,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকের পদভারে মূখরিত

cox-bchআবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও হরতাল-অবরোধ না থাকায় পর্যটনের মূল মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বের র্দীঘতম সমুদ্র সৈকত পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা আগের তুলনাই অনেক বেড়েছে। বিজয় দিবস ও থার্টিফাস্ট নাইটকে উপলক্ষ্য করে চলতি মাসেই পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটক সমাগম হবে আশা প্রকাশ করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের উচ্ছ্বাস যেন নব উদ্যমে রাঙ্গিয়ে তুলেছে কক্সবাজারকে। এতে করে সমুদ্র সৈকত ছাড়াও জেলার পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকের পদভারে। দেশী-বিদেশী বিপুল পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে এখানকার পর্যটন শিল্প। ব্যবসায়ীরা বলছেন,বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে সব হোটেল-মোটেল ও গেষ্টহাউজের ৯০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। ছোট থেকে বড় কোন হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস-কটেজ কিংবা ফ্ল্যাটে তিল ধারণের জায়গা নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও হরতাল-অবরোধ না থাকায় কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হওয়ায় স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলছেন এখানকার ছোট-বড়-মাঝারি সকল স্থরের ব্যবসায়ীরা। কয়েক বছরের সকল ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার অপেক্ষায় পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল-গেষ্ট হাউস, বার্মিজ মার্কেট থেকে শুরু করে ডিম, আচার বিক্রেতাদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেনদেন হওয়ায় খুশিতে আত্মহারা সকল স্থরের ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের পেয়ে খুশির ভাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না বাস-মিনিবাস-রিক্সা-টমটম, সিএনজি থেকে শুরু করে পরিবহণ সেক্টরে বিনিয়োগকারীরাও। তাদের মতে সাগরকন্যা কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে আশানুতীত পর্যটকের আগমন হওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসান আর হতাশাকে কাটিয়ে নব উদ্যমে পুরোদমে পর্যটন ব্যবসা চালু হয়ে উঠায় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে ব্যাপক পর্যটক সমাগম হয়েছে বলে মনে করছেন এখানকার সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। বীচপার্ক মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন-বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল অবস্থার কারণে এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ব্যবসায়ীরা সুন্দর মতো ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। ফলে স্বস্থিতে দিন কাটাতে পারছে ব্যবসায়ীরা। শহরের বার্মিজ মার্কেটের পানের দোকানদার বাচ্ছু জানান-দীর্ঘদিন পর পর্যটকের মুখ দেখায় তার পানের দোকানে দৈনিক আগে যেখানে কয়েক’শ টাকা বিক্রি হতো সেখানে বর্তমানে কয়েক হাজার টাকার বিকিকিনি করতে পাচ্ছে সে। একই সুরে শহরের পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন খুরুস্কুলের রিক্সা চালক রহিম মিয়া বলেন-পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে রামুতে রিক্সা না চালিয়ে কক্সবাজার শহরে চলে এসেছি। এখন পর্যটকদের বহন করে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে দিনাদিপাত করছি। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন। ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পুরোদমে পর্যটক আসবে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবার বিপুল পর্যটকের সমাগম হয়েছে কক্সবাজারে। পর্যটকদের আগমনে অতীতের লোকসান পুষিয়ে এখন আমরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছি। পর্যটকদের আগমনে লাভের মুখে রয়েছে পরিবহণ সেক্টরও। কক্সবাজার ঝিনুক শিল্প বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি কাসিম আলী জানান-পর্যটকদের আগমনে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পের সাথে জড়িত পর্যটন নির্ভর কয়েক হাজার পরিবারের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে। শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়, দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পথভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলো। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীমাবদ্ধ না রেখে তা ছড়িয়ে পড়েছে ইনানী পাথুরে বীচ, হিমছড়ির অপরুপ ঝর্ণা, দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, দরিয়ানগর, রামুর নব-নির্মিত বৌদ্ধ বিহার, আদিনাথ মন্দিরের অপরুপ সৌন্দর্যের মাঝে।
এদিকে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকরা যাতে কোন ধরনের ছিনতাই কিংবা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানী, হিমছড়ি টেকনাফ সৈকত ও সেন্টমার্টিনে ট্যুরিষ্ট পুলিশের টহল দল নিয়োজিত থাকবে। সাথে সাথে সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে।’

মতামত...