,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস ২২ শ্রাবণ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক,৬ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: অত্যন্ত কম বয়সে পর পর কয়েকটি মৃত্যুকে কাছে থেকে দেখার পর মাত্র এগারো বছর বয়সে বালক রবীন্দ্রনাথ মৃত্যু কে নিয়ে তাঁর অমর কাব্য ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি রচনা করেন । সেখানে ‘মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান ’ বলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন কবি। কিন্তু প্রকৃতি প্রেমিক, অত্যন্ত রোমান্টিক ও মানবতার এই কবি বিশ্ব প্রকৃতির বিচিত্র রূপ রস বর্ণ গন্ধ দেখে এতই বিমোহিত ছিলেন যে, এক পর্যায়ে তিনি বলে উঠেছিলেন ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।

আজ বাইশে শ্রাবণ। কবির প্রয়াণ দিবস। আশি বছর বয়সে এই দিনে কবি সত্যি সত্যি এই পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য্য, বিচিত্রসুধা, রূপ রস বর্ণ গন্ধ ছেড়ে পরপারে যাত্রা করেছিলেন। বর্ষা ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ঋতু। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিময় প্রকৃতি নিয়ে রোমান্টিকতা তার গান, কবিতা, নাটকে বার বার প্রভাব ফেলেছে। ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে, দুয়ার কাঁপে প্রাণে প্রাণে’ শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক। অথচ সেই শ্রাবণেই তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন পৃথিবী থেকে। তিনি মানবের সব অনুভূতিকে বারবার খুঁজে ফিরেছেন বর্ষার ফোঁটার মাঝে। সেই বর্ষাকেই সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমান দৃষ্টিসীমানার ওপারে।[কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির যে শ্যামল-সুন্দর আঙ্গিনায় জন্মেছিলেন তিনি, কেটেছে তাঁর শৈশববেলা। সেই অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে তিনি শেষ বিদায় নিয়েছিলেন। তার এই মহাপ্রস্থানে শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/ শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে ’

মানুষের মুক্তিই ছিল রবিঠাকুরের জীবনদর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য বিভিন্ন শাখার লেখনী মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, তার অন্বিষ্ট উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের মন-মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকেই আমরা পেয়েছি আমাদের জাতীয় সংগীত। রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালি তথা বাংলাদেশিদের যাপিত জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্গী, চিত্রশিল্গী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, ছোটগল্পকার ও ভাষাবিদ। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন দিক নেই যা নিয়ে তিনি লেখালেখি করেননি। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিত্রকর হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ ই বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য জন্ম-মৃত্যুর মাঝে তফাত দেখেছেন খুব সামান্যই। অবশ্য এ নিয়ে কবির মনে হয়তো খেদ ছিল না। কারণ তিনিই লিখেছিলেন, ‘জীবনে মৃত্যু করিয়া বহন প্রাণ পাই যেন মরণে, সন্ধ্যাবেলায় লভি গো কুলায় নিখিল শরণ চরণে।আশি বছরের জীবনসাধনায় তিনি তার জন্ম ও মৃত্যুকে একাকার করে তুলেছিলেন অজস্র অমরতার শাশ্বতবার্তায়। তাই তিনি জন্মদিন নিয়ে লিখেছিলেন ‘ওই মহামানব আসে/দিকে দিকে রোমাঞ্চ/মর্ত্যধূলি ঘাসে ঘাসে। সেই তিনি আবার জীবনসায়াহ্নে লিখেছিলেন ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক’ ।

মতামত...