অতীতের তুলনায় কক্সবাজার এখন পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি উপভোগ্য হবে।

 

মতামত...