,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার বিএনপির কমিটিতে একই পরিবারের ৮ জন নিয়ে ক্ষোভ!

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: কক্সবাজার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত হয়েছে  আগের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক পরিবর্তন না করেই দীর্ঘ আট বছর পর। ২২ নভেম্বর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। তবে এই কমিটি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা কর্মীদের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা জুড়ে। কার্যকরী কমিটিতে কেন্দ্রিয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার ৩ আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের দুই একজন ছাড়া কারো স্থান হয়নি। অন্যদিকে জেলার সভাপতিসহ একই পরিবারের আটজন স্থান পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। কোনো পদেই রাখা হয়নি সাবেক দুই সাংসদকেও। বাদ পড়েছে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাও। স্থান হয়নি অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের। তবে সালাহউদ্দিন আহমদের অনুসারীরা কমিটির মূল পদ গুলো দখলে নিয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে কাজল গ্রুপের অনুসারীরা। তবে, কমিটিতে সদস্য পদেই অনেক নতুন মুখই যুক্ত হয়েছেন। তবে তারাও সালাইউদ্দিন অনুসারী।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির উপদেষ্টা পরিষদ রয়েছে– ফজলুল করিম, এম এ গণি, আবু তাহের চৌধুরী আবু মিয়া (চকরিয়া), আবু তাহের চৌধুরী বাচ্চুমিয়া (পেকুয়া), আবু তাহের চৌধুরী (মহেশখালী), অধ্যাপক আবু তাহের (ঈদগাহ), সুরত আলম চৌধুরী, মৌলভী আবদুল মান্নান। উপদেষ্টা পরিষদের আটজনেই হলো সালাহউদ্দিন আহমদের অনুসারী বলে সূত্রে জানা গেছে।

কার্যকরী কমিটিতে রয়েছে সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সহ–সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট

শামীম আরা স্বপ্না, সহ–সভাপতি সিরাজুল হক বিএ, সহ–সভাপতি এনামুল হক, সহ–সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, সহ–সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম, সহ–সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, সহ–সভাপতি এডভোকেট নুরুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন (কুতুবদিয়া), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকতারুল আলম চৌধুরী (রামু), সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইফসুফ বদরী, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আবুল হাশেম, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কাউন্সিলর, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোক্তার আহমদ, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক আতা উল্লাহ বোখারী, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সহ–দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী, সহ–প্রচার সম্পাদক এম মোবারক আলী, মৎস্যজীবি বিষয়ক সম্পাদক হামিদ উদ্দিন ইফসুফ গুন্নু, সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আহমদ উজ্জল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসিমা আকতার বকুল, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাসেদুল হক রাশেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মৌলভী আলী হাসান চৌধুরী। ২৭ জন্য কার্যকরী কমিটির মধ্যে ২৫ জনেই সালাহউদ্দিন আহমদের অনুসারী বলে একটি সূত্রে জানা যায়। কার্যকরী কমিটির ক্রমিক ৪ ও ৫ নাম্বারের সহ–সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী ও সহ–সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম লুৎফুর রহমান কাজলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

কমিটির সদস্যে রয়েছে– সালাহউদ্দিন আহমদ, লুৎফুর রহমান কাজল ও এডভোকেট হাসিনা আহমদ।
এছাড়া কমিটির নির্বাহী সদস্য রয়েছে ১১৬ জন। এরমধ্যে অধিকাংশ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সদস্য পদে অনেক নতুন মুখ রয়েছে।

জানা গেছে,জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামীমা আরা স্বপ্না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের আর্শীবাদপুষ্ঠ এই দুই নেতা নবগঠিত জেলা কমিটিতে কৌশলে কাজল অনুসারীদের সরিয়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এমনকি জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর ভাই সরওয়ার জাহান চৌধুরী, মেয়ে নাজিয়া জাহান চৌধুরী শম্পা, ভাইপো সোলতান মাহমুদ চৌধুরীসহ একই পরিবারের শাহ কামাল চৌধুরী, জহুর আহমদ চৌধুরী, বাদশা মিয়া চৌধুরী ও নুরুল আমিন চৌধুরীও কমিটির সদস্য পদে স্থান পেয়েছে।

মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ আলমগীর মোহাম্মদ মাহাফুল্লাহ ফরিদ ও কক্সবাজার সদর–রামু আসনের সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামানসহ অনেক নবীন প্রবীন নেতারা ক্মিটীতে স্থান পান নি।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক পদে স্থান পাওয়া ইফসুফ বদরী বলেন, ১৫২ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন হয়েছে। বর্তমান এই কমিটিতে ৭০ ভাগ নতুন মুখ রয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলা বিএনপিতে রয়েছে গ্রুপিং। সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও কক্সবাজার ৩ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের মধ্যে এই গ্রুপিং চলেই আসছে। একধরণের প্রকাশ্যে জেলা বিএনপির গ্রুপিং। এতে দলের ভিতরে তৈরি হয় ভয়াবহ কোন্দল।

এদিকে ঘোষিত কমিটি হাতে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার পৌঁছালেন নবগঠিত কক্সবাজার জেলা বিএনপির কমিটির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না।
বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করলেই উৎসুক দলীয় নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির এই দুই কান্ডারীকে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে শহীদ সরণিস্থ দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তবে এই শোভাযাত্রায় কাজল অনুসারী কোনো নেতাকর্মীদের দেখা মেলেনি। কমিটির অনুমোদনের পর থেকে দলীয় কার্যালয়ে দেখা মিলছে না কাজল অনুসারীদের। ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছে, সালাইউদ্দিন আহমদের ইন্ধনে কমিটি হয়েছে। তাই কাজল অনুসারীদের কৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে। কয়েকজন কাজল অনুসারীদের স্থান দিলেও মূল্যায়ন করা হয়নি। তারা বলছে– বতর্মান কমিটি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের অনুসারীরা খুবই উৎফুল্ল আর কাজলের অনুসারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কক্সবাজার ৩ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক কক্সবাজার ৩ আসনের সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল  বলেন– আমার অনেক সহযোদ্ধা সদস্য পদসহ অনেক পদে এসেছে। যারা কমিটিতে আসেনি হয়ত তারা আগামীতে আস্তে আস্তে কমিটিতে আসবে।

জেলা সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী পরিবারের আটজন স্থান পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল বলেন, শাহাজাহান চৌধুরীর পরিবার রাজনৈতিক পরিবার। সেই হিসেবে আসতেই পারে।

পূর্বকোণ‘র প্রতিবেদন। প্রতিবেদক, আরফাতুল মজিদ কক্সবাজার।

মতামত...