,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কাপ্তাইয়ে সাংগ্রাই জল উৎসবে মেতেছে হাজারো তরুন-তরুনী

sanghai girlকাপ্তাই সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের বর্ণিল সাংগ্রাই জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেছে শত শত মারমা তরুন-তরুনী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে উৎসব শুরুর পর ঐতিহ্যবাহী মারমা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাথে হাজার হাজার তরুন তরুনী জলকেলিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠে। বর্ণাঢ্য এই জলকেলি উৎসব দেখতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া ঢাকা চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখন কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে। মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এর উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষ্যে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ।

aঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিষকেষু চাকমা, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন, রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার সায়েদ তারেকুল হাসান। মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) সভাপতি ও সাবেক কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী অংশুছাইন চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখে চিৎমর সাংগ্রাই উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রকৌশলী থোয়াইচিং মারমা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল আলম, কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদ্বয় প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হ্লা থোয়াই মারমা।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান অতিথি কর্তৃক ফিতা কেটে এবং মারমা তরুন-তরুনীদের গায়ে পানি ছিটিয়ে জলকেলি উৎসবের উদ্বোধনের পর শত শত মারমা তরুন-তরুনী বর্ণিল ও আনন্দমুখর পানি খেলায় মেতে উঠে।

একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছর সুন্দর দিনের জন্য প্রার্থনা করে। মারমা ও বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়ের এই পানি খেলায় অংশ নেয় বিভিন্নস্থান থেকে আগত বাঙালী তরুন-তরুনীরাও। কাপ্তাই সাংগ্রাই উৎসব পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী উৎসব হিসেবে। এক সামিয়ানার নিচে পানি খেলা চলার সময় পৃথক মঞ্চে পরিবেশিত হয় উপজাতীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক সংগীত পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন উপজাতীয় ও বাঙালী শিল্পিরা। মঞ্চে পরিবেশিত হয় মারমা, চাকমা নৃত্য ও সংগীত। হাজার হাজার দর্শক নেচে গেয়ে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ ছাড়া মঞ্চের এক পাশে একটি দীর্ঘ তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠার প্রতিযোগিতা হাজার হাজার দর্শককে মুগ্ধ করে।

মাসস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অংশুছাইন চৌধুরী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি উপজাতীয় সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় নববর্ষ পালন করলেও লক্ষ্য একটা আর তা হলো পুরাতন বর্ষের সকল গ্লানী মুছে ফেলা এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া। বর্ণীল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সাংগ্রাই উৎসব উদ্যাপনের জন্য কাপ্তাইয়ের উপজাতীয় পল্লীগুলোতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়।

মতামত...