,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কঠিন কাজে হাত দিচ্ছেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির

azm nasir14নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম:: বিলবোর্ড উচ্ছেদের চেয়েও বড় কাজে হাত দিতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। অন লাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলানিউজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র এ কথা জানান ।

কী সেই বড় কাজ ? জানতে চাইলে মেয়র বলেন, প্রভাবশালীরা চসিকের খাল, নালাসহ অনেক জমি দখল করে রেখেছেন সেগুলো উদ্ধার, ডোর টু ডোর গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ, নগরীর ফুটপাত দিনের বেলা হকারমুক্ত, বারইপাড়ায় নতুন খাল খনন, ২৫ তলা নগর ভবন নির্মাণ, আউটার স্টেডিয়ামকে আধুনিক খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলাসহ নগরবাসীর শতভাগ সেবা নিশ্চিত করে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা হবে। এক বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। আমার দায়িত্ব আমি শতভাগ নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্যে সব বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে প্রয়োজনীয় সব প্রকল্প-পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবো।

মেয়রের চলতি মেয়াদে নগরীতে বিলবোর্ড উঠবে না জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদে আমরা কাউকে ছাড় দিইনি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিলবোর্ডও নামিয়ে ফেলা হয়েছে। বিলবোর্ড নিয়ে আর কোনো নীতিমালা হবে না। আমরা নগরীর আইল্যান্ড, মিডল্যান্ড ইত্যাদি বিউটিফিকেশনের আওতায় নিয়ে আসবো। করপোরেট হাউস, ব্যাংক, বিমা, বিজ্ঞাপন ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে তাদের অর্থায়নে এ কাজটি হবে। কার সৌজন্যে, পৃষ্ঠপোষকতায় কাজটি হয়েছে সেটি ছোট আকারে দৃষ্টিনন্দনভাবে উল্লেখ থাকবে। যাতে দৃষ্টিকটু না ঠেকে। বিলবোর্ড উচ্ছেদে আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে একজন শ্রমিক মারা গেছে। তার পরিবারে যদি কর্মক্ষম কেউ থাকে তবে চসিকের চাকরি দেওয়া হবে নয়তো এককালীন অনুদান দেওয়া হবে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নগরী থেকে ডাস্টবিন তুলে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে চসিকের। উন্মুক্ত ডাস্টবিন থাকবে না। ডোর টু ডোর গৃহস্থালি বর্জ্য কালেকশন করতে চাই আমরা। বাসায় বাসায় গিয়ে যারা বর্জ্য সংগ্রহ করবে তাদের প্রণোদনা ভাতা দেওয়া হবে। একজন পরিচ্ছন্নকর্মী একটি বাসা থেকে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ মাসে ১০ টাকা পাবে। এখন কোনো কর্মী যদি ৫০০ বাসার বর্জ্য সংগ্রহ করে তবে তার বাড়তি আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার টাকা। ১০০ বাসার বর্জ্য সংগ্রহ করলে হবে ১ হাজার টাকা। অবশ্য বস্তি এলাকা ও নিম্নবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারগুলো থেকে টাকা নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট কাভার্ড ডাস্টবিনে বর্জ্য বা নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাকে ফেলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো পার্কে, জনসমাগম স্থলে আমরা বিন বসিয়ে দেবো। যেখানে বাদামের খোসা, কাগজ, টিস্যু ইত্যাদি ফেলা হবে।

ফুটপাত হকারমুক্ত করা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরীর ফুটপাতগুলো আমরা অবৈধ দখলমুক্ত করবো। ফুটপাতের একটি অংশে রং করে দেবো। যেখানে হকাররা ভ্রাম্যমাণ ট্রলিতে করে এসে বিকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করবে। কোনো হকারের স্থায়ী অবকাঠামো বা সরঞ্জাম থাকবে না। দিনের বেলা কেউ ফুটপাতে বসতে পারবে না। ইতিমধ্যে হকার সমিতির সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে আমার। আশাকরি, মার্চের শেষদিকে বা এপ্রিলে ফুটপাত দখলমুক্ত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হবে।

ব্যাটারি রিকশা অনুমোদনের চিন্তাভাবনা নেই জানিয়ে মেয়র বলেন, সাবেক মেয়র সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্যাডেল চালিত রিকশার লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন করে দেওয়ার। কিছু দিয়েছেন, কিছু দেননি। এর মধ্যে ব্যাটারি চালিত রিকশা নেমেছিল রাস্তায়। ওই রিকশা নিয়ে মামলা চলছে। বিচারাধীন বিষয়। তাই অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

খাল খননের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বর্ষায় পানি ধারণক্ষমতা ও দ্রুত পানি অপসারণের জন্যে খাল খনন করতেই হবে। একাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। সনাতন পদ্ধতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বেশি থাকে। অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) এ নিয়ে অভিযোগ গিয়েছিল। আমি টেন্ডারে চলে গেছি। খাল খননের আগে কী পরিমান বর্জ্য তুলতে হবে তা-পরিমাপ করতে সময় লেগেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও ৬০ দিন সময় লেগেছে। ইতিমধ্যে কার্যাদেশ দিয়ে দিয়েছি। ঠিকাদারদের মাইন্ডসেট হয়ে গেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবাই কাজ শুরু করবে। এখনো চার মাস কাজ করতে পারবে তারা। চাক্তাই খালের তলা পাকা করা হয়েছিল তাই তলা পর্যন্ত খনন করা হবে।

চাক্তাই খালের দু’পাড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বসে আমরা ঠিক করবো কবে থেকে উচ্ছেদ করা হবে। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে আরএস, বিএস জরিপ নিয়ে। কোনটি গ্রহণ করা হবে তা নিয়ে। এক্ষেত্রে যেটি যৌক্তিক, আইনসিদ্ধ সেটি অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খননের বিষয়টি জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ওই খালের প্রয়োজনীয়তা স্থানীয় লোকজনকে বোঝাতে চেষ্টা করছি। যাতে জমি অধিগ্রহণে বাধা হয়ে না দাঁড়ান কেউ। আমি বলছি, খালটি খনন করা হচ্ছে আপনাদের স্বার্থে। চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করার স্বার্থে। খালটি না হলে আপনারা কোমর পানিতে ডুবে থাকবেন। এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে জমি অধিগ্রহণের জন্যে একসঙ্গে ১৯৭ কোটি টাকা দরকার। ওই টাকা জেলা প্রশাসককে দিলে তবেই অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। আশাকরি, পেয়ে যাবো অধিগ্রহণের টাকা।

আউটার স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির বলেন, আউটার স্টেডিয়ামকে নতুন রূপে সাজানোর বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। এখন এটি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠ। আগে নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ছয়-সাত মাস আগে আমাদের অনুকূলে রায় এসেছে। চূড়ান্ত রায়ের কপি পেয়েছি আমরা। মেলা ও খেলা একই মাঠে চলতে পারে না। এটিও সত্য যে চট্টগ্রামে খেলার মাঠ খুব বেশি নেই। আমরা আউটার স্টেডিয়ামকে পরিকল্পিতভাবে শুধু খেলার জন্যে ব্যবহার করতে চাই। দু-এক দিনের মধ্যে কনসালট্যান্ট আসবেন। চসিকের প্ল্যানিং সেল ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আউটার স্টেডিয়াম এলাকাটি সুন্দরভাবে আন্তর্জাতিক মানের করে সাজানো হবে।

মেলা যেকোনো জায়গায় হতে পারে কিন্তু খেলার জন্য মানসম্পন্ন মাঠ দরকার। লালদীঘির মাঠটি মুসলিম হাইস্কুলের। নগরের অভিভাবক বলা হয় মেয়রকে। সেই অবস্থান থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার আইডিয়া শেয়ার করবো। সিদ্ধান্ত নেবে তারা। আমরা যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলার, শরীরচর্চার পরিবেশ দিতে না পারি তবে তাদের মানসিক বিকাশ হবে না। যোগ করেন সিজেকেএসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আ জ ম নাছির উদ্দীন।

নগর ভবন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, দৃষ্টিনন্দন ২৫ তলা নগর ভবন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এক-দেড় মাসের মধ্যে টেন্ডার হয়ে যাবে। আশাকরি, আমার মেয়াদেই নগর ভবন হয়ে যাবে।

আমি নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করবো, আমার কাজে সহযোগিতা করার জন্যে। সবার পরামর্শ শুনে, প্রস্তাবনা জেনে আমি সততার সঙ্গে, আইনের অনুকূলে থেকে জবাবদিহির মাধ্যমে কাজ করতে চাই। বলেন মেয়র। -বাংলানিউজ।

 

বি এন আর/১৬০২১৬/০০০৭০/পি

মতামত...