,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কর্নেল (অব.) অলি বিএনপিতে ফিরছেন না

oli ahmadবিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ‘দেশে এখন কেউ ভালো নেই। সরকার অস্ত্রের জোরে দেশ চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। দুদক অভিযান করছে, তবে কালো টাকার কুমিরদের চিনছে না।’ দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে তার মতামত জানতে চাইলে এক আলাপচারিতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দেশের প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি সরকারের মন্ত্রী। ১৯৭১ সালে তিনি চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব দেয়। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন। দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। সেসময় বনিবনা না হওয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধরী বিকল্পধারা নামে আলাদা দল গঠন করেন। দেশের সমসাময়িক রাজনীতির ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে। দেশের রাজনীতির বিষয়ে কী ভাবছেন? এমন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি ভালো যাচ্ছে না। ভালো মানুষরা বিপদে আছে। আর খারাপ মানুষদের জয়জয়কার। যারা সরকারি সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, সেই টাকায় বিদেশে বাড়ি-গাড়ি এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে, তারাই ভালো আছে। দেশের দুর্নীতি দমনের একমাত্র সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি আজ বিশেষভাবে প্রভাবিত বলে মনে হচ্ছে। কারণ এ দুদক তাদের খোঁজে না, খোঁজে শুধু আমাদের। বাপ-দাদার সহায় সম্পতি মিলে সর্বসাকুল্যে দেড় কোটি টাকার মালিক আমি। আমাকে দুদুক নোটিস দেয়। আমাকে তলব করে। অথচ এবিআরে যারা সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছে। তাদের পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে গত ৯ বছরে সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সরকারের সুবিধাভোগী লোকেরা কত কত টাকার মালিক হয়েছে। এটাকে শাসন বলে না। চরম স্বেচ্ছাচারিতার এক নগ্ন দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছে বর্তমান সরকার। তাহলে কেমন করে বলা যায় যে দেশের মানুষ ভালো আছে? নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবনে কোনো অনৈতিক কাজ করিনি। এ কাজে প্রশ্রয় দিইনি। সৎভাবে থাকার চেষ্টা করেছি। আমৃত্যু সে চেষ্টা করে যাব। এটাই আমার স্বধীনতার শিক্ষা, নৈতিকতার শিক্ষা।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলের মধ্যে অন্যতম শরিক এলডিপি। প্রচার ছিল আপনারা বিশেষ করে বিকল্পধারাসহ সবাই বিএনপিতে ফিরে যাবেন। শেষ পর্যন্ত কেন হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিএনপিতে যাচ্ছি, এটা আপনারা সাংবাদিকরা বলেছেন। আমরা কখনো বলিনি। আর বিএনপিতে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা আমাদের ফোরামে হয়নি। এটা গুছব। কথা হচ্ছে আমরা বিশ দলে আছি, এ জোটে আমরা আমাদের সক্ষমতা দেখাতে চাই। আগাম নির্বাচন বিষয়ে আপনি জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, দেশে আগাম নির্বাচন হবে। কোন প্রেক্ষাপটে এমন কথা বলেছিলেন আপনি? এটা বলেছি আমরা আমাদের নিজেদের উপলব্ধি থেকে। সার্বিক বিবেচনায় এটা বলা যায়, সরকার আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আগাম নির্বাচন দেবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মেয়াদ শেষে নির্বাচন। এটা তাদের বলার কৌশল। এলডিপি মনে করে, দেশে আগাম নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে এই নেতা বলেন, কোনো সার্চ কমিটি বা অন্য কিছু করার আগে প্রয়োজন এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন। একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব। আমরা সেই রকম একটি আইন প্রণয়নে জন্য দাবি জানাচ্ছি।

সারা জীবন জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করলেও এখন তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, দেশের এখন বড় সঙ্কট গণতন্ত্রহীনতা। আগে, আগের কাজ করতে হবে। তারপর অন্য কিছু। জামায়াত নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐকমত্য বিষয়ে তিনি বলেন, এক ধরণের জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কথা হচ্ছে এক মঞ্চে হয়তো আসেনি। কিন্তু সরকারের বাহিরে সব দল একই ভাষায় কথা বলছে। এটা জাতীয় ঐকমত্যের পথে একধাপ অগ্রগতি। তাছাড়া নির্বাচন প্রশ্নে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে, জঙ্গিবাদের প্রশ্নে, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আজ সকলে ঐক্যবদ্ধ আছে। সরকারের স্বৈরাচারি মনোভাবের কারণে গণতান্ত্রিক রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে। তারা এখন সরকারী অস্ত্রের জোরে ক্ষমতায় আছে। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। বৈশ্বিক রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে এখন জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে ব্যাপক নানা উত্থান-পতন হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের সামরিক টানাপড়েন নিয়ে উপমহাদেশে রাজনীতির বিশাল মেরুকরণ হতে পারে। বাংলাদেশও সেই মেরুকরণের মধ্যে আছে। তাই এখন সরকারের উচিত জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া।

প্রতিদিনের সংবাদ’র প্রতিবেদন।

মতামত...